খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

দেশের নীতিনির্ধারকরা এখন আগামী নির্বাচনের অপেক্ষায়

অদিতি করিম
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১:০১ পিএম
দেশের নীতিনির্ধারকরা এখন আগামী নির্বাচনের অপেক্ষায়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেছে। দেশের নীতিনির্ধারকরা এখন আগামী নির্বাচনের অপেক্ষায়।

অনেকে মনে করছেন, উপদেষ্টারা সেফ এক্সিটের পথ খুঁজছেন। কেউ কেউ এমন অভিযোগও করছেন যে তাদের আখের গোছানো নাকি শেষ। প্রতিদিন উপদেষ্টারা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে নানানরকম কথা বলছেন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খেলা চলছে দেশে।

রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার হিসাবনিকাশ করতে ব্যস্ত। পিআর, গণভোট, জুলাই সনদ ইত্যাদি জটিল অঙ্কের হিসাবনিকাশ চলছে রাজনীতির ভিতর-বাইরে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষ কোথায়? জনগণ কেমন আছে? তাদের খবর নেওয়ার সময় কি আছে কারও?

দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা সমাজ সবখানেই আজ এক অদ্ভুত অস্থিরতা। যার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। আয় নেই, কাজ নেই, ব্যবসাবাণিজ্য স্থবির, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, আর তার সঙ্গে সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক-সব মিলে সাধারণ মানুষের জীবন যেন এক অবিরাম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

একজন দিনমজুর সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজের আশায় বের হন, কিন্তু ফেরেন খালি হাতে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকানের ঝাঁপ খুলেও বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেনাকাটা নেই, ক্রেতা নেই। একজন শিল্পোদ্যোক্তা অসহায়। বিনিয়োগের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা নানান ধরনের হয়রানির শিকার।

অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে রাখা হয়েছে মাসের পর মাস। তদন্তের নামে চলছে কালক্ষেপণ আর চরিত্রহননের কুৎসিত খেলা। এসব দেখে কেউ নতুন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। নতুন কর্মসংস্থান নেই। একজন স্নাতক যুবক প্রতিদিন চাকরির বিজ্ঞাপন খোঁজেন, কিন্তু মেলে না কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এ বাস্তবতা এখন একক কারও নয়, বরং লাখো মানুষের।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখন কোনো না কোনোভাবে বেকার বা আংশিক কর্মরত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানও আশাব্যঞ্জক নয়। গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র শিল্প, এমনকি শহরের ছোট ব্যবসা-সবখানেই মন্দা। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি অর্থনীতিতে একমাত্র স্বস্তি। কিন্তু প্রবাসে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স কত দিন এ রকম থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। বহু দেশে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজ হতাশ হয়ে পড়ছে। এ হতাশা অনেকের জীবন থেকে বিশ্বাস, উদ্যম ও স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে। একসময় যে মানুষটি প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন, আজ তিনি ধারদেনার জালে জড়িয়ে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, বয়স্ক পিতা-মাতার চিকিৎসা-সবকিছুই যেন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাজারের আগুনে পুড়ছে মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় এখন নাগালের বাইরে। চাল, ডাল, তেল, নুন, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম দিনদিন বাড়ছেই। সরকারি প্রতিবেদন বলছে, মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়েছে; কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে যে কোনো মানুষ জানেন দামের সঙ্গে আয় মেলানো আজ অসম্ভব। মাসের শুরুতেই অনেকে ঋণ করে বাজার করেন, মাসের শেষ আসার আগেই হাত খালি। মধ্যবিত্ত শ্রেণি আজ নিম্নবিত্তে পরিণত হচ্ছে। আর নিম্নবিত্তের জীবন চলছে শোচনীয় অবস্থায়। দেশের বাজারে এখন পুঁজির অভাবের পাশাপাশি আস্থারও অভাব দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হচ্ছে একের পর এক। গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারেও একই অবস্থা। কেনাবেচা নেই, টাকার প্রবাহ নেই। একসময় যে দোকানদার প্রতিদিন পণ্য বিক্রি করে হাসিমুখে ফিরতেন, এখন তিনি সারা দিন বসে থেকেও বিক্রি না হওয়া পণ্যগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন।
অর্থনীতির এ স্থবিরতা শুধু সংখ্যার গল্প নয়; এটি হাজারো পরিবারের বেঁচে থাকার প্রশ্ন।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মবসন্ত্রাস-সবকিছুই বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। রাতে বাইরে বের হওয়া দূরের কথা, দিনের আলোতেও মানুষ আজ ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করছে। অপরাধের শিকার হচ্ছে পথচারী, দোকানি, এমনকি শিক্ষার্থী পর্যন্ত। ১৪ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে নানান ধরনের অস্থিরতা। কখনো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, কখনো শিক্ষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন, কখনো শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মবসন্ত্রাসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সমাজে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যে সমাজে মানুষ নিজের বিচার নিজেই নিতে চায়, সেখানে আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে যায়। আর আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি এ অবিশ্বাসই সমাজে অরাজকতার বীজ বপন করে।

আমাদের সমাজে দারিদ্র্য এখন আর কেবল খাদ্যের অভাব নয়; এটি আত্মসম্মানের ক্ষয়, নিরাপত্তার অভাব এবং ভবিষ্যতের প্রতি গভীর অনিশ্চয়তা।
দুর্নীতি কমেনি, বরং প্রতিদিন নিত্যনতুন দুর্নীতির খবর আকাশে বাতাসে ভাসছে। মূলধারার গণমাধ্যম অজানা আতঙ্কে সেলফ সেন্সরশিপের চাদরে নিজেদের ঢেকে রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনটা গুজব আর কোনটা সত্যি তা কে বলবে? দেশের মানুষ এখন আশাহত, হতাশ। অনেকে নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। শুধু দেশের জনগণ নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপুলভাবে সমর্থন জানায়। বিশ্বনেতারা অভিনন্দনে সিক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। এত অভিনন্দন অতীতে কোনো সরকারপ্রধান পেয়েছেন কি না আমার জানা নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলেও এখন বাংলাদেশ নিয়ে হতাশার সুর। সর্বশেষ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন তার প্রমাণ। পশ্চিমা অনেক দেশ বলতে শুরু করেছে, বাংলাদেশ আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেছে। যখন রাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে ব্যস্ত, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে মত্ত তখন সাধারণ মানুষ দিশাহারা। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে হেঁটে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও ন্যায্য জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা। কিন্তু আজ এ তিন ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার চিত্র প্রকট। নীতি ও বাস্তবতার ফারাক যত বাড়ছে, ততই সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে।

রাষ্ট্র যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে সমাজের স্থিতি নষ্ট হয়ে যায়। মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন তা সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতি উত্তরণের একমাত্র উপায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা। জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা। আর জনগণের অনুভূতি উপলব্ধির প্রধানতম উপায় হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের চাওয়াপাওয়া, আশানিরাশার কথা জানতে পারেন। বিজয়ী দল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের প্রত্যাশাপূরণে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করতে পারে।

এ কারণেই বাংলাদেশের সামনে নির্বাচনের বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলো কোনোভাবেই যেন নির্বাচন বানচালের ফাঁদে পা না দেয়। তাদের বিতর্ক, মতবিরোধ নিয়ে যাক জনগণের কাছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হোক জনগণের হাতে। জনগণই সিদ্ধান্ত নিক তারা কী চায়। নির্বাচন না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।