খুঁজুন
, ,

কর্মস্থল থেকে উধাও, ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
কর্মস্থল থেকে উধাও, ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভেঙে পড়ে পুলিশ বাহিনী। অনেক পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে যোগদান করে কয়েকদিন পর উধাও হয়ে যান। অনেকে ছুটি নিয়েও অনুপস্থিত অনেকে আবার ছুটি না নিয়েও উধাও হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এমন ঊর্ধ্বতন ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

 

রোববার (২৯ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে ১৩টি পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। গত ২৬ জুন প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন উপসচিব নাসিমুল গনি।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুলিশ সুপার, আটজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও দুজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

 

পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন

এটিইউয়ের সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিনা অনুমতিতে গত ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

পুলিশ সুপার শাহজাহান

রংপুর জেলার সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমানে চট্রগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মো. শাহজাহান গত ১৬ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল

নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত গোলাম মোস্তফা রাসেল গত ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হাছান

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান গত বছরের ৩ অক্টোবর হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর হয়। তিনি ৮ অক্টোবর কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ১৫ দিনের ছুটি শেষে গত ২৩ অক্টোবর কর্মস্থলে যোগদানের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি ২৩ অক্টোবর সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসারত অতিরিক্ত আরও ৬০ দিনের ছুটি বৃদ্ধির জন্য ই-মেইলে আবেদন করেন। তার আবেদন মঞ্জুর হয়। এরপরও কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য তার স্থায়ী ঠিকানায় দুইবার নোটিশ জারি করা হলেও তিনি এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান না করে বিদেশে অবস্থান করছেন।

সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম আখতারুল ইসলাম

রমনা বিভাগের সাবেক এডিসি বর্তমানে সিলেট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম গত ২৬ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শামীম

ডিএমপির সাবেক এডিসি এস এম শামীম গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়রুল ইসলাম

ডিএমপির সাবেক এডিসি বর্তমানে কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়রুল ইসলাম গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস

ডিএমপি ডিবির সাবেক এডিসি বর্তমানে জামালপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা

রাঙ্গামাটি এপিবিনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান

তেজগাঁও বিভাগের সাবেক এডিসি বর্তমানে সুনামগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান গত ২৯ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান

বরিশাল র‍্যাব-৮ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এএসপি মাহমুদুল হাসান

রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম ভবনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এএসপি ইমরুল

কক্সবাজার উখিয়া এপিবিনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ ইমরুল গত ২৮ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

ফরিদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

​সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতীম মন্ডল এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

​সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে আসতে হবে।

​একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

‘কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ মুঠোফোনে মাকে বলা ছেলের শেষ কথাগুলো এখন বারবার মনে পড়ছে রেখা বেগমের। অভিযানে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তবে সেই অভিযান থেকে আর ফেরা হয়নি তাঁর। 

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিতাসের মরদেহ আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪.৪০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আনা হয়। সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

তিতাসের মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারটি শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অবতরণ করে। সেখানে পদ্মা সেনানিবাসের ১৫ আর-ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে। মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িতে ভিড় করেন। এ সময় মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব তিতাসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তিতাসের ইউনিটের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাজিদসহ সেনাবাহিনীর সদস্য, পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া স্থানীয় গোরস্থানে। সেখানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ক্যাপ্টেন সাজিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিতাসের কবরে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সেনাসদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি আকাশের দিকে ছোড়েন। এভাবেই রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় টেকনাফে দায়িত্ব পালনকালে নিহত এই সেনাসদস্য তিতাস শেখকে।

তিতাসের মৃত্যুর পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা রেখা বেগম। গত বুধবার রাতে মুঠোফোনে মাকে অভিযানে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিতাস। বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের এমন কথায় দোয়া করেছিলেন মা। কিন্তু সেটিই যে তাঁদের শেষ কথা হবে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকে কান্নায় থামছে না তাঁর।

অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তিতাসের। তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান এখনো আসেনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় ছিলেন সুমাইয়া। কিন্তু ডিসেম্বর আসার আগেই স্বামীকে হারাতে হলো। আর সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আফজাল শেখ।

তিতাসের পরিবারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পরিবারের তিন সদস্যের সেনাবাহিনীতে যুক্ত থাকার মধ্যে তিতাসের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের শোকের পাশাপাশি এলাকায়ও শোকের মাতম তৈরি হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ রামু সিএমএইচে রাখা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে নিজ এলাকায় পাঠানো হয় তাঁকে।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় পৌঁছায়। পরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে গিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৮)। চার বছরের দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর অদম্য স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের একটি মাত্র বুলেট তাঁর সেই সাজানো স্বপ্নের দুনিয়া নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে ঠিকই ফিরছেন তিতাস, তবে তা কোনো আনন্দ নিয়ে নয়—বরং একটি নিথর, প্রাণহীন মরদেহে।

​প্রিয় স্বজনের এমন নির্মম বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগমের আহাজারিতে লস্করদিয়ার আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে।

​শেষ মায়ের দোয়া ও মর্মান্তিক পরিণতি

​স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা হয় তিতাসের। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নিতে হবে জানিয়ে তিনি মায়ের কাছে দোয়া চান। কে জানত, এটাই হবে মায়ের সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ কথোপকথন! বৃহস্পতিবার রাতেই তিতাসের মৃত্যুর সংবাদ এসে সব ওলটপালট করে দেয়।

​নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সেনাপরিবারের সন্তান তিতাসের বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাস ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

​স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগম। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং তিতাসের এমন করুণ মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।

​রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শোক প্রকাশ

​সেনা সদস্য তিতাস শেখের এই মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিতাস শেখ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

​প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশসেবায় নিয়োজিত থেকে সেনা সদস্য তিতাসের এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও তাঁর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।