খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল : সালথায় মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নুরুল ইসলাম, সালথা-নগরকান্দা, ফরিদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:১৫ পিএম
বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল : সালথায় মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মাহিন্দ্রা (থ্রি হুইলার) গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবিতে সালথা-ফরিদপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় পরাপর দুই জন শিক্ষক নিহত ও দুই জন পঙ্গু হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সালথা-ফরিদপুর সড়কের মেম্বার গট্টি এলাকায় এই বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় সড়কের দুই পাশে গাছের গুড়ি ও বাঁশ ফেলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী, সালথা থানার ওসি মো. আতাউর রহমান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ইউএনওর কাছে বেশ কয়েকটি দাবি-দাওয়া তুলে ধরে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য রাখে শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান, শাহিন খা, সাকিবুল ইসলাম, সজিব শেখ, তুহিন হাসান, মাইমুনা সুলতানা, মারজিয়া ও রাদিয়া আক্তার।
তারা বলেন, শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে মাহিন্দ্র গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা বেগম নিহত হন। এর আগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এসকেন্দার আলী মারা যান। এ ছাড়া সম্প্রতি মাহিন্দ্রা দুর্ঘটনায় খারদিয়া মিয়া মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে তার পা কেটে ফেলা হয়। একইভাবে ভাওয়াল সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান পঙ্গু বরণ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সালথা-ফরিদপুর সড়ক মাহিন্দ্রা গাড়ি দখল করে নিয়েছেন। এই গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। অদক্ষ ও নেশাগ্রস্ত ড্রাইভাররা মাহিন্দ্রা গাড়ি চালাচ্ছেন। এমনকি শিশুদের হাতে মাহিন্দ্র গাড়ি তুলে দিচ্ছে পরিবার। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অনেকে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছে। এমন অবস্থায় আমরা এই সড়কে আর  মাহিন্দ্র গাড়ি চালাতে দেব না।
সালথা-ফরিদপুর সড়কে বাস চালু করার জন্য তিন দিনের আল্টিমিটাম দিয়ে বলেন, সালথা-ফরিদপুর সড়কে মাহিন্দ্রা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে নতুন করে বাস চালু করার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি মাহিন্দ্রা বন্ধ করে দিয়ে বাস চালু না করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, শিক্ষার্থীরা সালথা-ফরিদপুর সড়কে মাহিন্দ্রা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে বাস চালুর দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিল। খবর পেয়ে ওসিসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং এর একটা সমাধান করে দেব।
তিনি বলেন, পাশাপাশি বাস চালু করার বিষয় মালিক সমিতির সাথে যোগাযোগ করা হবে। আশা করি, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ হবে।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।