খুঁজুন
, ,

ভোটের পর নতুন সরকারের সামনে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভোটের পর নতুন সরকারের সামনে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ?

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সাথে সাথে আলোচনায় আসতে শুরু করেছে যে ভোট পরবর্তী নতুন সরকারের জন্য কোন কোন বিষয়গুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ব্রাসেলস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক নিবন্ধে নতুন সরকারের জন্য অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ‘আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার মতো জটিল বিষয়’।

অবশ্য সংস্থাটি এটিও বলছে যে, নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণে সমস্যা সমাধানে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিতে পারবে।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণটা এবং এটি করতে যে রাষ্ট্র বা সরকারের সক্ষমতা আছে প্রাথমিকভাবে সেটি প্রমাণ করাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ইস্যু ছাড়াও ভারতের সাথে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক চাপ সামলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নেওয়াটাই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ক্রাইসিস গ্রুপের দিক থেকেও নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলোর তালিকায় এসব ইস্যু ঠাঁই পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে দৃশ্যত মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে বিএনপি জোট ও জামায়াতে ইসলামীর জোটের মধ্যে এবং দুই জোটই ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করেছে।

যেসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে ক্রাইসিস গ্রুপ

ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র কনসালট্যান্ট টোমাস কিনের একটি নিবন্ধ সোমবার প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সামগ্রিক চলমান ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

এই নিবন্ধেই তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সম্ভাব্য যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তার একটি ধারণা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বেশ কয়েকটি কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট বাংলাদেশকে শুধু সাংবিধানিক কাঠামোতেই ফেরাবে না, বরং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সত্যিকার জনরায়ের ভিত্তিতে একটি সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।

“দুর্বল প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ধীরগতির অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবসহ একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ নতুন প্রশাসনকে মোকাবেলা করতে হবে। তাকে সামলাতে হবে ভারতের সাথে সম্পর্কের ইস্যুসহ যুক্তরাষ্ট্র চীন প্রতিযোগিতার প্রভাব ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ জটিল পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক,” ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে।

টোমাস কিন লিখেছেন, হাসিনার পতনের পর হিযবুত-তাহরিরের মতো উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এদের মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আছে।

তার মতে, নির্বাচনের পরে নতুন সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার জটিল ইস্যুও মোকাবেলা করতে হবে, কারণ ইতিহাস ও শক্ত ভোট ভিত্তির কারণে আওয়ামী লীগকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব নয়।

“২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দলের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন নেতৃত্বের অধীনে হলেও আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আওয়ামী লীগের কোনোভাবে প্রত্যাবর্তনের শর্ত নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠলে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে”।

টোমাস কিন লিখেছেন, তিনি মনে করেন এটি করতে হলে আওয়ামী লীগকে আগে সহিংসতার জন্য অনুশোচনা করতে হবে, যা করতে শেখ হাসিনা এখনো অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

তবে এক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছাতে ভারত ও অন্য বিদেশি প্রভাবশালী সরকারগুলো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, দেশের তরুণদের আশা পূরণে ব্যর্থতার কারণে আগামী বছরগুলোতে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি আসতে পারে।

এগুলোই প্রধান চ্যালেঞ্জ?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, নতুন প্রশাসনের সামনে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একই সাথে দেশ শাসন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে পুরনো সংস্কৃতির পরিবর্তন করে ভিন্নতাটা তুলে ধরে জনমনে আস্থা অর্জন করাই হবে নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

“কর্তৃত্ববাদ পরবর্তী সময়ে মবসহ আইন শৃঙ্খলার যে অবস্থা তৈরি হয়েছে সেই বিবেচনায় আইন শৃঙ্খলা ঠিক করা এবং রাষ্ট্র ও সরকার যে সেটি করতে সক্ষম সেই আস্থা জনমনে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ তাদের থাকবে,” বলেছেন তিনি।

