খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।

এর আগে ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কনিকা মন্ডল (৩৬) নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রসবব্যথা শুরু হলে গত ২৯ জুন কনিকা মন্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক সংলগ্ন সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে বড় একটি সার্জিক্যাল গজ (মব) রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তাঁর পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তাঁরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জুলাই কনিকা মন্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ঘিরে এখন নজর রয়েছে নিহত কনিকার পরিবারসহ স্থানীয়দের। তবে এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় কার—তা প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরের লোক নিয়ে আসার অজুহাতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। কেবল একঘরে করাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগে এমন সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের। তার তিন ছেলে—তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই গ্রামে প্রথম দফা শালিস বসে। সেদিন কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিসের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হয়। তবে দুই দিনের শালিসেই নিজেদের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে রফিক শেখের ছেলেরা গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে উপস্থিত করেন।

​গ্রামের শালিসে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি সহজভাবে নেননি স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই প্রথম একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পুনরায় সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। ওই দিন রাতেই আব্দুর রফিক শেখের ছোট ছেলে খালিদ শেখকে সামাজিক সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

​ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, “শালিসে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের এনেছিলাম। শুধু এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা সমাজের কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়ছি।”

​অশ্রুসজল চোখে প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, “আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কারও সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।”

​অভিযোগ স্বীকার করে সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, “গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। তাই মহল্লার সবাই মিলে তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পরে আমার কাছে এসেছিল, আমি গ্রামে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি।”

​এ বিষয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার জানান, জমি পরিমাপের সময় তিনি শালিসে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

​ঘটনাটিকে সম্পূন্ন বেআইনি আখ্যা দিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা বেআইনি ও মানবাধিকার বিরোধী। বিষয়টির সত্যতা জেনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।”

সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো. জাফার খানের মেয়ে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফাকে (৬) নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় জান্নাতুল। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখতে পায়, টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে বড় বোন ঝুলছে। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে জান্নাতুলকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বজনদের দাবি, জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।

​মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়। তাকে না পেয়ে মেয়েটি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে।

​চাচাতো ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে রাতে অবস্থান করতে বলেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিরা মেয়েটিকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর সুমন মোল্যা ও ওসমান বেপারী পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

​ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে, তার মা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”