খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে রমজান ব্যাপী ন্যায্য মূল্যের বাজার শুরু, ক্রেতাদের স্বস্তি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ৬:৩৯ পিএম
ফরিদপুরে রমজান ব্যাপী ন্যায্য মূল্যের বাজার শুরু, ক্রেতাদের স্বস্তি
প্রতিবছর রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে অস্বস্তিতে পড়তে হয় সাধারণ ক্রেতাদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে নিভৃতে কাঁদে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রমজান মাসব্যাপী শুরু হয়েছে ‘ন্যায্য মূল্যের বাজার’। যেখানে মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সকল ধরনের নিত্যপণ্য মিলবে সাশ্রয়ী মূল্যে। এমন আয়োজন চলবে প্রতিটি উপজেলাতেও।
রোববার (০২ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে ফরিদপুর জেলা শহরের আলীপুর হাসিবুল লাবলু সড়ক সংলগ্ন পরিত্যাক্ত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্ত্বরে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।
এ সময় পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই চত্ত্বরে বসেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের পশরা। যেখানে দেখা যায়, গরুর মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম, দুধ, ফল ও সবজির দোকান। এছাড়াও বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। এমন আয়োজনের খবরে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্য মূল্যে বাজার শেষে স্বস্তির কথা জানান তারা।
এই বাজার থেকে এক কেজি গরুর মাংস ৬৮০ টাকা ক্রয় করেন সিলভী জামান নামে এক নারী ক্রেতা। তিনি জানান, বাজারে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখানে এসে মাত্র ৬৮০ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। এখানে সবকিছুই স্বাচ্ছন্দে কিনতে পেরেছি। এটি আমাদের মতো মানুষের জন্য খুবই ভাল উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানোর যোগ্যই।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি সোনালী মুরগি ২৯০ টাকা, বেগুন ৩০, সিম ৩০, তরমুজ ৬৫, প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকা, খেজুর প্রকার ভেদে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি পণ্য অন্যান্য বাজারের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কম মূল্যে বিক্রি করতে দেখা যায়।
মনিরুজ্জামান রনি নামে আরেক ক্রেতা বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে জেলা প্রশাসন সুন্দর ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। এখানে সবকিছুই বাজারের তুলনায় কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের সাধ্যের মধ্যে এখানে মাছ, মাংস থেকে সব কিছু কিনতে পারব।
এসবের পাশাপাশি জেলা খাদ্য অফিস কর্তৃক সেখানে বসেছে সরকার পরিচালিত ওএমএস দোকান। যেখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ক্রেতার মাঝে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল ও আটা বিক্রি করা হবে বলে ব্যানারে টাঙানো দেখা যায়।
এমন উদ্যোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা জানান, পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ভোক্তাদের স্বস্তি দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ থেকে শুরু হয়েছে ন্যায্য মূল্যের বাজার। জেলা শহরের বাইরেও প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে বাজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্যে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রমজান মাস যে আত্মশুদ্ধির মাস সেই বার্তা ব্যবসায়ীদের পৌঁছে দেয়া।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।