ক্রাইসিস গ্রুপের নিবন্ধেও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা খাতে সংস্কার প্রায় অগ্রগতি পায়নি এবং পুলিশ বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা ফেরেনি।

এছাড়া পুলিশের দুর্বল অবস্থানের কারণে মব সন্ত্রাস, বিশেষ করে দল বেঁধে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা বেড়েছে। র‌্যাব, ডিজিএফআইয়ের মতো সংস্থাগুলোতে সংস্কার হয়নি বলে ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশটির অন্তত তিনটি মানবাধিকার সংগঠন ২০২৫ সালের অর্থাৎ গত এক বছরের যে মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাস বছর জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

এসব সংগঠন বলছে, ২০২৫ সাল জুড়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক ভিন্ন আদর্শের মানুষ এবং মাজার, দরগা ও বাউলদের ওপর হামলা, নিপীড়নের ঘটনা ক্রমাগত বাড়লেও এর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও মবের মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাতেও সরকারের দিক থেকে কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা, পুলিশ, সচিবালয়সহ কোথাও কোন চেইন অব কমান্ড নেই।

“এ বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তিটাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন জায়গায় কিছু ব্যক্তি দানব হয়ে ওঠেছে এবং তারা যা খুশী করছে। দেখার বিষয় হবে পরবর্তী সরকার কিভাবে এটি মোকাবেলা করে,” বলেছেন মি. রহমান।

এবার সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোটও হবে সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে। ফলে নির্বাচনে যারাই জিতবেন তারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, সংসদে আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রপরিচালনা- এই তিন ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে অতীতের সরকার ও রাজনীতির যে সংস্কৃতি সেটির পরিবর্তে জনপ্রত্যাশা পূরণে কতটা ভিন্নতা তারা দেখাতে পারেন সেটিও নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন ডঃ ইফতেখারুজ্জামান।

তবে ক্রাইসিস গ্রুপের নিবন্ধে আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমঝোতার যে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে ডঃ ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, নতুন সরকারকে প্রতিবেশী ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আওয়ামী লীগের নিজের পদক্ষেপের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হবে।

ইতোমধ্যেই ঢাকায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজার দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আসা এবং পরে ভারতের লোকসভায় মিসেস জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশকে – ভারত সরকারের দিক থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহের একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।

“আওয়ামী লীগের ইস্যুটি দলটির নিজের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। পাশাপাশি বড় প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের বিষয়টিও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে,” বলছিলেন ডঃ ইফতেখারুজ্জামান।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চ্যালেঞ্জ যেমন নিতে হবে, তেমনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রভাবশালী কিছু দেশ যেভাবে চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে নতুন সরকারকে সেটিও সামলাতে হবে।

“স্থবির ব্যবসা বাণিজ্যকে সচল করা এবং পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চ্যালেঞ্জও নতুন সরকারকে নিতে হবে,” বলছিলেন মি. রহমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

‘যোগ্য গাইড, যোগ্য নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্প-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য ‘মহা তাঁবু জলসা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, তাঁর সহধর্মিনী ফারজানা খান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল, বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেহেনা জাহান রানি, উপজেলা কমিশনার মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

​এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁবু জলসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা গাইডিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, অনুশাসন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী গার্ল গাইডদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ পুরো গাইড ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।

​হালিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা রেহেনা প্রিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে ফরিদপুর সদরসহ জেলার ৯টি উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের মোট ১৭৫ জন গার্ল গাইড সদস্য অংশ নেয়।

মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা: বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

নিকোলাস বিশ্বাস
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা:  বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

সীমানা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গণ্ডি অতিক্রম করে নিঃস্বার্থ মানবসেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাস এ পৃথিবীতে বিরল নয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের দীর্ঘ কয়েক দশকের নীরব ত্যাগ ও আত্মনিবেদন সেই ইতিহাসকে এক অনন্য ও মহিমান্বিত উচ্চতায় উন্নীত করেছে।

