ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা, দপ্তরির বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ । ১১:৪৩ এএম

ফরিদপুরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাজী রফিক চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

সোহেল রানা অভিযোগে উল্লেখ করেন, কাজী রফিক নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ওই সময় কাজী রফিক দাবি করেন যে, সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, যিনি তখন আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন, তার মাধ্যমে স্কুলে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়া সম্ভব। এ আশ্বাসে তিনি জামানত হিসেবে নগদ ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।

শুধু সোহেল রানা নন, আরও কয়েকজন ব্যক্তি একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাষানচর এলাকার আঃ মতিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মর্জিনা নামের এক নারীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং বাখুন্ডা গ্রামের সাব্বির হোসেনের কাছ থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কাজী রফিক রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন স্থানে নিজের নামে-বেনামে জমি ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে আরও প্রতারণার ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এদিকে সালাউদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী কাজী রফিকের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জর্জ কোর্টে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাজী রফিক। তিনি বলেন, “যারা অভিযোগ করেছেন তাদের আমি চিনি না। তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

অন্যদিকে আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর শেখ জানান, কাজী রফিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত। তবে তার বিরুদ্ধে এমন কোনো লেনদেন বা অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত নয়।

এব্যাপারে ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে এইমাত্র জানলাম। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে বিষয়টি। যদি এর সত্যতা পাওয়া যায় তবে বিধি অনুসারে ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন