ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর অবৈধভাবে তিনতলা নির্মাণের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনার পরও কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতয়ালী থানার উত্তর পাশে অবস্থিত মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণাধীন স্থাপনার ভিত্তি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।
এর আগে একই দিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তলা তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
মার্কেটের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও জায়গা ভাগাভাগির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
আইনজীবী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, এখন লিখিত নির্দেশনাও উপেক্ষিত হলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পৌরসভার চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—লিখিত নির্দেশনার পরও যদি কাজ বন্ধ না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগ কোথায়? তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ । ৬:২৪ পিএম