দক্ষিণবঙ্গের ঝোড়ো উপকূলীয় অঞ্চলের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মারোগী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সমতলের সাঁওতাল সম্প্রদায় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু -এদেশের অবহেলিত, চরম শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে এই ইতালীয় ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসিনীরা দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায় ও পরম অভিভাবকত্বে। সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা কর্তৃক দুই নিবেদিতপ্রাণ ইতালীয় মিশনারি – সিস্টার রবার্টা পিনিওনে (Sister Roberta Pignone) এবং ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (Father Pietro Luigi Lupi) -কে ইতালির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নাইট সম্মাননা ‘Cavaliere dell’Ordine della Stella d’Italia’ (অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইতালি) -তে ভূষিত করা কেবল তাঁদের ব্যক্তিসত্তার অনন্য মূল্যায়ন নয়; বরং এটি বাংলাদেশে তাঁদের যুগের পর যুগ ধরে চলা পালকীয়, চিকিৎসাসেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। এ স্বীকৃতি ক্যাথলিক মণ্ডলীর সেবাকে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সমগ্র ইতালীয় সম্প্রদায়ের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব।

এটি ইতালির একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। বিদেশে ইতালির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং অন্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যখাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলাদেশের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিস্টার রবার্টা পিনিওনের অবদান এক মহাকাব্যিক ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ‘মিশনারি সিস্টার্স অব দি ইমাকুলেট’ (বাংলাদেশে এরা পিমে সিস্টার্স – PIME Sisters নামে পরিচিত) ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী সংঘের এই উৎসর্গীকৃতপ্রাণ পেশায় একজন দক্ষ চিকিৎসক। তিনি মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয়, দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবায় নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন। খুলনা ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ড্যামিয়েন হাসপাতালের (Damien Hospital) প্রকল্প পরিচালক এবং একমাত্র সার্বক্ষণিক চিকিৎসক হিসেবে সিস্টার রবার্টা পিনিওন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুষ্ঠ (Leprosy), যক্ষ্মা (TB) এবং এইচআইভি/এইডস (AIDS) আক্রান্ত চরম সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার রোগীদের জন্য এই ড্যামিয়েন হাসপাতালটিই হলো একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। সিস্টার রবার্টা এখানে ৩৩ শয্যার মূল হাসপাতালটি দক্ষতার সাথে পরিচালনার পাশাপাশি আরো ৩টি গ্রামীণ ক্লিনিক এবং ১৫টি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তদারকি করেন। শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে নিজের সেবাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি খুলনার ভয়াবহ ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর দরজায় দরজায় ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা যেন সামাজিক কুসংস্কার, ছোঁয়াচে ভয় ও বৈষম্যের শিকার হয়ে পরিবারচ্যুত না হন, সেই লক্ষ্যে তাঁর নিরলস মানসিক ও সামাজিক সংগ্রাম চিকিৎসা খাতকে অতিক্রম করে এক মানবিক ও রূপান্তরকামী আন্দোলনে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (যাঁকে এদেশের মানুষ ভালোবেসে ফাদার লুপি নামে ডাকেন) এক নীরব অথচ গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। ইতালীয় ক্যাথলিক সংঘ ‘জ্যভেরিয়ান ফাদার্স’ (Xaverian Fathers) -এর সম্মানিত পুরোহিত এবং বাংলাদেশে এই সংঘের সাবেক আঞ্চলিক সুপিরিয়র (Regional Superior) হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদেশের দরিদ্র, অসহায় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের চরম অবহেলিত ও প্রান্তিক ‘দলিত’ (Dalit) সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে ফাদার লুপির দূরদর্শী ভূমিকা অসাধারণ। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় স্থানীয় দলিত যুবকরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের আইনি ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দলিত’ নামক শক্তিশালী এনজিও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেবল গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই নয়, ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন নোংরা ও বিপজ্জনক বস্তি এলাকার ছিন্নমূল শিশুরা যেন কঠোর শিশুশ্রম ও অপরাধের অন্ধকার জগতে না হারিয়ে শিক্ষার আলো পায়, তার জন্য তিনি সমন্বিত স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবানের লামার মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাদানে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া অমানবিক পরিস্থিতির শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা সুনিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাঁদের আর্তপীড়িত কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও ফাদার লুপি নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্যেও তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রেমের ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক দশকগুলোর ঘটনাবলী নয়; এর রক্তের ও আত্মার শক্ত শেকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের ১৯৭১ সালের গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক বর্বরতা ও গণহত্যার মুখে জ্যভেরিয়ান (Xaverian) এবং পিমে (PIME) Missions -এর ইতালীয় পুরোহিতগণ নিজেদের গির্জা, মিশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে চরম প্রাণভয় উপেক্ষা করে এলাকার ভীত-সন্ত্র্যস্থ আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থানে পরিণত করেছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষভাবে ফাদার মারিনো রিগন আমাদের বানিয়ারচর ধর্মপল্লীতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আশ্রয়ে রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন ও নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ মানবিক অবদান ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার জ্যভেরিয়ান মিশনারি ফাদার মারিনো রিগনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ (Friends of Liberation War Honour) প্রদান করে।

