খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিচে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১০,৫৪০ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক — ১,৫৪,১৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৬,৪৭৬ ভোট

– মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৩৪,৩৮৭ ভোট

– মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) — মোটরসাইকেল — ২,১৫৯ ভোট

– মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) — রকেট — ৭৮৬ ভোট

– সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫০৬ ভোট

– মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ৪৫৫ ভোট

– শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) — উট — ৮৪ ভোট

এ আসনে মূল লড়াই হয় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান ইলিয়াস মোল্লা।

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,০৪১ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু জয়লাভ করেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২১,৬৯৪ ভোট (বিজয়ী)

– মাওলানা মো. আকরাম আলী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ৮৯,৩০৫ ভোট

– শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ২,৩৬৮ ভোট

– ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) — ট্রাক — ৬৭৫ ভোট

-আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) — আপেল — ৬১৭ ভোট

– মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) — ডাব — ২৫৭ ভোট

ধানের শীষ ও রিক্সা প্রতীকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩২,৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,৪৮,৫৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ১,২৪,১১৫ ভোট

– কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ৪,০২২ ভোট

– মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ১,২৫৩ ভোট

– মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৯৫৭ ভোট

– আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) — তারা — ২৫১ ভোট

এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৬,৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৭,৪৪৩ ভোট (বিজয়ী)

– মো. সরোয়ার হোসাইন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ৭৫,৮০৫ ভোট

– এ.এম. মুজাহিদ বেগ (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৫৬,১৬০ ভোট

– মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ১১,৪৯৮ ভোট

– মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) — ঘোড়া — ১,৭০৪ ভোট

– মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ১,১১৮ ভোট

– আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৭১৪ ভোট

– মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫৫০ ভোট

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বড় ব্যবধানে জয় পায়। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে। মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয়েছে।

চার আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং ফরিদপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয়ীরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিল—ভোটারদের রায়ে এবার বদলে গেছে কয়েকটি আসনের চিত্র, আবার কিছু আসনে আগের প্রভাবও বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

“আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
“আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি” : শামা ওবায়েদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে শামা ওবায়েদ লিখেছেন, “প্রিয় নগরকান্দা ও সালথাবাসী, আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও দোয়ার ফলেই আমি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছি। এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়—এটি নগরকান্দা ও সালথার প্রতিটি মানুষের বিজয়।”

তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ-তরুণী, মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের যে বিশ্বাস ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা রক্ষা করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। “এই বিজয় উল্লাসের নয়, এটি দায়িত্বের”—এমন মন্তব্য করে তিনি আরও লেখেন, আজ থেকে তাঁর দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে গেল।

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য জানান, দলমত নির্বিশেষে এলাকার প্রতিটি মানুষ তাঁর আপনজন। তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় তিনি নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, সমর্থক এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রাজনীতিতে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আসুন, আমরা বিভাজন নয়—ঐক্যের রাজনীতি করি। ভয় নয়, বিশ্বাসের রাজনীতি করি। ক্ষমতার নয়, মানুষের রাজনীতি করি।” তিনি জানান, নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে ১১৭টি কেন্দ্রের সবগুলোর গণনা শেষ হয় রাত প্রায় ১১টার দিকে। প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ফলে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন শামা ওবায়েদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক তৎপরতা, দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সংযোগ এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই এ আসনে তাঁর বড় ব্যবধানের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নতুন এমপির কাছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের প্রত্যাশা করছেন তারা।

সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মসজিদের ভেতরে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের ভেতরে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন অপর পক্ষের নেতা আছাদ মাতুব্বরের অনুসারী রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা। এ নিয়ে নামাজ চলাকালীনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নামাজ শেষে উভয়পক্ষের সমর্থকরা মসজিদের সামনে জড়ো হলে তর্কাতর্কি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রবিউল তালুকদারের সমর্থকরা কুদ্দুস তালুকদারের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আহত হন অন্তত ১০ জন।

এব্যাপারে রবিউল তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে রবিউলের চাচাতে ভাই সেকেন্দার হোসেন বলেন, রবিউল সহ আমরা ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার তার দল ভারি করতে তার গ্রুপে আমাদের নেওয়ার জন্য আমাদের একজন লোকের উপর শুক্রবার সকালে হামলা করেন। স্থানীয় আধিপত্য ও নিজের দলে লোকজন ভিড়ানোর জন্য আমাদের বলা হচ্ছে রিকশায় ভোট দিয়েছি। এগুলো ভিত্তিহীন। আমরা এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এজেন্ট ছিলাম।

অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, রবিউলরা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর ও ইশারতের লোক। রবিউলরা আ.লীগ করেন। তারা, আছাদের সাথে মিশে আমাদের ভোট কেন্দ্রে বিএনপিকে হারাতে রিকশায় ভোট দেন। যাতে আমাকে দলের কাছে ভিন্নভাবে দেখানো যায়। কারণ, আছাদ সামনে উপজেলা পরিষদের বিএনপির হয়ে নির্বাচন করবেন। এটা তাদের কৌশল।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. ওয়াদুদ তালুকদার (৫০), টিটুল তালুকদার (৩০), মুসা কাজী (৫০), রয়েল কাজী (৩০), সোহরাব তালুকদার (৪৫), শরিফুল ইসলাম (১৬), ফরিদ তালুকদার (২২)সহ আরও কয়েকজন। টিটুল তালুকদারকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কুদ্দুস তালুকদার। আহতরা তার সমর্থক বলে দাবি তার। ওয়াদুদ তালুকদারের বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তিনি সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে আছাদ মাতুব্বর দাবি করেছেন, তার অনুসারী রবিউল তালুকদারের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তিনি আহতের সংখ্যা জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, “রবিউলের লোকজনের ওপর আগে হামলা করা হয়েছে। এখন বিষয়টি আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কুদ্দুস তালুকদারের লোকজন প্রকাশ্যে রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। রবিউলের চাচাতো ভাই এনায়েত বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। তারা সবাই বিএনপি করেন এবং বিএনপিতে ভোট দিয়েছেন। বরং সিদ্দিক তালুকদার ও কুদ্দুস তালুকদারের অনেক লোকজন রিকশায় ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে কুদ্দুস তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রবিউল সহ যারা বিএনপির পক্ষে প্রচার করেছে, তারাই রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।”

সালথা সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, সহিংসতার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

এব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, ছোট-খাট কোনো বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সালথা উপজেলা ফরিদপুর-২ আসনের অন্তর্গত। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, কে পাচ্ছেন কোন দায়িত্ব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, কে পাচ্ছেন কোন দায়িত্ব?

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন করা হবে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ৪৫টি গাড়ি প্রস্তুত করেছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা—কারা স্থান পাবেন তার মন্ত্রিসভায়, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সচিবালয়, অফিস-আদালত, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, এমনকি চায়ের দোকানেও চলছে এ নিয়ে আলোচনা। মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী টেকনোকেট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নামও আলোচনায় রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

জোট থেকে মন্ত্রী কে?

বিএনপির শরিক জোট থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল,ও ব্যারিস্টার মীর হেলালকে।

স্পিকার পদেও আলোচনা

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মুলাদী-বাবুগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

সূত্র : এশিয়া পোস্ট