খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ঘুচছেই না সামাজিক ব্যবধান

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:০২ পিএম
ঘুচছেই না সামাজিক ব্যবধান

‘বিদগ্ধ নাগরিকের মার্জিত ভাষা যেন ভিটামিন বর্জিত ছাঁটা সিদ্ধ চালের ফ্যানগালা ভাত। তার না থাকে স্বাদ, না থাকে পুষ্টি’—এ মন্তব্য একদা অন্নদাশঙ্কর রায় করেছিলেন ‘বাংলার রেনেসাঁস’ নামে বইয়ে।

বাংলার রেনেসাঁস বহু অঘটন ঘটিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভদ্রলোক শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যকার ব্যবধানটি ঘোচাতে পারেনি। আর এই ব্যবধানেরই একটি অভিব্যক্তি হচ্ছে ভাষার ব্যবধান।

 

সাহিত্যের ভাষাকে রবীন্দ্রনাথ ও প্রমথ চৌধুরী মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি আনার ব্যাপারে যথেষ্ট করেছেন, এনেছেনও খানিকটা, কিন্তু খুব বেশি দূর এগোয়নি। সাহিত্যের ভাষা আলাদা হয়েই রইল। আর সেই ভাষাই হয়ে দাঁড়াল বিদগ্ধ নাগরিকের মার্জিত ভাষা।
আমরা অবশ্য জানি কেউ কেউ চেষ্টা করেছিলেন চলতি বুলিকেই সাহিত্যের বুলি করবেন—যেমন প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালীপ্রসন্ন সিংহ, কিন্তু তাঁদের ভাষা কল্কে পায়নি, বিদগ্ধ মার্জিতজনেরা নিজেদের ভাষাকে আলাদা করে রেখেছেন জনগণের ভাষা থেকে।

অতি সম্প্রতি দেখলাম একজন প্রবীণ সাহিত্যিক ডি. এইচ লরেন্সীয় ভঙ্গিতে রোমহর্ষক শব্দাবলি উপহার দিয়েছেন তাঁর লেখায়, সেই বইয়ের ব্যাপার নিয়ে আমি উচ্চবাচ্য করছি না, খামোখা খামোখা তার কাটতি বাড়াতে রাজি নই আমি, তবে সত্য এই যে এসব শব্দ ব্যবহার করে যতই শিহরন ব্যক্তি বিশেষের লভ্য হোক না কেন, তাতে ভাষা বদলাবে না, বরঞ্চ ওই সব শব্দগুলোই শিলাবৃষ্টির শিলার মতো মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গলে যাবে।
বলা হয়ে থাকে যে ইংরেজি ভাষা এ দেশে এসে শিক্ষিতে-অশিক্ষিতে যে সামাজিক ব্যবধান তৈরি করে তেমনটি আগে কখনো ছিল না। কথাটা সত্যও বটে মিথ্যাও বটে। কারণ ইংরেজি ভাষা সামাজিক ব্যবধান সৃষ্টির অন্যতম কারণ ঠিকই, কিন্তু একমাত্র কারণ অবশ্যই নয়।

ব্যবধানটা তো আসলে আর্থ-সামাজিক, ভাষা সেটা বাড়িয়েছে মাত্র এবং ব্যবধানকে প্রকাশ করেছে যে সেটাও ঠিক, কিন্তু এর সব দায়দায়িত্ব ভাষার ওপরে চাপানোটা একপেশে কাজ বটে। ইংরেজিকে আজও যে কিছুতেই হটানো যাচ্ছে না তার একটা কারণ এই যে ওই সামাজিক ব্যবধান ঘুচছে না। আর সত্যি সত্যি যদি এমন অলৌকিক ঘটনা কোনো দিন ঘটে যায় যে সব শিক্ষিত বাঙালি শুদ্ধ বাংলা ভাষায় কথা বলছে (ইংরেজি আধা ও তিন-পোয়া বাক্যাবলি বাদ দিয়ে)—সেদিনও বাঙালিতে বাঙালিতে তফাত অবশ্যই থাকবে, দূরত্ব দেখা যাবে শিক্ষিতে-অশিক্ষিতে এবং অবশ্যই ধনী ও দরিদ্রে। মানুষই ভাষা সৃষ্টি করে, উল্টোটা সত্য নয়।
সাহিত্যের ভাষা কেন জনগণবিচ্ছিন্ন তার ব্যাখ্যা শ্রী রায় দিয়েছেন এভাবে, ‘…লেখেন যাঁরা তাঁরা ভদ্রলোক।

