খুঁজুন
, ,

‘আ.লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল চায় ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
‘আ.লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল চায় ছাত্রদল

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। এ সময় অধ্যক্ষের যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ও শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগও উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপসচিব দূর-রে-শাহওয়াজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ১৬ আগস্টের মধ্যে যোগদানের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম অধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে কলেজে যান। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবিরের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ফরিদপুর জেলা শাখার কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ দাবির পক্ষে তাঁরা একটি তালিকাও প্রদর্শন করেন। অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর, স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।

এ সময় অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতির খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশ সদস্যরা কলেজে উপস্থিত হন।

পরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পক্ষের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান এবং পরে কার্যালয়ের সামনে ব্যানার নিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বক্তব্য দেন।

ছাত্রদল নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কোনো শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবির বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের দীর্ঘ সময় পরও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বাচিপের সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গত ২৬ জুলাই তাঁকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক করা হলেও দুই দিনের মধ্যে সেই কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর কীভাবে তাঁকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা দ্রুত এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে।”

এ সময় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইয়ামিন রেজা বর্ণ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী ও ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. শাওন এবং বর্তমান শিক্ষার্থী সাফায়েত শিমুল বক্তব্য দেন।

তাঁরা বলেন, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করে এমন একজন শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের প্রতি আস্থাশীল।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের আনা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম।

তিনি বলেন, “আমার যোগদান সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি এবং কেউ আমাকে যোগদানে বাধা দেয়নি।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি যেন তাঁর মান-সম্মান রক্ষা করতে পারি এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কাজ করতে পারি—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, অধ্যক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে ছাত্রদলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

কারও জন্য ভোরের সময়টি আরামদায়ক, আবার কারও জন্য সূর্য ওঠার পরের সময়টি বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তাই নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাঁটার সময় নির্ধারণ করাই ভালো।
ভোরের সময়

নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটতে পছন্দ করলে সূর্যোদয়ের আগের সময়টি বেছে নিতে পারেন। এ সময় সাধারণত চারপাশ শান্ত থাকে এবং যানবাহনের ব্যস্ততাও তুলনামূলক কম থাকে।

ফলে অনেকের কাছে এই সময়ের হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
তবে ভোরে বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে নির্জন রাস্তায় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা

যারা খুব ভোরে উঠতে পারেন না, তাদের জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে। এ সময় দিনের আলো পর্যাপ্ত থাকে এবং অনেক দিনেই তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকে।

সকালের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হাঁটার সময়কে ভিটামিন ডি পাওয়ার প্রধান উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

অফিস বা অন্যান্য কাজে বের হওয়ার আগে এই সময়টুকু হাঁটার জন্য নির্ধারণ করা গেলে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা

যারা রাতে দেরিতে ঘুমান কিংবা সকালে তুলনামূলক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তারাও দিনের শুরুতে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। খুব ভোরে উঠতে না পারলেও নিয়মিত হাঁটা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই।

যাদের ভোরের ঠান্ডা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি বেশি হয়, তারা কিছুটা রোদ ওঠার পর হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। তবে দিনের তাপমাত্রা বেশি হলে অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

আরেকটি বিষয় হলো—ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটতে বের হওয়া ঠিক নয়। খাবারের পর পর্যাপ্ত সময় রেখে হালকা হাঁটা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

হাঁটার আগে প্রস্তুতি জরুরি

ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত হাঁটা বা দৌড় শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় বিশ্রামের পর শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে নেওয়া দরকার। এ জন্য হাঁটার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করা যেতে পারে।

প্রথমে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে হেলিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখতে পারেন। এরপর কাঁধ সামনে ও পেছনে বৃত্তাকারে ঘোরানো যেতে পারে। এতে শরীরের ওপরের অংশের জড়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এক হাত মাথার ওপর তুলে শরীর সামান্য বিপরীত দিকে বাঁকানো যায়। একইভাবে দুই পায়ের পেশি প্রস্তুত করতে এক পা সামনে রেখে হালকা স্ট্রেচ করা যেতে পারে।

হাঁটার আগে গোড়ালিও কিছুক্ষণ ঘোরানো ভালো। এতে পায়ের গোড়ালি ও আশপাশের জয়েন্টগুলোকে নড়াচড়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়।

পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ

হাঁটতে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে কিছুটা পানি পান করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর হাঁটতে বের হতে পারেন। তবে কতটা পানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

হাঁটার সময়ও শরীরের সংকেতের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা অনুভূত হলে হাঁটা বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা। একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। নিজের ঘুম ও কাজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপযুক্ত সময় বেছে নিয়ে হাঁটাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুললেই ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটিই সক্রিয় রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের সালথায় বাড়ির পাশের জলাশয়ের পানিতে ডুবে নাদিয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মধ্যবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নাদিয়া মধ্যবালিয়া গ্রামের মো. মিন্টু বেপারী ও মোসা. সাজেদা বেগমের মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, সকালে নাদিয়ার মা বাড়ির উঠানে মেয়েকে রেখে পাশে বাঁশের কঞ্চি কাটছিলেন। একপর্যায়ে নাদিয়া সেখান থেকে সরে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি নিচু জলাশয়ের পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুরে এক নারী ও তার স্বামীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী.

​আদালত সূত্রে জানা যায়, অদ্য ০৭/১০/২০২৬ তারিখে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী মাসুদ বেপারী বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী/আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের বিশদ জেরা করেন।

​জেরার একপর্যায়ে বাদী রিনা আক্তার ও ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীর প্রদত্ত জবাবে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য তথ্যের প্রমাণ মেলে। তাদের জবানবন্দি ও জেরার জবাব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ বিচারক শামীমা পারভীন নিশ্চিত হন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

​আদালত সূত্র আরও নিশ্চিত করে, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবাদীকে অন্যায্য হয়রানি এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে বিচারক শামীমা পারভীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানে বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

​রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষে অবস্থানরত দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান,মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।