খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

দাম কম থাকায় ফরিদপুরে লোকসানের শঙ্কায় পেঁয়াজ চাষীরা

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:০৭ পিএম
দাম কম থাকায় ফরিদপুরে লোকসানের শঙ্কায় পেঁয়াজ চাষীরা
পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর জেলা ফরিদপুর। বর্তমানে চলছে বিভিন্ন উপজেলার বিস্তার্ন মাঠে পেঁয়াজ উঠানোর ধুম। খরচের তুলোনায় পেঁয়াজের দাম কম থাকায় চাষীদের চোখে মুখে মলিন হাসি। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদরের তফাৎ থাকায় হতাশ তারা। গত বছরের তুলোনায় এ বছর পেঁয়াজ মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ফলনও কম হয়েছে। সেই সাথে পেঁয়াজের বাজার দরও কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। এ বছর ১১০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত দেশী পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে গত বছর পেঁয়াজ উঠানোর শুরুতেই ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এ কারণে কৃষি কাজে আগ্রহ কমছে চাষীদের।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ ধরা হয়। তখন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি। পরে আরো প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বেশি আবাদ হয়। সব মিলিয়ে জেলায় এবার পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এ থেকে প্রায় ৬ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
জেলার সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ঘুরে দেখা যায়, জেলায় সর্বত্রই এখন ক্ষেত থেকে চাষীরা পেঁয়াজ উত্তোলনে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার অধিকাংশ উপজেলা বিস্তীর্ণ মাঠের দিকে তাকালেই এমন দৃশ্য চোখে মেলে। কেউ ক্ষেত থেকে মাটি খুড়ে পেঁয়াজ তুলছে, কেউ পাত্রে তুলে বস্তায় ভরছে, কেউবা মাঠ থেকে বস্তা মাথায় করে সড়কে তুলছে। পেঁয়াজ চাষীরা কেউ ভ্যান বা নছিমন যোগে বাজারে নিচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে।
ফরিদপুরের ময়েনদিয়া, সালথা, নকুলহাটি, সাতৈর ও মধুখালী পেঁয়াজ বাজারগুলোতে পাইকারি পেঁয়াজের দর রয়েছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত মন। সেখানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা চাষিরা বলছে এক মন পেঁয়াজ উৎপাদনের ব্যয় হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। তাছাড়া মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ফলনের দেখাও কাক্সিক্ষতভাবে মেলেনি।
চাষীরা জানান, গত বছরের পেঁয়াজের ভালো দর পাওয়ায় এবার তারা সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৫ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করেছে। বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করলেও এ বছর উৎপাদন কম হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজার দরের পার্থক্য অনেক। তাই জেলার পেঁয়াজ চাষীদের মুখে মলিন হাসি। ৩০ শতাংশ জমিতে (এক পাখি) পেঁয়াজ চাষাবাদ থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। সেখানে পেঁয়াজ পাখিতে উৎপাদন হয়েছে ৩০-৩৫ মন।
সালথার নকুলহাটি বাজারে কথা হয় উপজেলার জয়কালী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি ওই বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসেছিলেন। এ সময় তিনি জানান, আমি এক বিঘা (৫২ শতাংশ) জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এ বছর বৃষ্টিপাত কম থাকা, সার-ওষুদের দাম বেশি ও কারেন্ট পোকায় আক্রমনের কারণে ফলন কম হয়েছে। যেখানে গত বছর এক বিঘা জমিতে ৮০-৯০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। সেখানে এ বছর ৫০ মন হওয়ায় কষ্ট হয়েছে। আবার পেঁয়াজ তোলার সময় ৮শ থেকে ৯শ টাকায় জোন (কৃষাণ) নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর আমার খরচ উঠায় কষ্ট হবে। তিনি বলেন, এক মন পেঁয়াজ এনেছিলাম, বিক্রি করলাম সাড়ে ১২শ টাকা।
বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামের কওসার মজুমদার ১০-১২ কৃষাণ নিয়ে পেঁয়াজ তুলছিলেন দাদুড়িয়া বিল মাঠে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভাই পেঁয়াজের দামের যে অবস্থা তাতে আমাদের সবদিক থেকে ঘাটতি। এ বছর এক পাখি (৩০ শতাংশ) এ বছর ৩৫-৪০ মনের বেশি হবে না। তাতে খরচ প্রতি পাখিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কৃষকের ঘাটতি পূরণ করতে হলে কমপক্ষে ২২শ থেকে তিন হাজার টাকা মন পেঁয়াজ বিক্রি করা দরকার। সরকারের কাছে আমরা পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। এ কারণে কৃষি কাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে আমাদের।
একই উপজেলার চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামের কৃষক সদ্য বিলদাদুড়িয়া মাঠে পেঁয়াজ তোলার সময় জানান, আমি ১ একর ৮০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এই মাঠের মধ্যে আমার উপরে কোন কৃষকের ফলন হয়নি। তাতে এক পাখি জমিতে ৩৫-৪০ মনের বেশি হবে না। এর মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখলে তারও ঘাটতি আছে। আমার পাখি প্রতি খরচ হয়ে যাচ্ছে ৩০ হাজারেরও বেশি। এজন্য পেঁয়াজ চাষ করেও আমাদের মুখে হাসি নাই। এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজ তুলতে হচ্ছে ৮০০-১০০০ হাজার টাকা জোন প্রতি দেওয়া লাগছে। সর্বনি¤œ কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ মৌসুমের শুরুতেই দুই হাজার টাকা থাকা দরকার ছিল। এ বছর খরচের টাকা উঠছে না। গত বছর এই সময়ে ২২শ থেকে ২৫শ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, এটা ঠিক যে পেঁয়াজের দামে খুব একটা খুশি না চাষীরা। কারন বাজারে পেঁয়াজের যোগান বেড়েছে অনেক, সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় দরটি পড়ে গেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও চাষাবাদ হয়েছে বেশি। তবে বৃষ্টিপাত কম থাকায় সেই পরিমান ফলন হয়নি। আমার পরামর্শ এই মুহূর্তে পেঁয়াজ বিক্রি না করে কয়েকটি মাস সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করলে কৃষকরা ভালো দর পাবেন বলে আশা করছি। তিনি বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যাপারে সচিব মহোদয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে। সে ব্যাপারে কাজ চলছে। বর্তমান এ জেলায় পেঁয়াজের বাজার মূল্য রয়েছে সাড়ে ১২শ থেকে ১৪শ টাকা মন।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”