খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্যতিক্রমধর্মী এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরিধান করেন।

সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রিকশা মার্কার এমপি প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ‘ধলা হুজুর’-এর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ তুলে ধরে জোটের নেতারা বলেন, এটি শুধু একজন প্রার্থীর ওপর হামলা নয়, বরং নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী। তিনি বলেন, “গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় সিংহপ্রতাপ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িবহরে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষের কিছু নেতাকর্মী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এতে করে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ি এবং স্বাভাবিক প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, “নির্বাচনী মাঠে ভয় দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এমন অপতৎপরতাকে উৎসাহিত করছে।” তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ করার দাবি জানান।

কাফনের কাপড় পরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁদের ভাষায়, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু যদি আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবো—এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। বক্তারা বলেন, ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

সেনা বাহিনী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনী। এ ঘটনার পর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই-পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “মাওলানা আকরাম আলী নির্বাচনী কাজে সিংহপ্রতাপ বাজারে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। বাজারের পাশে বিএনপির একটি অফিস থাকায় সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ধলা হুজুরকে দেখে ধানের শীষের মিছিল দেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ধলা হুজুর সেনা ক্যাম্পে ফোন করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাঁর গাড়ির ওপর সরাসরি হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও ধানের শীষের কিছু নেতাকর্মী তখন উত্তেজিত ছিলেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ওই এলাকায় সেনাবাহিনী যান। এছাড়া প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালায়। তিনি বলেন, রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সালথা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল অব্যাহত আছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অন্যদিকে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।’

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ স্লোগান, মিছিল ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যায়।

১১ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বলা হয়, “আমরা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু যদি আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকবো।”

ফরিদপুরে স্কাপ সিরাপসহ নারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কাপ সিরাপসহ নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪৫ বোতল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য স্কাপ সিরাপসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের শহরের গোয়ালচামট এলাকায় লিজা বিউটি পার্লারের সম্মুখে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে হালিমা খাতুন (৩৩) নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে হালিমা খাতুন (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছে একটি লাল রংয়ের কাপড়ের ব্যাগের ভেতর থেকে স্কাফ কফ সিরাপের ৪৫ বোতল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি বোতলে ১০০ মি.লি. হিসেবে সর্বমোট ৪.৫ লিটার স্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।গ্রেফপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, ‘‘উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে ইতোমধ্যে ফরিদপুর কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’’

মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

মানুষ ভুল করে। অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। কারণ, ভুল করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই জীবনের নানা পর্যায়ে জেনে বা না জেনে মানুষ বিভিন্ন ভুল ও গোনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহানবী (সা.) বলেছেন, গোনাহ করে তাতে অটল থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ মৃত্যু কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই তওবার সুযোগ থাকা অবস্থাতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৩)

এর পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তওবার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগে।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৪)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন সাতটি গোনাহের কথা বলেছেন, যেগুলোকে তিনি ‘ধ্বংসাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো থেকে প্রত্যেককে বেঁচে থাকার উপদেশ দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে সেই প্রাণ হত্যা করা যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া।’ (বোখারি: ২৭৬৬)

আলোচিত এই সাত গোনাহ হলো:

১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

শিরক হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বিশেষ অধিকার বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে শরিক করা। এটি ইসলামে সবচেয়ে গুরুতর গোনাহগুলোর একটি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্য গোনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা আন-নিসা: ৪৮)

তবে এর অর্থ এই নয় যে জীবিত অবস্থায় শিরক থেকে তওবা করলে ক্ষমার দরজা বন্ধ। বরং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে এসে ঈমান গ্রহণ ও তওবা করলে ক্ষমার আশা রয়েছে। সুরা আল-ফুরকানের ৬৮ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে শিরকসহ গুরুতর গোনাহের উল্লেখের পর তওবাকারীদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার কথা বলা হয়েছে।

২. জাদু করা

জাদু ইসলামে মারাত্মক গোনাহ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, তার মধ্যে জাদুর কথাও রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

