খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

বিপ্রতীপ

জুয়েল দেব
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ১০:৩২ এএম
বিপ্রতীপ

আমি আর অংশৈলুক দাঁড়িয়ে আছি থুইসাপাড়ার একদম শেষপ্রান্তে। ঢালু জায়গাটা শেষ হয়েছে রেমাক্রি নদীতে গিয়ে। মাঝরাত পেরিয়ে গেছে। অংশৈলুকের চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে এত রাত অবধি জেগে থাকতে সে অভ্যস্ত নয়। মাথার উপর চাঁদটা বিশাল এক গোলাকার বাতির মত ঝুলে রয়েছে। জোছনায় পাহাড়কে ভেজা ভেজা মনে হয়।

থুইসাপাড়া পর্যন্ত পৌঁছার জন্য আমাদের হাঁটতে হয়েছে পুরো বারো ঘন্টা। থানছি থেকে পদ্ম ঝিরি হয়ে আমরা যখন হাঁটতে শুরু করলাম তখন বিকাল চারটার মত বাজে। ঘন্টাখানেক পরেই সূর্যটা হারিয়ে গেল পাহাড়ের ওপাশে। আমরা হাঁটুসমান পানিতে ঝিরিপথ ধরে হেঁটে চলেছি।
পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে হয় পিঁপড়ার মত সারিতে। একজনের পেছনে আরেকজন। হাঁটতে শুরু করার দু’ঘন্টা পরেই রাজেশদা বসে গেলেন। একটা খাড়া পাহাড়ের মাঝ বরাবর এসে তিনি আমাদের বললেন, ‘তোরা চলে যা। আমি আর হাঁটতে পারছি না।’
সামনে পেছনে যেদিকে তাকাই শুধুই পাহাড়। কাউকে কোথাও ফেলে যাওয়ার উপায় নেই। আমরা বসে ঘন্টাখানেক জিরিয়ে নিলাম।
পাহাড় ধরে আমাদের হাঁটা শেষ হয় না। মধ্যরাতে পাহাড়ি রাস্তায় আমরা যখন হেঁটে চলেছি মাথার ওপর তখন বৃষ্টির মত ঝরে পড়ছে জোছনা। নরম আলোয় সবকিছু অপার্থিব লাগে। পাহাড় শেষ হয়ে গিয়ে আবার ঝিরিপথ শুরু হয়। পিচ্ছিল পাথরের উপর আমরা একেকজন ধুপধাপ শব্দে আছাড় খেয়ে পড়ি। আমাদের সাতজনের দলটি কাদামাটি মেখে মোটামুটি ভূত হয়ে গেছি।
থুইসাপাড়াতে যখন পৌঁছলাম তখন রীতিমত ভোর হয়ে গেছে। ঝগড়–র বাড়িতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে আমার মনে হল অংশৈলুককে খুঁজে বের করতে হবে। দশ বছর আগে দেখেছি। এখন দেখে চিনতে পারব কিনা কে জানে!
আমাদের আসার খবর পেয়ে অংশৈলুকই আমাদের খুঁজে বের করল। পরদিন সন্ধ্যায় সে আমাদের ঘরের দরজায় এসে হাজির। আমি তাকে দেখে একদমই চিনতে পারলাম না। তাগড়া শরীর, পেটানো স্বাস্থ্য। যেন নিয়মিত ব্যায়াম করে। চেহারায় একটা ভারিক্কী ভাব এসেছে। পরনে জিন্সের প্যান্ট আর হাতে দামী ঘড়ি। দেখে বোঝা যায় অংশৈলুকের জীবনে পরিবর্তন এসেছে।
আমি ঘর থেকে বের হয়ে এসে অংশৈলুকের সামনে দাঁড়াই। এই তাগড়া যুবককে কী বলে সম্বোধন করব ভেবে পাই না। আমি কথা খুঁজে না পেয়ে বলি, ‘আমাকে চিনতে পেরেছ?’
অংশৈলুক হাসে, ‘চিনতে পারব না কেন দাদা! আপনাদের সবাইকে আমি চিনতে পেরেছি। আপনারা এসেছেন শুনে দেখা করতে ছুটে এলাম।’
অংশৈলুকের হাসি মাখা মুখ দেখে আমার কোন সংশয় থাকে না। সময়ে মানুষের সবকিছু বদলায়, কিন্তু হাসিটা বদলায় না। যে হাসতে পারে, সে সারাজীবন একইভাবে হাসতে পারে।
