খুঁজুন
, ,

স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদর্শ বনাম বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতা

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ
স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদর্শ বনাম বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতা

কিছুদিন আগে পারিবারিক ছুটি কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম। দ্বিতীয়বারের মতো দাঁড়ালাম স্ট্যাচু অব লিবার্টির সামনে। দূর থেকে দেখা সেই বিশাল অবয়ব, আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরা মশাল আর হাতে ধরা ফলক—সবকিছুই পরিচিত, অথচ এবার যেন নতুন করে দেখলাম। পর্যটকের চোখে নয়, একজন লেখকের চোখে।

মশালটির দিকে তাকিয়ে মনে হলো—এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; এটি একটি আদর্শের প্রতীক। স্বাধীনতা, মর্যাদা, গণতন্ত্র, আশা—সময়ের সঙ্গে এই শব্দগুলো স্ট্যাচু অব লিবার্টির অর্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই আদর্শের পাশে দাঁড়িয়ে বর্তমানের আমেরিকাকে দেখলে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে—আজকের অভিবাসন বাস্তবতার সঙ্গে স্ট্যাচু অব লিবার্টির বহন করা সেই মানবিক আদর্শের কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকাতে হয়।

স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন। ফরাসি ভাস্কর ফ্রেদেরিক অগুস্ত বারথোলদি এর নকশা করেন এবং ১৮৮৬ সালে নিউইয়র্ক হারবারে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অর্থাৎ, এর মূল ঐতিহাসিক ভাবনা ছিল স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আদর্শকে উদ্‌যাপন করা; শুরু থেকেই এটি কেবল অভিবাসীদের জন্য নির্মিত কোনো স্মৃতিস্তম্ভ ছিল না।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্ট্যাচু অব লিবার্টির অর্থ আরও বিস্তৃত হয়। ১৮৮৩ সালে কবি এমা ল্যাজারাস লেখেন তার বিখ্যাত কবিতা The New Colossus। ১৯০৩ সালে কবিতাটির অংশ স্ট্যাচুর পাদদেশে স্থাপিত ফলকে যুক্ত করা হয়। কবিতায় স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে ‘Mother of Exiles’—অর্থাৎ নির্বাসিত ও আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতীকী আশ্রয়দাত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয়। একই সময়ে কাছের Ellis Island হয়ে ওঠে অভিবাসীদের প্রবেশ ও যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ধীরে ধীরে স্বাধীনতার পাশাপাশি অভিবাসন, আশ্রয়, সুযোগ ও নতুন জীবনের প্রত্যাশার এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে নিউইয়র্ক বন্দরে আসা অসংখ্য অভিবাসীর কাছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ছিল আমেরিকায় পৌঁছানোর প্রথম দৃশ্যমান প্রতীক। তাদের কাছে উঁচিয়ে ধরা মশালটি শুধু আলো ছিল না—ছিল নতুন জীবনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। তবে সেই অভিজ্ঞতাও সব মানুষের জন্য এক ছিল না। Ellis Island ছিল কারও কাছে ‘Island of Hope’, আবার কারও জন্য ‘Island of Tears’; কারণ সবাইকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো না। এই ইতিহাসই বর্তমানের প্রশ্নটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

আজকের যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী সার্বভৌম রাষ্ট্র। তার নিজস্ব সীমান্ত, নিরাপত্তা ও অভিবাসননীতি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, ভিসা জালিয়াতি, সন্ত্রাসবাদ বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিতেই পারে। তাই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে মানবিকতার বিরোধিতা হিসেবে সরলীকরণ করা ঠিক হবে না। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, রাষ্ট্রের নীতির মানবিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও সমাজের আছে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় নানা ধরনের কঠোরতা, প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা এবং বাড়তি যাচাই-বাছাই দেখা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা ও প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, সীমান্তনিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ভিসাপ্রার্থীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই—এসবই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের যুক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

কিন্তু এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়, সেটিও উপেক্ষা করার নয়। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান কিংবা উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকে, তাদের কাছে প্রবেশের প্রক্রিয়া যখন আরও কঠিন ও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, তখন স্ট্যাচু অব লিবার্টির প্রতীকী বার্তাটিও নতুন করে আলোচনায় আসে।

একদিকে মশাল বলছে স্বাধীনতা, আশা ও সম্ভাবনার কথা; অন্যদিকে অভিবাসন বাস্তবতা বলছে সীমান্ত, যাচাই, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তার কথা। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে দূরত্বটিই কি আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়? তবে এই প্রশ্নের অর্থ আমেরিকাকে অভিযুক্ত করা নয়।

কারণ আমেরিকার বাস্তবতা একমাত্র অভিবাসননীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষও দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জ্ঞান, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আমেরিকার এই বহুমাত্রিক সাফল্যকে অস্বীকার করে স্ট্যাচু অব লিবার্টির অর্থ বোঝা সম্ভব নয়।

বরং প্রশ্নটি আরও গভীর। একটি রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা রক্ষা করবে—এটি যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি তার ইতিহাস ও প্রতীক যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, সেগুলোর সঙ্গেও একটি নৈতিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা কি জরুরি নয়?

স্ট্যাচু অব লিবার্টির সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই। এটি কোনো নিখুঁত পৃথিবীর ঘোষণা নয়; বরং একটি আদর্শের স্মারক। তার মশাল আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের সীমানা থাকতে পারে, নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকতে পারে, আইন ও নিয়ম থাকতে পারে; কিন্তু সেই সবকিছুর মধ্যেও মানুষের মর্যাদা, ন্যায় ও আশার জায়গাটি যেন হারিয়ে না যায়।

নিউইয়র্ক থেকে ফিরে তাই স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে আমার কাছে শুধু একটি দর্শনীয় স্থাপনা মনে হয়নি। মনে হয়েছে, এটি যেন আমেরিকার ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমানের প্রতিও একটি নীরব প্রশ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে—স্বাধীনতার যে আলো পৃথিবীকে দেখানোর জন্য মশালটি জ্বালানো হয়েছিল, সেই আলো কি আজও সবার জন্য সমানভাবে দৃশ্যমান?

এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া সহজ নয়। কারণ অভিবাসনের বাস্তবতা যেমন জটিল, তেমনি একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবিক দায়বদ্ধতার ভারসাম্যও সহজ নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু তার অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা সামরিক সক্ষমতায় নয়; তার মূল্যবোধ কতটা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়, তার মধ্যেও সেই শক্তির পরিচয় থাকে।

স্ট্যাচু অব লিবার্টির মশাল তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়—এটি বর্তমানের জন্যও এক আলোকচিহ্ন। সেই আলো যেন স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, ন্যায় ও আশার পথকে আরও উজ্জ্বল করে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”