ফাদার মারিনো রিগন ছিলেন এদেশের ইতালীয় মিশনারিদের মধ্যে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও মানবসেবার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছিলেন আপন হৃদয়ে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে তিনি বিশ্ব দরবারে বাঙলা সাহিত্যকে নতুন করে তুলে ধরেছিলেন। এ অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অনন্য সম্মানসূচক নাগরিকত্ব (Honorary Citizenship) প্রদান করে। ২০১৭ সালে তিনি ইতালিতে মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল এই প্রিয় বাংলার মাটিতেই শায়িত হওয়ার। সেই আকুল ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগে তাঁর মরদেহ ইতালির রোম থেকে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাঁওতাল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভূমি অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে ফাদার পাওলো চিচেরি সহ বহু ইতালীয় পিমে (PIME) মিশনারির ঐতিহাসিক ভূমিকা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় পর্যায়ে সবসময় ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে। এই মহান ত্যাগের বার্তা শুধু সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মেলবন্ধনের এক পরম শিক্ষা। বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সিএসসি যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও ভুল ধারণা দূর করতে খ্রিস্টানদের সম্প্রীতির সেতু হিসেবে কাজ করা অপরিহার্য। আন্তধর্মীয় সংলাপ ও প্রত্যক্ষ ভালোবাসার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্কই সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন বৈশ্বিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা ও বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা বিস্তার লাভ করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ইতালীয় মিশনারিদের আত্মত্যাগী জীবন আমাদের নতুন করে শেখায় যে – প্রকৃত মানবধর্ম কোনো ভৌগোলিক সীমানা, জাতীয়তা বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিস্টার রবার্টা ও ফাদার লুপির মতো দূরদর্শী সাধকেরা এদেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক রূপান্তর সূচকে যে নীরব অবদান রেখে চলছেন, তা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল শক্তিস্বরূপ। এ সম্পর্ক কেবল ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত নয়, বরং এটি গঠিত হয়েছে রক্তের, মমতার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক ইস্পাতকঠিন ভিতের ওপর। বাংলাদেশের এই নিভৃত আলো ছড়ানো বিদেশি বন্ধুদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রিল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক। যোগাযোগ: gonomaddzam@gmail.com  

ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এ বি মুস্তাফিজুর রহমান।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চললেও তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে এই পেশা বন্ধের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

​অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

​দলিল লেখক সমিতির মূল দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, ​প্রতি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ, ​লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও তৈরি দলিল দাখিলের সুযোগ বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি, ​বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স না দেওয়া, ​থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে বসার ব্যবস্থা ও প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ, ​পেশাগত কাজের কারণে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দ্রুত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি প্রদান।