অংশৈলুককে বলি, ‘তুমি তো বড় হয়ে গেছ। কী করছ এখন?’
অংশৈলুক আবারও হাসে, ‘কী যে বলেন দাদা! বয়স বেড়েছে না! আমি একটা দোকান চালাই। দোকানটা পাড়ার একদম শুরুতে। আশেপাশের দু’চারটা পাড়ার মধ্যে আমার দোকানের মত আর কোন দোকান নেই। এখন তো সারাবছর ধরেই অনেক পর্যটক আসে এখানে। আপনাদের আশীর্বাদে বেচাকেনা ভালোই হয়।’
আমি অংশৈলুকের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। দশবছর কত দীর্ঘ সময়! এর মধ্যে রেমাক্রি নদী ভরা বর্ষায় যৌবনবতী হয়েছে দশবার। পিচ্ছিল পাথরগুলো দশবার শুকিয়েছে জ্যৈষ্ঠের খড়খড়ে রোদে। দশ বছর আগে অংশৈলুক ছিল সদ্য কৈশোর পার করা এক টগবগে তরুণ। বাংলা ভাষাটা ঠিকমত বলতে পারত না। আধো আধো বাংলায় যা বলত আমরা তা কষ্ট করে বুঝে নিতাম।
থুইসাপাড়াতে এসে আমরা ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। আশেপাশে অনেকগুলো ঝর্ণা আর জলপ্রপাত রয়েছে। কিন্তু পরিচিত কেউ ছাড়া সেগুলো আমাদের পক্ষে খুঁজে বের করা সম্ভব না।
সাঈদ ভাই অংশৈলুককে দেখতে পেয়ে তাকে আটকালেন, ‘এই ছেলে, তুমি অমিয়াখুম চেন?’
অংশৈলুক মাথা নাড়তেই সাঈদ ভাই আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদেরকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে? তোমাকে আমরা টাকা দেব।’
অংশৈলুকের চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে ওঠে। সে একদৌড়ে কোথায় যেন চলে যায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি একটু পরেই হাতে একটা চকচকে ধারালো দা নিয়ে সে আবার ফেরত এসেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে আধো আধো বাংলায় বলল, ‘আমার পেছনে পেছনে হাঁটেন।’
পাহাড়ের সরু পথ ধরে অংশৈলুকের পেছনে হাঁটতে হাঁটতে আমি আবিষ্কার করলাম এই ছেলে তার দুই হাতকে একদম স্থির রাখতে পারে না। আশেপাশে যা দেখে তাতেই দা দিয়ে কোপ মারে। কখনো বাঁশঝাড়ে কোপ মারে, কখনো গাছের গায়ে কোপ মারে। আশেপাশে কিছু না থাকলে সাঁই সাঁই করে শূন্যে দা চালায়।
আমি কিছু না ভেবেই অংশৈলুককে বলি, ‘তুমি বিয়ে করেছ?’
অংশৈলুক হেসে মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, ‘হ্যাঁ একমাস হয়ে গেছে।’
আমরা সবাই অবাক হয়ে গেলাম। এতটুকুন একটা ছেলে একমাস আগে বিয়ে করে ফেলেছে। আমি খুব কৌতূহল বোধ করি। রাজেশদা বলেন, ‘তোমার বিয়ে কীভাবে হয়েছে? কোন অনুষ্ঠান করতে হয়নি?’
অংশৈলুক এবার লাজুক হাসে, ‘আমি টিঙরিকে বলেছি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ উঠলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আস্তে আস্তে পাড়ার শেষ মাথায় আসতে। আমি গিয়ে ওকে নিয়ে আসব।’
আমি হেসে বলি, ‘টিঙরির সাথে বুঝি তোমার আগে থেকেই ভালোবাসা ছিল?’
অংশৈলুক লজ্জা পায়। মাথাটা নিচু করে বলে, ‘হ্যাঁ আমি তো ওদের পাড়ার উপর দিয়ে পাহাড়ে যেতাম পাখি মারতে। তখন কয়েকবার দেখেছি। তারপর একদিন ওকে দেখলাম রেমাক্রি নদী থেকে স্নান করে পাড়াতে ফিরছে।’
