খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে লোক দেখানো নিয়োগ সম্পন্নের অভিযোগ!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম
ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে লোক দেখানো নিয়োগ সম্পন্নের অভিযোগ!

Faridpur Protidin

দেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (নগই) ফরিদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদে লোকবল নিয়োগে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
লোক দেখানো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও নদী গবেষণার মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে বলে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি আজ বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন।
ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (নগই) সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের প্রথমদিকে চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারী নিয়োগে কোঠা সংস্কার হলে ওই বছরের ৩০ জুলাই ওইসব পদে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ভান্ডার রক্ষক, অডিট সহকারী, কংক্রিট টেকনেশিয়ান, টেলিফোন অপারেটর, মেকানিক, কাঠমিস্ত্রি, ডার্করুম সহকারী, গবেষণাগার বেয়ারার, অফিস সহায়ক পদে একজন করে এবং পাম্প চালক পদে দুইজন উল্লেখ করা হয়। সকল পদে সারাদেশ থেকে ২ হাজারের অধিক প্রার্থী আবেদন করেন। নিয়োগ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের গত ১৮ জানুয়ারি ৭০ মার্কের লিখিত ও প্রিলি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পাম্প চালক পদে ১০ জন, গবেষণাগার বেয়ারার পদে ৬ জন, ডার্করুম সহকারী পদে ৪ জন, কাঠমিস্ত্রি পদে ১ জন এবং বাকি পদে ৫ জন করে মোট ৫১ জনকে সুপারিশকৃত প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত ২১ জানুয়ারি ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫১ জনকে ডাকা হয় এবং তাঁদের সকাল ১০টায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ওইদিনই উপপরিচালক মো. আবুল এহছান মিয়া স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সকল পদে আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে একটি সিন্ডিকেট এবং গোপনে পরীক্ষার পূর্বে নিয়োগ পাওয়াদের প্রশ্নপত্রসহ উত্তর জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এতেই লোক দেখানো নিয়োগে তাঁদেরকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ। এছাড়া পূর্বেই প্রশ্নপত্রসহ উত্তর জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান।
অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আটচর নওপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিম লিংকন, ফরিদপুর জেলার রহিজ আহমেদ, রাজবাড়ীর মৃত্যুঞ্জয় এবং বরিশালের অনুপ হালদার। তারা প্রত্যেকেই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অফিস সহায়ক পদে সীমা মালো, পাম্প চালক পদে হামিদুর রহমান নবী, টেলিফোন অপারেটর পদে বন্যা বিশ্বাসের সাথে ওই দপ্তরের ও ব্ইারের একাধিক ব্যক্তি তাঁদের ডেকে নিয়ে গোপনে কথা বলা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় সকাল ১০টায় উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১২ টায় সীমা মালো উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার সাথে অপরিচিত একাধিক ব্যক্তি বারবার যোগাযোগ করেন। এছাড়া অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী সীমাকে বারবার বাইরে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়, যা অন্যান্য প্রার্থীদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
জানা যায়, সীমা মালোর স্বামী সম্রাট সরকার গত ৬ বছর যাবত একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্টে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে আসছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় কম মার্ক পেলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত করা হয় বলে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতিও জানান (রেকর্ড সংরক্ষিত)।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে যা প্রার্থীর নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে মৌখিক পরীক্ষার প্রত্যেক প্রার্থীর সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা রাখা হয়। কিন্ত উক্ত মৌখিক পরীক্ষায় কোনো সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা রাখা হয়নি। কৌশলে পাম্পচালক পদের প্রার্থী হামিদুল ইসলাম নবী সত্যায়িত ছায়ালিপি ভবনে ফেলে রেখে যায়। তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রার্থীর সাথে এক ব্যক্তি এসে কৌশলে কাগজপত্র গ্রহণ করেন এবং ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সাথে দেখা যায়।
এছাড়া টেলিফোন অপারেটর পদে সুপারিশকৃত প্রার্থী বন্যা বিশ্বাস মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর থেকে সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে অপরিচিত একাধিক ব্যক্তির কথাবার্তা করতে দেখা যায়। যার প্রতিটি দৃশ্য ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বেরিয়ে আসবে বলে প্রার্থীরা জানান।
বঞ্চিত প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলার ইব্রাহিম লিংকন বলেন, আমি ময়মনসিংহ জেলা থেকে ফরিদপুরে ছুটে গিয়েছিলাম অনেক আশা নিয়ে। আমার মতো অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে এখানে। কিন্তু এই নিয়োগ ছিল সম্পন্ন সাজানো নাটক, আমাদের ধোকা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তা জানান, এই নিয়োগের অবৈধ লেনদেনের কলকাঠি নেড়েছেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পিন্টু কানুনগোয়। যারা টাকা দিয়েছেন, তাঁদের চাকরি হয়েছে। সীমাকে উনি নিজে পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আজ বুধবার বিকেলে নদী গবেষণার পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পিন্টু কানুনগোয় বলেন, সম্পন্ন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। লিখিত পরীক্ষার একঘন্টা পূর্বে প্রশ্নপত্র ছাপা হয়েছে। যা কোনোভাবেই প্রার্থীদের দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, একটি পদের বিপরীতে ৫জন করে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। নিয়োগে যারা বাদ পড়েছেন, তারা এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নগই) মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) এস এম আবু হোরায়রা বলেন, অভিযোগকারীরা জিআরএসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে জানানো হলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পিন্টু কানুনগোয়। তাঁর সাথে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক পোদ্দার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সিনিয়র সহকারি সচিব মো. মাসুম রেজা, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. হাশমত আলী খান ও প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক মো. আবুল এহছান মিঞা।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”