খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই পুরনো ভবনে উঠছে অবৈধ তিনতলা, আতঙ্কে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই পুরনো ভবনে উঠছে অবৈধ তিনতলা, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ত কাঠপট্টি এলাকায় পৌরসভার মৌখিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনের ওপর তৃতীয় তলার বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দেয়। নির্দেশনার পর কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও দুপুরের দিকে আবারও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা পুনরায় কাজ শুরু করে এবং তিনতলার দেয়ালের ওপর টিনশেড দিয়ে চাল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির সুযোগে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকার আধুনিক প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই প্রথমে একতলা, পরে দোতলা এবং বর্তমানে তিনতলা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এদিকে, নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, সকালে পৌরসভার লোকজন এসে কাজ বন্ধ করতে বললে তারা কাজ বন্ধ রাখেন। তবে পরে দোকান মালিকদের নির্দেশে আবার কাজ শুরু করেন তারা। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মার্কেট নির্মাণের পেছনে দীর্ঘদিনের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে রাতারাতি কিছু অবৈধ দোকান নির্মাণের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটের জায়গা ভাগবাটোয়ারা করা হয় এবং বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এসব পজিশন বরাদ্দ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে পৌরসভার বিভিন্ন মেয়াদের সময় দোতলা ও তিনতলার অংশবিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সর্বশেষ কিছুদিন আগে তিনতলার নতুন করে পজিশন বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত হয়। তবে সম্প্রতি আবারও সেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

মার্কেটের দোতলায় চেম্বার থাকা অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, “এই ধরনের অনুমোদনহীন ও দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মাণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার অফিস এই মার্কেটের সামনে। প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করি। যদি ভবন ধসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় পৌর কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।”

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মেহেরুণ নেসা স্বপ্না বলেন, “এটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী এবং বেআইনি কাজ। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সচিব মো. তানজিলুর রহমান জানান, “রোববার সকালে আমরা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। তারা দ্রুত তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আজিজুর রহমান মোল্যা (৬৫) নামে এক বাগান মালিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুল মোল্যা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মান্নান মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজিজুল মোল্যার লিচুর বাগান থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সীর দুই ছেলে সাকিল মুন্সী ও তুষার মুন্সী লিচু পেড়ে খায়। বিষয়টি দেখে আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা তাদের বাধা দেন।

এর জেরে বিকেলে ফুলবাড়িয়া বাজারে গেলে আকরাম মোল্যার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বাজারে যান আজিজুল মোল্যা। সেখানে তিনি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাকিল ও তুষার মুন্সীসহ কয়েকজন তাকে বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানান, লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ছলেমান বিশ্বাস (৫৫) নামে এক কৃষকের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার ঘটনায় তারই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার মা-মেয়েকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি আমির আলী বিশ্বাসের স্ত্রী প্রেমা বেগম (৪২) ও মেয়ে শম্পা আক্তার (২২)।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে বড় ভাই ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন ছোট ভাই আমির আলী বিশ্বাস। এ ঘটনায় কব্জি হারানো ছলেমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৪৮) বাদী হয়ে আমিরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আমিরের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত- বাবার সম্পত্তি (জমিজমা) ভাগাভাগি নিয়ে নগরকান্দার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা গ্রামের মৃত তোতা বিশ্বাসের বড় ছেলে ছলেমান বিশ্বাসের সঙ্গে ছোট ছেলে আমির আলী বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির আলী ধারালো দা দিয়ে তার বড় ভাই ছলেমানের ওপর হামলা চালায়। এতে ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাবিবুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের আরিফুল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া মধুমতী নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমানের নির্দেশনায় পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আদালত পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে বুধবার (১৩ মে) তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।