আমার কৌতূহল কমে না, ‘তখন তুমি তাকে ভালোবাসার কথা বলেছ?’
অংশৈলুকের তামাটে মুখটা কেমন যেন রক্তবর্ণ হয়ে যায়, ‘তাকে বলেছি ও যদি আমাকে বিয়ে না করে তাহলে সামনের উঁচু পাহাড়টাতে উঠে লাফিয়ে পড়ব রেমাক্রি নদীতে। শক্ত পাথরের উপর পড়লে থেঁতলে যাবে পুরো শরীর। তখন লাশটা ভেসে যাবে সাঙ্গু পর্যন্ত।’ অংশৈলুক একটু দম নিয়ে বলে, ‘এরপর সাঙ্গু নদী কোথায় গেছে সেটা আমিও জানি না, টিঙরিও জানে না। তাই লাশ কতটুকু পর্যন্ত যাবে সেটা আর বলতে হয়নি।’
অংশৈলুকের কথা শুনে আমরা সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠি। আমরা থামতেই অংশৈলুক বলে, ‘তখন টিঙরি আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বলল, আমি তাকে নিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।’
রাজেশদা আবার কথা বলেন, ‘তুমি তো বললে না টিঙরিকে কীভাবে নিয়ে এসেছ!’
অংশৈলুক একমনে হাঁটতে থাকে। একবারও পেছন ফিরে তাকায় না। হাঁটতে হাঁটতেই সে বলে, ‘আমি আমার পাড়ার কয়েকজনকে নিয়ে ওদের পাড়ার মাথা পর্যন্ত যাই। টিঙরি দৌড়ে আমার কাছে চলে আসে।’
আমি আবার কৌতূহলী হই, ‘কেউ তোমাদের আটকায় নি?’
অংশৈলুক বলে, ‘ওদের পাড়ার যুবক ছেলেরা তো সবসময় পাহারা দেয়। ধরতে পারলে ওদেরকে তিরিশটা শুয়োর দিয়ে পরব খাওয়াতে হত। আমাদেরকে ধরতে পারেনি। আমার তাই শুয়োর কেটে খাওয়াতে হয়নি। তাছাড়া আমি গরীব মানুষ। ধরলেও কিছু করার ছিল না। আমার তো একটা শুয়োর কেনার মত পয়সাই নেই।’
নোমান ভাই বললেন, ‘আমরা তিন চারদিন এখানে ঘুরে বেড়াব। পাড়াতে ফিরব না। আমরা এখানে ক্যা¤িপং করব। তুমি তো ঘরে নতুন বউ রেখে এসেছ। আমাদের সাথে থাকতে পারবে, নাকি পাড়াতে ফিরে যাবে?’
অংশৈলুক হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়। একটুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অনেক দূরে হাতছানি দেয়া কেওক্রাডং-এর দিকে। তারপর আবার হাঁটতে হাঁটতে বলে, ‘বউ তো সারাজীবন থাকবে। কিন্তু ঘরে আমার ভালো লাগে না। পাহাড়ের মধ্যে কী যেন একটা আছে। পাহাড় ধরে হেঁটে বেড়াতে আমার ভালো লাগে। নতুন কোন ঝর্ণা দেখলে বুকের মধ্যে ধুকপুক করে।’
অংশৈলুকের কথা শুনে আমরা সবাই চুপ করে থাকি। কেমন এক ঝিম ধরা অলস দুপুর। বিচিত্র রঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে চারপাশে। এর মধ্যে আমরা হেঁটে চলেছি। আমার কাছে মনে হতে লাগল এই সরু পথ শেষ হয়েছে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে।
আমি নীরবতা ভেঙে অংশৈলুককে বলি, ‘তুমি কখনো ঢাকা শহরে গিয়েছ?’
অংশৈলুক হাসে, ‘বান্দরবান শহরেই তো যাইনি কখনো। আমার তো শহরে কোন দরকার নেই। শুধু শুধু কেন যাব!’
ঠিকই তো বলেছে। আমি দমে যাই। এই ছেলেকে শহরে নিয়ে গেলে এর অবস্থা হবে ডাঙ্গায় তোলা মাছের মত।

