খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভূয়া আইডি খুলে এক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (০১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন পাল তার নিজ এলাকা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছাড়াও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগী রতন পাল বলেন, এক অশুভ চক্র ফেসবুক থেকে ছবি সংগ্রহ করে আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নামে ভূয়া আইডি খুলে গত দুইবছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবান্তর ভাষা ব্যবহার করে আমাদের মানসম্মান নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা অদ্যবধি অনেক সহ্য করে চলেছি। কিন্তু চক্রটি ইদানীং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এজাতীয় ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টের মাধ্যমে অপবাদ দিয়ে আমাদের হয়রানী করার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সমাজে আমাদের মুখ দেখানো লজ্জাস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী রতন পাল বলেন, আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারা ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে অবমাননাকর পোস্ট করেছে, আমরা কিছুই জানি না। এ ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবার দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। যে কোন সময় আমার পরিবারের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের আশঙ্কা করছি। আমাদের অনুরোধ, এই ধরণের ভূয়া ও মিথ্যা অপবাদ কেউ বিশ্বাস করবেন না। এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এসময় এই অশুভ চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, আমরা যখন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেখি, তখন বুঝতে পারি, এটা ভূয়া আইডি। পরে এলাকার মেম্বারসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়াই। এ কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারেনি। তবে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বাহিরের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত তৈরী হয়েছে। সবাইকে বলবো এধরণের গুজব বিশ্বাস করবেন না। আমাদের এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব সময় ছিল, থাকবে। মূল আসামিকে দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হারুন-অর রশীদ বলেন, ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। কারা এমনটা করেছে, সেই তথ্য বের করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য তিতাসের ফরিদপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য তিতাসের ফরিদপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

কক্সবাজারের ​টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য তিতাস শেখের (২৮) বাড়িতে এখন শোকের মাতম। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের এই তরুণ সেনাসদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিতাস শেখের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক বন্ধন রয়েছে। তাঁর বাবা আফজাল শেখ একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন ২০১৭ সালে। সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিতাস, কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।

​আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে তিতাস শেখের বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আটটা আটচল্লিশ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​নিহত সেনাসদস্যের মা রেখা বেগম জানান, গত বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তখন তিতাস তাঁকে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ কিন্তু ছেলের সেই কথাই যে শেষ কথা হবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা আফজাল শেখের চোখ বেয়ে ঝরছে অবিরাম অশ্রু।

​নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে শুক্রবার বিকেলে তিতাসের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

​ছেলের এমন বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে পরিবারটি গর্বিত হলেও তাঁর এই চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না শোকে বিহ্বল স্বজনেরা।

ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদ্রাসার আবাসিক ১১ বছর বয়সী এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাহেদ আলী (৭৭) নামে এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাত ১টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাহেদ আলী। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এক শিক্ষকের বাবা। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

​ঘটনার কয়েক দিন পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানালে, ৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাহেদ আলীকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দীন ফকির।

​আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে আসামি যে অপরাধ করেছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এ রায়ে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে।”

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন নির্বাচিত হয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান।

​ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ২১ জন ভোটারের মধ্যে ১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেকেন্দার শেখ পেয়েছেন ৮ ভোট (১৮টি ভোটের মধ্যে ১৭টি বৈধ)।

​সহ-সভাপতি পদে ১টি ভোটে তাজমিনউর রহমান তুহিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান দুলাল পেয়েছেন ৭ ভোট।

​সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম আজম মনি পেয়েছেন ৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তিনটি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তামিম আহমেদ মিলন। বাকি পদগুলোতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

​নির্বাচন শেষে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি এনায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেন।

​নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ মিলন প্রেসক্লাবের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান জানান, সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।