খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে এনসিপিতে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা, বৈষম্যবিরোধী নেতার পোস্ট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ১১:০২ এএম
ফরিদপুরে এনসিপিতে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা, বৈষম্যবিরোধী নেতার পোস্ট

ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় কমিটি নিয়ে বিতর্কের দানা বেঁধেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনায় সরব জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সংগঠকেরা। তাঁদের অভিযোগ, জেলার দুটি কমিটিতে আওয়ামী লীগের লোকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনবিরোধী তাঁদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এর আগে ৫ জুন এনসিপি ফরিদপুরে ২৩ সদস্যের সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করে। এতে স্বাক্ষর করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটির মেয়াদ আগামী তিন মাস অথবা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা, যুগ্ম সমন্বয়কারী এস এম জাহিদ, সাইফ হাসান খান সাকিব, জিল্লুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ ও মো. কামাল হোসাইন।

সদস্যরা হলেন ফিরোজ হোসেন মোল্যা, মো. মিরাজ উদ্দীন শরীফ, শেখ বাচ্চু, রফিকুল ইসলাম বর্ণ, হাবিবুর রহমান আল-মুনীর, ছায়েমা আক্তার, আরমানুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, সোহান ইসলাম সুজাত, রনি মোল্যা, হায়দার মোল্যা, শেখ জাহিদ, জুবায়ের রহমান, এস এম আকাশ, নবীন শেখ, সাইফুল ইসলাম ও মো. রুবেল মিয়া হৃদয়।

এ ছাড়া ৩ জুন সংগঠনের শ্রমিক উইংসের জেলা কো-অর্ডিনেশনের ৩৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রধান সমন্বয়কারী এস এম জুনায়েদ জিতু। এসব কমিটি প্রকাশ্যে এলে ক্ষোভ জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

গতকাল শনিবার সংগঠনের জেলা সদস্যসচিব সোহেল রানা ফেসবুক পোস্টে এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা দল এনসিপি। শহীদদের রক্ত, হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বীরদের ত্যাগের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। দেখতে পাচ্ছি আমরা, তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের সম্মানীত দালালরা, ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা দোসররা মুখ লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিচ্ছেন এই দলে। বাদ যাচ্ছে না সহযোগী সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার আগে কখনো খতিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন নাই, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা ছিল। কার অবস্থান কী ছিল! জুলাইয়ের, পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যাদের পদ/পদবি দিবেন, তারা কী চায়! মানুষের জন্য রাজনীতি নাকি, টেন্ডারবাজি, দখলদারি, করে নিজের পকেট ভারী।’

সোহেল আরও বলেন, ‘সময় ভালো চলছে…বসন্তের কোকিল আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে সময় খারাপ হলে, এদের কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে? রীতিমতো অবাক করে দিচ্ছেন আমাদের! যেটার ফলাফল হবে—সাপের ডিম সাপেই খাবে!’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছিল তরুণ সমাজ। তরুণদের ভরসারস্থল জুলাইয়ে গড়ে উঠা এনসিপি, তারা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল।

‘কিন্তু আমরা হতাশাগ্রস্ত! ফরিদপুরের দুটি কমিটিতেই আওয়ামী লীগের দোসরদের স্থান দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনবিরোধী ছিল কয়েকজন, তারাও কমিটিতে। এ ছাড়া ফরিদপুরের কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এগুলো দেখে আমাদের অনেকে ক্ষোভ জানাচ্ছেন ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব কমিটি নিয়ে যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের মানহানি মামলারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ হুমকিদাতার স্পষ্ট অবস্থান আওয়ামী লীগের সাথে। যার প্রমাণও রয়েছে।’

তবে ভিন্ন কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলার প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে আসলে কিছু বিতর্ক হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে অনেকের ছবি থাকতে পারে, কিন্তু আমরা ছবির রাজনীতি দেখছি না। কারণ, সেই লোক তো আওয়ামী লীগের পদ-পদবিতে নেই। কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে—এমন অভিযোগ পেলে সেটা দেখা হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ছাড়া জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটিতে ছাত্রদলের লোকজনও রয়েছে বলে জানান।

‘কালো শকুন’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
‘কালো শকুন’

সেদিন আকাশে ছিল না চাঁদ, ছিল না কোনো আলো,
নেমে এল শুধু পাষাণপুরীর জঘন্য রাত কালো।
শান্ত শহরে হিংস্র থাবায় নামলো যমদূত দল,
হানাদার রূপী কালো শকুনরা বাড়ালো কোলাহল।

বজ্রকঠিন নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয় কামানের গোলা,
রাজারবাগের রক্তে ভাসলো রাজপথ—দুয়ার খোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—জ্ঞানের আলোয়—জ্বললো লাশের স্তূপে,
ঘাতকেরা এলো দানবীয় সেই নারকীয় হিংস্র রূপে।