পড়েন যাঁরা তাঁরাও ভদ্রলোক; ভদ্রলোকদের পালিশ-করা ভাষাতেই লেখা হয়। ’ অবশ্যই। এই ভদ্রলোকদের যে আর যাই করা যাক শ্রমজীবীতে পরিণত করা কিছুতেই সম্ভব হবে না সে বিষয়ে তাঁর মতও সর্বাংশে সত্য। তিনি বলেছেন, ‘একই রকম ইউনিফর্ম পরিয়েও একজন ভদ্রলোককে একজন শ্রমিক করতে পারা যাবে না। শ্রমিককে ভদ্রলোক করলেও করতে পারা যায়, কিন্তু ভদ্রলোককে শ্রমিক করা কারো সাধ্য নয়। যদি না তাঁকে জেলে পাঠিয়ে ঘানি ঘোরাতে বাধ্য করা যায়। কিংবা সমস্ত দেশটাকে একটা কারাগারে পরিণত করা যায়। তার মানে প্রোলেটারিয়েট ডিক্টেটরশিপ। ’
সামাজিক ব্যবধান ঘুচছে নাঘানি অবশ্যি আমরা সবাই কমবেশি টানছি। জিজ্ঞেস করে দেখুন, ভদ্রলোক মাত্রেই একবাক্যে বলবেন যে ঘানি টেনে টেনে শেষ হলেন। আর পারেন না। প্রাণ কণ্ঠাগত। জেল খাটার কথাও বলবেন, বলবেন কয়েদির দশা—শুধু পোশাকটা নেই, এই যা। কিন্তু এই ঘানি, ওই কারাগার—এরা যে প্রকৃত বস্তু থেকে বহু দূরে তা বুঝতে কোনো কষ্ট হয় না, বিশেষ করে অহমিকার মুহূর্তে। তখন কে কত স্বাধীন সেটা প্রকাশের প্রতিযোগিতা চলে।

ব্যবধান ঘুচবে না এটা পয়লা নম্বর সত্য। যত দিন যাচ্ছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে আমাদের। শ্রমজীবীরা বরঞ্চ বেকার থাকে, কাজ খোঁজে হন্যে হয়ে। ভদ্রলোকেরা কাজেই আছেন। কাজের কাজ কি না, শ্রমঘন কি না সে বিচার দরকার নেই। এইটুকু অবশ্যই বলা যাবে যে সব ভদ্রলোকই কাজ করেন এবং কাজকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন। শ্রমজীবীরাও তাই, অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে—কাজকে ঘৃণা করার ব্যাপারে—শ্রমিকে-ভদ্রলোকে ব্যবধান নেই। কারণ অন্য কিছু নয়, কারণ এই যে শ্রমিক মাত্রেই মনে মনে ভদ্রলোক। শ্রমের মর্যাদা দিলে ভদ্রলোক ভদ্রলোক থাকেন না। তখন তখনই তাঁর ফাঁসি হয়ে যায়— সাংস্কৃতিকভাবে।

কাজ দেওয়াটা অবশ্য খুবই কঠিন কাজ। বেকার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। একেকজন অভিভাবককে দেখি আর চমকে চমকে উঠি। যেন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অবস্থা সচ্ছল, অন্নচিন্তা মোটেই নেই। কিন্তু ওই যে এক জিজ্ঞাসা, ছেলে-মেয়েদের কী দিয়ে ব্যস্ত রাখেন, ওই ভূত তো পিছু ছাড়ে না।

