ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিচে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা):
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১০,৫৪০ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।
প্রার্থীদের ফলাফল:
– মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক — ১,৫৪,১৪৫ ভোট (বিজয়ী)
– খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৬,৪৭৬ ভোট
– মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৩৪,৩৮৭ ভোট
– মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) — মোটরসাইকেল — ২,১৫৯ ভোট
– মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) — রকেট — ৭৮৬ ভোট
– সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫০৬ ভোট
– মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ৪৫৫ ভোট
– শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) — উট — ৮৪ ভোট
এ আসনে মূল লড়াই হয় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান ইলিয়াস মোল্লা।
🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা):
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,০৪১ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু জয়লাভ করেন।
প্রার্থীদের ফলাফল:
– শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২১,৬৯৪ ভোট (বিজয়ী)
– মাওলানা মো. আকরাম আলী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ৮৯,৩০৫ ভোট
– শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ২,৩৬৮ ভোট
– ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) — ট্রাক — ৬৭৫ ভোট
-আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) — আপেল — ৬১৭ ভোট
– মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) — ডাব — ২৫৭ ভোট
ধানের শীষ ও রিক্সা প্রতীকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):
এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩২,৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
প্রার্থীদের ফলাফল:
– চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,৪৮,৫৪৫ ভোট (বিজয়ী)
– মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ১,২৪,১১৫ ভোট
– কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ৪,০২২ ভোট
– মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ১,২৫৩ ভোট
– মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৯৫৭ ভোট
– আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) — তারা — ২৫১ ভোট
এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা):
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৬,৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
প্রার্থীদের ফলাফল:
– মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৭,৪৪৩ ভোট (বিজয়ী)
– মো. সরোয়ার হোসাইন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ৭৫,৮০৫ ভোট
– এ.এম. মুজাহিদ বেগ (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৫৬,১৬০ ভোট
– মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ১১,৪৯৮ ভোট
– মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) — ঘোড়া — ১,৭০৪ ভোট
– মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ১,১১৮ ভোট
– আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৭১৪ ভোট
– মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫৫০ ভোট
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বড় ব্যবধানে জয় পায়। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।
সার্বিক চিত্র:
ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে। মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয়েছে।
চার আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং ফরিদপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।
নির্বাচনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয়ীরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিল—ভোটারদের রায়ে এবার বদলে গেছে কয়েকটি আসনের চিত্র, আবার কিছু আসনে আগের প্রভাবও বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন
Array