‘টাকা না দিলে কাজ হয় না’—বোয়ালমারীতে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬ । ৯:২২ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ইমামদের সাথে দূর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ও তাদের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বোয়ালমারী উপজেলা ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নাজ ক্যাবল অপারেটরের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ খানের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ঈদ উপলক্ষে পৌরসভা কর্তৃক প্রতিবছর ইমামদের সম্মানে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদানে বিভিন্ন টালবাহানা ও গড়িমশিসহ ইমামদের সাথে দুর্ব্যবহার করায় তাদের অপসারণ দাবি করেন বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি ও বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের (বাইতুল হামদ) পেশ-ইমাম মাওলানা হোসাইন আহমাদ।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারীর পৌরসভা থেকে পৌর মেয়র মহোদয়গণ পৌর সভার মধ্যের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপলক্ষে একটি আর্থিক অনুদান দিয়ে এসেছেন। অর্থটা যৎসামান্য হলেও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানিত করায় আমরা গর্ববোধ করেছি। বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান আগের ধারাটা বজায় রাখলেও পৌর সচিব মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান অর্থ ছাড় দিতে নানা টালবাহানার আশ্রয় নেন। এমন কী ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্থ ছাড় যাতে না হয় সে বিষয়ে দেখে নিবেন বলেও হুমকি দেন। সংবাদ সম্মেলনে এসময় সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবি তোলেন উপস্থিত ইমামগণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উপদেষ্টা, সাবেক কাউন্সিলর আঃ সামদ খান, তিনি সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মশা নিধন ওষুধ ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম তুলে ধরে বলেন ৬ লাখ টাকার মশক নিধন ওষুধ ক্রয় করে তার বিল করেছে ১৩ লাখ টাকা। পৌরসভার যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১% উৎকোচ না দিলে ফাইল নড়ে না। মেয়র, কাউন্সিলর না থাকায় তারা নিজেকে পৌরসভার সর্বেসর্বা ভাবেন, কোনো মানুষকে সম্মান দেন না,এমন কী ইমামদের বরাদ্দের টাকা থেকেও কৌশলে একটা অংশ কেটে রাখার চেষ্টা করছিলেন তারা। সাবেক এ কাউন্সিলার ঈদের পর এ সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারী দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ কামারগ্রাম পুরাতন জামে মসজিদের ইমাম মাও. মাহবুবুল হক, দারুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব হা. মাও.রুহুল আমীন,কামারগ্রাম বায়তুল মোয়াজ্জেম জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আ. আহাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড জামে মসজিদের (ওয়াপদা) ইমাম ও খতীব মুফতী আবুল হাসান, বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাও. মুফতী তৈয়বুর রহমান। এ সম্মেলনে পৌরসভার সকল মসজিদের ৫০/৬০ জন ইমাম উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। এসবের দ্বায়িত্ব আমার নয়। আমার দ্বায়িত্ব রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন মূলক কাজকর্ম ও ঠিকাদারদের দেখা।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন