‘লীলাবতী’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ । ৭:৪০ পিএম

নিঃসঙ্গ সিন্ধুর তীরে, ক্লান্ত গোধূলির ম্লান ক্ষণে—
বসেছিলেম একা আমি, সমুদ্রের নোনা আলাপনে।
দিগন্তের রক্তিম মেঘে তখন মায়ারই চরাচর,
সহসা সে এলো—মর্ত্যে নামা কোনো স্বর্গের অলকান্দা কিঙ্কর?

তার অঙ্গে নীলিমার নীল, নীল শাড়ির ভাঁজে সমুদ্রের ঢেউ,
নীল চুড়ির রিনঝিন শব্দে—পৃথিবীতে ছিল না আর কেউ।
কপালে এক ফোঁটা নীল টিপ, যেন স্তব্ধ কোনো গগন-তিলক,
তার আসাতে থমকে গেল মহাকালের প্রতিটি পলক।

তার রূপের বিভায় নামে অকাল নিশীথের জোছনা-স্নান,
যেন পূর্ণিমা হাসছে তার ওষ্ঠে, ঝরছে স্নিগ্ধতার অমৃত-গান।
তার তীক্ষ্ণ চাওনি—ঠিক যেন অব্যর্থ কোনো মায়াবী শর,
বিঁধে গেল হৃদপিণ্ডের গহীনে, এক নিমেষেই আমি হলেম পর।

মেঘকালো একরাশ চুলে ছিল কোনো অচিন নেশার ঘোর,
হঠাৎ এলোমেলো হাওয়ায় তা ছুঁয়ে দিল আমার তৃষ্ণার্ত ললাটপটোর।
সেই স্পর্শে ছিল বিস্মৃতি, সেই গন্ধে ছিল এক অলৌকিক মায়া,
চোখ খুলতেই দেখি, মিলিয়ে গেছে সেই নীলাম্বরী ছায়া।

সেই যে এলো লীলাবতী, আর ফেরেনি এই ধূ ধূ বালুকাবেলায়,
আজও আমি অপেক্ষার প্রহর বুনি স্মৃতির নিভৃত অবহেলায়।
নির্জন বেলাভূমিতে আজও কান পাতি-যদি ফিরে আসে সেই সুর,
আমার লীলাবতী কি তবে মায়া? নাকি কোনো দূর নক্ষত্রপুর?

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বরগুনা সরকারি কলেজ।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন