খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

‘এ.কে আজাদের গাড়ীবহরের হামলায় যুবদলের কোনো নেতাকর্মী যুক্ত নয়, দাবি যুবদলের’

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪৫ পিএম
‘এ.কে আজাদের গাড়ীবহরের হামলায় যুবদলের কোনো নেতাকর্মী যুক্ত নয়, দাবি যুবদলের’

oppo_0

ফরিদপুর জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন- ‘গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর বাজারে শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচনের স্বতন্ত্র এমপি এ.কে আজাদের গাড়ি বহরে হামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্য-প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ জনমনে ছাড়াও দলের নেতাকর্মী ও সমর্থনের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে যুবদলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াসের একটি অংশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ফরিদপুর জেলা যুবদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো নেতাকর্মী যুক্ত নয় বলে দাবি করা হয়।’

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর জেলা যুবদলের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‌সেখানে জেলা যুবদল এ দাবি করেন।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের ‌মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে ‌এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ‌মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত রবিবার সদর উপজেলার পরনন্দপূর বাজারে যুবদলের নেতৃত্বে এ.কে আজাদের গাড়ি বহরে হামলার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, ওইদিনের ঘটনা সাথে ফরিদপুর জেলা যুবদলের কোন নেতাকর্মী বা কোন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের সংশ্লিষ্টতা নেই, তারা কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলেন না। যা ওইদিনের ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজেই পরিষ্কার রেকর্ড রয়েছে। বরং সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ.কে আজাদ যুবদলকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেই বক্তব্য দেন, সেই মিথ্যা ভিত্তিহীন বক্তব্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই কয়েকটি মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হওয়ায় এই বিভ্রান্তির অবতারণা হয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, ওই ঘটনায় জেলা যুবদলের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই, যুবদলের কোন নেতৃবৃন্দের কোন উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতা সেখানে ছিলোনা। ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে যুবদলের সংগঠনিক কমিটি বিদ্যমান নেই।”

লিখিত বক্তব্যে আর বলেন, ‘বাস্তবতা হলো- জনরোষের শিকার হয়ে ওইদিন এ.কে আজাদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে ওই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কারণ এ.কে আজাদের গাড়িবহরের সাথে নিষিদ্ধঘোষিত পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মামলার আসামীদের দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তখন তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকলে পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ওইদিন ঘটনাস্থলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কোন লিফলেট বিতরণ বা অন্য কোন কর্মসূচিও ছিলোনা।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সবসময় উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তারা সব ধরনের মত ও পথের অবাধ বিচরণে বিশ্বাসী। বিএনপি সবসময় জনগণের শক্তিতে বলিয়ান একটি রাজনৈতিক দল। জনগণই তাদের ক্ষমতার একমাত্র উৎস। নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান আইন মেনে যে বা যারাই মাঠ পর্যায়ে তাদের তৎপরতা চালাবে, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে তাদের কর্মকান্ডকে তারা স্বাগত জানায় এবং শ্রদ্ধাশীল। কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি প্রতিহিংসাবশত কোন তৎপরতায় তারা বিশ্বাসী নয় কিংবা কখনো সমর্থনও করেনা। এমতাবস্থায়, তারা ফরিদপুরের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার নিরসনে এবং আগামীর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ট ও নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।’

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলালের সভাপতিত্বে এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালের সঞ্চালনায় ‌এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ‌মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বক্তব্য রাখেন- জেলা যুবদলের সভাপতি মো. ‌রাজিব হোসেন।

এ সময় ফরিদপুর মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম ইউসুফ,‌ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ‌আলী রেজাওয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ‌জাহিদুর রহমান, যুবদল নেতা ‌হেমায়েত হোসেন হেলাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক‌ মো. নাসির খান, কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস মোল্লা, মৎস্য ও প্রাণী বিষয়ক সম্পাদক‌‌ গালিব ইবনে হান্নান‌‌ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে যুবদলের পক্ষ থেকে ‌ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে ‌জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ‌সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন- ‌মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম ইউসুফসহ ( ভিপি ইউসুফ) যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।