অংশৈলুকের কথায় আমার সম্বিৎ ফিরে আসে, ‘দাদা রাত হয়েছে তো। ঘুমাতে যাবেন না?’
আমি হেসে বলি, ‘আমি শহরের মানুষ। মধ্যরাতেও বাইরে ঘুরে বেড়ানো আমার অভ্যাস আছে। আমার অত সহজে ঘুম আসে না।’ একটু গলা খাঁকারি দিয়ে আবার বলি, ‘তার চাইতে তোমার কথা বল। দশ বছর পরে তোমাকে দেখলাম। যখন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম তখন সদ্য বিয়ে করেছিলে। এতদিনে নিশ্চয় কয়েকটা বাচ্চাকাচ্চার বাপ হয়ে গেছ।’
অংশৈলুক ঘুম ঘুম চোখে হাসে, ‘দুটো ছেলে আর একটা মেয়ে। বড় ছেলেটার বয়স আট বছর হয়ে গেল। একদমই ঘরে থাকতে চায় না। সারাক্ষণ পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়।’
আমি মুচকি হাসি, ‘তোমার স্বভাব পেয়েছে। তুমিও তো কমবয়সে এরকম পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে।’
একটু থেমে গোপন কথার ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলি, ‘আমরা কিন্তু এবারও তিন চারদিনের জন্য বেরিয়ে পড়ব। পাড়াতে ফিরব না। পাহাড়ে ক্যা¤িপং করব আর ঝর্ণা খুঁজে বেড়াব। ঠিক দশ বছর আগের মত। তুমি আমাদের সাথে যাবে নাকি?’
অংশৈলুকের মুখটা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে যায়। এই প্রথম আমার তাকে একদম অচেনা মানুষ মনে হতে থাকে। অংশৈলুক ধীরে ধীরে বলে, ‘আপনারা যান দাদা। এখন হারিয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই। অনেক পর্যটক ঘোরাফেরা করছে। আমার দোকান আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, ছেলেমেয়েরা আছে। এসব ফেলে কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।’
আমি খুব অবাক হই, ‘পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে তোমার ভালো লাগে না?’
অংশৈলুক হাসে। সেই একই সারল্যমাখা হাসি। তারপর বলে, ‘আপনারা শহুরে মানুষ। দু’দিনের জন্য পাহাড়ে ঘুরতে এসেছেন। আপনাদের কাছে সবকিছুই ভাল লাগবে। যা দেখবেন তাতেই মুগ্ধ হবেন। নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দটা অন্যরকম। আমি তো এখানেই থাকি সারাজীবন। আমার কাছে তাই আবিষ্কারের কোন আনন্দ নেই। সেই একঘেয়ে পাহাড় আর পাহাড়। তার চেয়ে বরং বছর-দু’বছরে একবার শহরে যাই। ঘুরে বেড়িয়ে চলে আসি। শহরের রাস্তায় অসম্ভব ধুলোবালি। তাতেও অবশ্য খুব একটা খারাপ লাগে না। রাস্তা পেরোতে গেলে তো ভয়ে দম আটকে আসে। আমি সেই ভয়টা উপভোগ করি।’
অংশৈলুকের কথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে থাকি স্থাণুর মত। সময়ে সবকিছুই পাল্টায়। আমার হঠাৎ মনে হয় রেমাক্রি নদীটাও কি পাল্টে গেছে! কিংবা পাহাড়ের ওপাশে ডুবতে বসা চাঁদটা! যে চাঁদটা প্রতি পূর্ণিমায় ঝলসিয়ে দেয় রেমাক্রি নদীতে জেগে থাকা ডুবো পাথরগুলোকে।

‘নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে’ – তারেক রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম
‘নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে’ – তারেক রহমান

ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়—তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

তারেক রহমান ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে।

নারী ও শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী—এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা ব্রিজ (সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো) নির্মাণের আশ্বাস দেন ‘তারেক’। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এক গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।”

ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে ‘তারেক রহমান’ বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।”

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের এই জনসমাগমই প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের জনসমাগম প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ নতুন গতি এনে দিয়েছে।

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।