না, কাজ দিতে পারব না। না পারব কাজ দিতে নিজেদের সন্তানদের, না পারব গরিবকে। অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছেন, ভদ্রলোককে শ্রমিকে পরিণত করতে হলে প্রোলেটারিয়েট ডিক্টেটরশিপ দরকার হবে। ভরসা এই যে তাঁর ওই কথাটার মধ্যে প্রচ্ছন্ন একটা পরিহাস আছে, নইলে এই কথার জন্য ভদ্রসমাজ থেকে তাঁর নির্বাসন প্রাপ্য হতো। অন্যের দরকার ছিল না নিজেই খারিজ করে দিতেন নিজেকে। ওর বিকল্প কি? কেন, গণতন্ত্র! গণতন্ত্রের কথা তিনি অবশ্যই বলেছেন। নবজাগরণে (রেনেসাঁসে) যা সম্ভব হয়নি গণজাগরণে তা সম্ভব হবে। গণজাগরণ আসবে কেমন করে? কেন, গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। আর গণতন্ত্র? নটে গাছটির বৃত্তান্ত বুঝি। যাই বলি, গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলে আজ আর তেমন জোর পাওয়া যায় না। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে গণতন্ত্রের হাল দেখে অতি বড় গণতন্ত্র প্রেমিকও আশা ছেড়ে দেবেন, হয়তো বা প্রেমও ভুলবেন, প্রেমকেই বা কতকাল অন্ধকার ঘরে রাখা যায়?

ব্যবধান সত্য হয়ে থাকে। থাকবেও। এই যে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি অত্যাসন্ন, এতে ব্যবধান কমবে না, উল্টো বাড়বে। এই বৃদ্ধিতে সেইসব লোকের কতটা কপাল ফিরবে বলা মুশকিল রোজ যারা টুকরি হাতে বসে থাকে কামলা খাটার জন্য, কিংবা রিকশা টানে, ঠেলাগাড়ি ঠেলে। তাদের কাউকে বরঞ্চ ভীষণ উদ্বিগ্ন দেখেছি জিনিসের দাম আরো বাড়বে এই আশঙ্কায়। এ নিয়ে আমাদের নিজস্ব মহলে আলাপ যে হয় না তা বলা যাবে না। হয়।

নবজাগরণ এ দেশে সত্যি সত্যি ঘটেছে কি না তা নিয়ে তর্ক আছে, কিন্তু নানা উত্থান যে ঘটেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাঘ-ভল্লুক সবই রয়েছে। আর আছে কী? আছে ধাড়ি ইঁদুর। কবি বীরেন চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পাহাড়গুলি কাঁপছে প্রসব যন্ত্রণায়/এবার তবে জন্ম নেবে/ কয়েক লক্ষ ধাড়ি ইঁদুর, মানুষখেকো বাঘের চেয়ে ভীষণ’। বাঘও আছে, ইঁদুরও আছে, যেমন রয়েছে তাদের দন্তবিদীর্ণ মানুষ। ভাষায় যে কেবল ভদ্রতার আওয়াজ পাই তা নয়, দন্তনির্ঘোষও বিলক্ষণ শুনতে পাই। সাবধান, কামড়ে দেবে।

আর যে বলেছেন ভাষা যেন ‘ভিটামিনবর্জিত সিদ্ধ ধানের ফ্যানগালা ভাত’…সে প্রসঙ্গে বলতে হয় যে মোটে মা’য় রাঁধে না, তপ্ত আর পান্তা! সমস্যাটা ভাতের স্বাদের ততটা নয়, যতটা ভাত খেতে না পাওয়ার। মূল ব্যবধান ওইখানেই। কেউ খায়, কেউ পায় না।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।