চব্বিশ বছরের শোষণের বিষ উগড়ে দিল সে রাতে,
ঘুমন্ত শিশু, জননী, বৃদ্ধ মরলো ঘাতক হাতে।
মেশিনগানের তপ্ত বুলেটে বিদীর্ণ বাংলার বুক,
খুনী শকুনের উল্লাসে ঢাকা পড়লো চেনা সব মুখ।

অন্ধকারের সেই মহাপ্লাবন রুখতে জাগলো প্রাণ,
রক্তের দামে কেনা হবে ঠিক স্বাধীনতার সম্মান।
২৫শে মার্চ আজো কাঁদে তাই বাংলার ঘরে ঘরে,
ভেবেছিনু বুঝি শকুন বিদায় রক্তে ভেজানো ভোরে।

শকুনেরা বদলালো রূপ লুকিয়ে ছদ্মবেশে,
সুযোগ পেলেই থাবা দেয় আজও আমার সোনার দেশে।
বাইরের শত্রু নয় শুধু আজ, ঘরের ভেতরে ঘাঁটি,
লোভ আর কালোর থাবায় ছিঁড়ছে আমার মায়ের মাটি।
স্বাধীন দেশেও অধিকার কাড়ে, শোষণের জাল বোনে,
আতঙ্কের ছায়া আজও হানা দেয় নিভৃত মনের কোণে।

তাই তো আবার জাগতে হবে রে, হতে হবে ইস্পাত,
শকুনের দল রুখে দিয়ে ফের, ঘুচাতে হবে এ রাত।
একাত্তরের সেই হুঙ্কার উঠুক আবার বেজে,
শকুনেরা পাক চরম জবাব, বাংলা উঠুক সেজে।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ

‘স্বাধীনতা’

ড. মুহা আবুল কালাম আজাদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
‘স্বাধীনতা’

পাকিস্তানি শাসন শোষণ
দমন পীড়ন নৈতিক পদস্খলন
অধীনতা আধিপত্যের বিরুদ্ধে
মোড়লগিরি খবরদারি বন্ধে
দুর্বার চঞ্চল দামালছেলেদের গর্জন
মুক্তিসেনার জীবন বিসর্জন।
রক্তের বন্যায় স্বাধীনতা অর্জন
শ্রদ্ধা সম্মান এক অনন্য স্মরণ।

স্বাধীনতা কথা বলার অদম্য সাহস
আত্মবিশ্বাস গৌরব অহংকারের ইতিহাস।
শিল্পকলা সাহিত্য সংস্কৃতি
আচার রুচি ঐতিহ্য রীতি-নীতি
স্বস্তি শান্তি মূল্যবোধ অভিব্যক্তি
বিত্ত বৈভব স্বপ্নসারথি।

স্বাধীনতা মায়ের সমান
আদর-সোহাগ লালন-পালন
বাঁচার আশা ইচ্ছা পূরণ
মাতৃভূমির রক্ষণাবেক্ষণ।
মানবতার স্ফুরণ
গণতন্ত্রের পরিস্ফুটন
সাফল্যের ধাপ নিঃস্বার্থ সোপান
উপরে ওঠার সিঁড়ি উন্নতির সাম্পান।

স্বাধীনতা অফুরন্ত আশা
উদ্দীপনা ভালোবাসা
উত্তেজনা উৎসাহ আনন্দ প্রেরণা
অনুভূতি অনুভব প্রগতি চেতনা।

স্বাধীনতা বড় শক্তি
মুক্তবুদ্ধি চিন্তার মুক্তি
কৃষক-মজুর-মুটেদের রক্ষা করেছে অধিকার
ভবিষ্যতে সংগ্রামের জন্য করেছে অঙ্গীকার।

স্বাধীনতা রক্তেকেনা ফসল
চরম ত্যাগে বাঙালি সফল।
সুরভিত সুবাসে
ভরে উঠুক চিত্তাকর্ষে
অজয় অক্ষয় দেহ-মন-প্রাণ
জন্মজন্মান্তরে থাকুক চির অম্লান।

স্বাধীনতা গর্বের উপার্জন
প্রাপ্তি সিদ্ধি সংহতি মিলন
মুখে পড়ুক ফুলচন্দন
শুভেচ্ছা স্বাগতম অভিনন্দন।

লেখক: কলেজ শিক্ষক

ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় তুলি রানী দাস (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত তুলি রানী দাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুজিত দাসের মেয়ে। তিনি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় ইব্রাহিম হাসানের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তুলি তার নিজ কক্ষে একা ছিলেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থলে নিহতের মা, কাকী ও অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে এ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”