জাদুর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা, প্রতারণা করা কিংবা মানুষের বিশ্বাস ও জীবনকে বিপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা গুরুতর অপরাধ। তাই কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা জরুরি।

৩. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা

অন্যায়ভাবে শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া মানুষের প্রাণ নেওয়া ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত সাত ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যেও এটি রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন, ন্যায্য কারণ ছাড়া তা হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।’ এরপর এসব কাজের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কথা ভিন্ন।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৬৮-৭০)

অতএব, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে শুধু মুখে তওবা করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের অধিকার ও সংশ্লিষ্ট দায়দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে।

৪. সুদ খাওয়া

সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যে সুদ খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

সুদের লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি যদি এ গোনাহ থেকে মুক্ত হতে চান, তাহলে তাকে হারাম লেনদেন পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। একই সঙ্গে কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাও রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। (বোখারি: ২৭৬৬)

এতিম ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পদ আত্মসাৎ করা তাই শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং গুরুতর জুলুমও। কেউ এ গোনাহে জড়িয়ে পড়লে আন্তরিক তওবার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সম্পদ যথাযথ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

হাদিসে বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের একটি হলো যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা থেকে পলায়ন করা। (বোখারি: ২৭৬৬)

এটি মূলত শরিয়তসম্মত যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিধান। তাই সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতে বিপদ থেকে সরে আসা বা নিজেকে রক্ষা করাকে এই হাদিসের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। বরং ইসলামী বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে অন্যায়ভাবে পলায়নের বিষয়টি এখানে বোঝানো হয়েছে।

৭. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া

কোনো নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ভয়াবহ গোনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকেও সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা সতী নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এরপরই আল্লাহ তওবার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। (সুরা আন-নুর: ৪-৫)

তওবার সুযোগ থাকা অবস্থায় ফিরে আসা জরুরি

ইসলামে গোনাহ যত বড়ই হোক, বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে। তাই উল্লিখিত গোনাহগুলো করে থাকলে মৃত্যু আসার আগে এখনই তওবা করা জরুরি। তবে তওবা শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার নাম নয়। গোনাহ ছেড়ে দেওয়া, নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গোনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আর গোনাহের সঙ্গে যদি মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে সমাধান করাও জরুরি। কারও সম্পদ আত্মসাৎ, কারও ওপর জুলুম বা কারও সম্মানহানি করা হলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৭০)

তাই মৃত্যু আসার অপেক্ষা না করে জীবিত থাকতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা উচিত। কারণ তওবার সুযোগ থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা শাস্তি আসার আগেই তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। (সুরা আজ-জুমার: ৫৩-৫৪)

ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

বাজারে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। রাসায়নিক দেওয়া মাছ খেলে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা, যকৃতের সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এমনকি ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে। 

মাছে ফরমালিন দেওয়া হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

ফরমালিন ব্যবহার করলে তীব্র গন্ধ হয়। এ কারণে মাছিরা ফরমালিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাছ এড়িয়ে চলে। তাই মাছের ওপর মাছি না বসলে, সেই মাছ তাজা ভেবে ভুল করবেন না। হতে পারে সে মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাছে ফরমালিন থাকলে এর মাংস স্বাভাবিকভাবে নরম ও স্থিতিস্থাপক না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হয়। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে না। এর পরিবর্তে একটি ক্ষীণ, তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়। মাছটি পরিণত হলেও এর ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে। তাছাড়া এই রাসায়নিক থাকলে মাছের আঁশ শক্ত হয়।

মাছের ফরমালিন দূর করার উপায়

আজকাল বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে মাছ বিক্রয় করে। যদি বুঝতে পারেন মাছ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিন। ফরমালিন দূর করতে ১০-১২ মিনিট কল ছেড়ে চলমান পানিতে মাছ ধুয়ে নিন। পারলে মাছগুলো হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয় এবং ভালোভাবে ধুলে এর পরিমাণ কমে যায়।

রাসায়নিক দূষণের সন্দেহ থাকলে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার খাবেন না। উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করে খান।

সূত্র : নিউজ১৮