খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

খিল ভদ্র,
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২১ পিএম
পথশিশুদের মাদকাসক্তি বাড়ছে, জড়াচ্ছে অপরাধে

সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা কমছে না। সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পথশিশুদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে।

আর মাদকাসক্ত পথশিশুরা চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি বলে বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবি। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পথশিশুদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এই অবস্থায় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পথশিশুরা।

তাদের বিষয়ে নানা সুপারিশ তুলে ধরা হবে। কিন্তু সেই সুপারিশ ও প্রস্তাব বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পথশিশুর সংখ্যা। রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০ লাখ পথশিশুর জন্য মাত্র দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।

একটি কমলাপুরে, আরেকটি কারওয়ান বাজারে। কেন্দ্র দুটিতে রয়েছে ১৫২ শিশুর থাকার ব্যবস্থা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ পরিচালিত ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ, ফেইজ-২’ প্রকল্পের ২০২৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি পথশিশু রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে এসব শিশুকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দারিদ্র্যের চক্রে স্থায়ী করে রাখা হয়েছে।

মা-বাবার অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও সামাজিক নিগ্রহসহ নানা বিরূপ পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গবেষণায় বলা হয়, দেশে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত। ১৪ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সের আগেই মাদক সেবন করে। তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় পথশিশুদের মধ্যে ৩১.৭ শতাংশ গাঁজা সেবন করে। ড্যান্ডি মাদকে আসক্ত ১৫.২ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া রাজধানীতেই ড্যান্ডিতে আসক্ত পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২’ প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের পথশিশুর ৪৮.৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২.৭ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮.৩ শতাংশের বসবাস। সবচেয়ে কম পথশিশু সিলেট বিভাগে, ৪ শতাংশ। পথশিশুর ৮২ শতাংশ ছেলে ও ১৮ শতাংশ মেয়ে। আর অর্ধেকের বেশি পথশিশুর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। প্রতি তিন পথশিশুর মধ্যে প্রায় একটি (৩৩ শতাংশের বেশি) জীবনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। প্রায় অর্ধেক শিশু পাটের ব্যাগ, শক্ত কাগজ, প্লাস্টিকের টুকরা বা পাতলা কম্বল নিয়ে মাটিতে ঘুমায়।

বিবিএসের তথ্য বলছে, প্রতি ১০ পথশিশুর মধ্যে ৯টি বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এর মধ্যে ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকের সহায়তাকারী ১৮.৪ শতাংশ। ময়লা কুড়িয়ে (টোকাই) জীবন যাপন করছে ২০.৯ শতাংশ। তা ছাড়া যৌনকর্মী হিসেবে যুক্ত হচ্ছে মেয়ে পথশিশুরা। ঝাড়ু দেওয়া ও পরিচ্ছন্নতা কাজে যুক্ত ০.৫ শতাংশ পথশিশু। আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন খাত ও নির্মাণকাজে যুক্ত ১৬ শতাংশ পথশিশু। চায়ের দোকান, কারখানা ও ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৪.৮ শতাংশ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ফুটপাতে, রেলস্টেশন, বাস কাউন্টার, টার্মিনাল, ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজের নিচে, এমনকি সড়ক বিভাজকের ওপর পথশিশুরা অবস্থান করে। কারওয়ান বাজার, কমলাপুর, পল্টন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সদরঘাট এলাকায় এদের তৎপরতা বেশি। এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের কারণে নানা অপরাধেও জড়াচ্ছে তারা। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া পথশিশুর সংখ্যা ৪৪ শতাংশ। ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ পথশিশু। আবার এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে পথশিশুরা। ঢাকার বাইরেও ছোট-বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সড়কে পথশিশুদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ এভাবেই গড়াগড়ি খাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কের (স্ক্যান) সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, পথশিশুদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। যেসব সংস্থা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশে তার সংখ্যাও অনেক কম। পথশিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে পুনর্বাসনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ৭০ শতাংশের বেশি। মাদক গ্রহণের পাশাপাশি মাদক বিক্রিতেও তারা ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার একটি বড় অংশ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত। ভিক্ষাবৃত্তি ও মাদকাসক্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হবে। এ জন্য ১০ বছরের নিচের পথশিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের নন-ফরমাল এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে।

পথশিশুদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুরা যেন পথে না আসে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে পথে থাকা শিশুদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রথমে পথশিশুদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। সংখ্যা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের সুরক্ষায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়ালে পথশিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, পথশিশুদের পারিবারিক শৃঙ্খলা, শাসন ও আদর না থাকায় তারা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবনের পাশাপাশি কন্যাশিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় তাদের পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।