খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে তিন গুণীজন পেলেন হুমায়ূন কবির সাহিত্য পুরস্কার

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:২৫ পিএম
ফরিদপুরে তিন গুণীজন পেলেন হুমায়ূন কবির সাহিত্য পুরস্কার

কীর্তিমান কথাসাহিত্যিক, কবি, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের (১৯০৬-১৯৬৯) নামে তাঁর জন্মস্থান ফরিদপুরে এই প্রথম একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়েছে। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চলতি বছর থেকে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। এ বছর তিনজন গুণীকে ‘হুমায়ূন কবির সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ নামে এ পুরস্কার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তিনজন হলেন ইতিহাস গবেষণায় মোহাম্মদ আলী খান, কথাসাহিত্যে তাপস কুমার দত্ত এবং সাংবাদিকতায় সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম।

 

শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক জালাল আহমেদ। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল আহসান মোল্লা ও পুলিশ সুপার আবদুল জলিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জালাল আহমেদ হুমায়ূন কবিরের বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন কবির ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, ইতিহাস ও অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন, যা উপমহাদেশে প্রথম ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন।

দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাঙালির ঐতিহ্যের ইতিহাসকে যাঁরা সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের আমরা জনসমক্ষে, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখি না। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ যেটি করেছে, সেই ধারাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। বাংলাদেশ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। কাজেই আমাদের যার যতটুকু শক্তি আছে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকব।’

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজনকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ তথ্যচিত্র তিনটি নির্মাণ করেছেন কথাসাহিত্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত তাপস কুমার দত্ত। পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন গুণী তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। পুরস্কার পেয়ে সাংবাদিক সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম বলেন, ‘নিজের শহর থেকে পুরস্কার পেয়ে আনন্দিত। অন্যান্য পুরস্কারের তুলনায় এতগুলো স্বজনের মধ্যে পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য সারা জীবনের গর্ব।’

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ এ বছর প্রথম কবি হুমায়ূন কবির সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করল। আমরা চাইছি এ পুরস্কার প্রতিবছর দিতে। প্রথমবার বলে এবারের আয়োজনে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। এবারের আয়োজনের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বছর থেকে সমগ্র উদ্যোগকে ঢেলে সাজানো হবে।’

 

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।