খুঁজুন
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১০:৪২ এএম
বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

বৃহত্তর ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে ৪’শ বছরের পুরনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির নাম ইতিহাসের এক অন্যতম নিদর্শন। ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮কিলোমিটার দূরত্বে বর্তমান সদরপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি। এককালে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর-বরিশালসহ ২২টি পরগনার বা জোত মহলের অধিপতি ছিলেন। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি তখনকার দিনে বাইশরশির বাড়িটির প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে কয়েকটি বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামন্ডপ ও দ্বিতলা বিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালান কোঠা দিয়ে ঢেলে সাঁজিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, ১৭’শ শতাব্দির গোড়াপত্তনে এককালের লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি প্রথার গোড়া পত্তন শুরু করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে পর্যন্ত জমিদার পরিবারটি অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হন ও ২২টি জমিদারি পরগনা ক্রয় করে বিশাল জমিদার হিসেবে ভারতবর্ষে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান দুইটি রাষ্ট্র হওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল জমিদারি প্রথা থাকার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতা বসে জমিদারি দেখাশুনা করত। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার সুকুমার রায় বাহাদুর ছাড়া সবাই কলকাতা চলে যায়। ৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সুকুমার বাবু ওই রাজ প্রসাদে আত্মহত্যা করেন। এরপর বাড়িটির আর কোন অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে গন্য হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় ৩০একর জমির ওপর জমিদার বাড়িটির অবস্থান হলেও চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ৫টি শান বাঁধানো পুকুর, বিশাল বাগানবাড়ি ও ছোটবড় চৌদ্দটি কারুকার্য খচিত দালান-কোঠা জমিদারদের কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্য খচিত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাড়িটির সামনের অংশে বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।

বাইশরশি জমিদার বাবুরা যেভাবে আলোচিত হয়ে আছেন। কথিত আছে, উদ্ধর চন্দ্র সাহা লবনের ব্যবসা করতেন। লবন বিক্রয় করার জন্য যাবার সময় নদী ভাঙ্গনে কবলিত কোন এক পড়বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হতে বেশ কিছু গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করেন। এভাবে অর্থ প্রাপ্তির পর তিনি বাইশরশিতে বিশাল জোদ্দারী ক্রয় এবং জমিদারী প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে বাবু রঘুরাম সাহার পুত্র উদ্ধর চন্দ্র সাহা ১৮২৪ইং সালে সম্ভবত লর্ড ক্লাইভের সময় বাইশরশি জমিদার উদ্ধর চন্দ্র সাহা বরিশালের কালিয়ায় জোদ্দারী ক্রয় করেন।

উদ্ধর চন্দ্র সাহার পুত্র হরে কৃষ্ণ সাহা জমিদারীর হাল ধরেন এবং তিনি বরিশালের বাউফলের জমিদারী ক্রয় করেণ এবং প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। হরে কৃষ্ণ সাহার তিন পুত্রের মধ্যে রাম জয় সাহা জমিদারীর ভার গ্রহণ করেন। এ সময়ে বাবুরা ইংরেজদের কাছ থেকে সাহা উপাধির পরিবর্তে রায় চৌধুরী উপাধী লাভ করেন। রাম জয় রায়ের দুই পুত্র বৈকুন্ঠ রায় ও নীল কন্ঠ রায় জমিদারী ভাগাভাগি করেন এবং বৈকুণ্ঠ রায়ের অংশকে বড় হিস্যা ও নীল কণ্ঠ রায়ের অংশকে ছোট হিস্যা বলা হতো। বৈকুণ্ঠ রায়ের কোন সন্তান না থাকায় তিনি মহিম চন্দ্র রায়কে পৌষ্য পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। মহিম চন্দ্র রায় প্রতাপ শালী ছিলেন। তারও কোন সন্তান না থাকায় তিনি কলকাতা হতে মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীকে পৌষ্য পুত্র হিসেবে সংগ্রহ করেন। উল্লেখ মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুর উপাধি লাভ করেন। মহেন্দ্র নারায়ন রায় বাহাদুর সাধু প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি তার পৌষ্য মাতার মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুরের স্ত্রী শিব সুন্দরী চৌধুরানী নামে ১৯১৪ সালে ‘‘বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমী’’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সমেয় মহেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০/২২ বছর।

নীল কণ্ঠ রায় বাহাদুরের পুত্র রাজেন্দ্র বাবু ও দেবেন্দ্রবাবু। রাজেন্দ্র বাবুর কোন সন্তান ছিলনা। তিনি রমেশ বাবুকে পৌষ্য গ্রহণ করেন। দেবেন্দ্র বাবুর ছেলে দক্ষিণা রঞ্জন বাবু।

দক্ষিণা রঞ্জন বাবু রাগী ও উগ্র প্রকৃতির লোক ছিলেন। দক্ষিণা বাবুর কোন সন্তান না থাকায় তিনি দিলীপ বাবুকে পৌষ্য সন্তান হিসাবে গ্রহণ করেন। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে দুই হিস্যার মধ্যে হিংসা-বিবাদের কারণ ঘটায় উভয় হিস্যা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়েন এবং তা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে তখন ফরিদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের হস্তক্ষেপে বিবাদের মিমাংশা ঘটে। অতঃপর দক্ষিনা বাবু তার পিতৃব্য বা জেঠার নামে ফরিদপুরের অম্বিকা চরণ মজুমদার বাবুর সহায়তায় ‘‘রাজেন্দ্র কলেজ’’ স্থাপন করেন।

এছাড়া বর্তমান ফরিদপুরের পুরাতন সরকারী হাসপাতালের একটা অংশ এখনও বাবুদের নামে বর্তমান আছে। মহেন্দ্র বাবু নগর কান্দায় নীজের নামে (মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমী) নামের একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

জমিদারদের প্রধান আয়ের উৎস্য ছিল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। খাজনা বা কর আদায় করার জন্য নায়েব নিযুক্ত করা হতো। অবাধ্য প্রজাকে শায়েস্তা করার জন্য লাঠিয়াল বাহীনি ব্যবহার করা হতো। এ জন্য নিজস্ব বড় লাঠিয়াল বাহিনী সুরক্ষিত ভাবে রাখা হতো। অপরাধ অনুসারে এই প্রজাদেরকে অত্যাচার করা হতো। অত্যাচারের ফলে কারও মৃত্যু হলে মৃত দেহ বাড়ীর পিছনে সু-গভীর অন্ধকুপে নিক্ষেপ করা হতো।

আরও লোক মুখে শোনা যায়, মুসলমান বা হিন্দুরা বাবুদের বাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে যাতায়াত নিষেধ ছিল। বাবুদের চারটি পুকুরের মধ্যে নাট মন্দিরের সামনের পুকুরটি পানীয় জলের জন্য নির্ধারিত ছিল। ঐ পুকুরে কেহ পা ভেজাতে পরতো না। বেচু নামে এক মুসলমান প্রজা অজ্ঞাতবশতঃ ঐ পুকুরে পা ধোয়ার অপরাধে তাকে বেদম প্রহার ও দাড়ী উৎপাটন করা হয়। ফলে তা নিয়ে মামলা হলে বাবুদের এক পাই জরিমানা হয়। মানিক দহের বড় মিয়া আব্দুল বাবুদের বশ্যতা স্বীকার না করার জন্য বাবুরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বড় মিয়া আব্দুল উপায়ন্তর না দেখে শিবসুন্দরী চৌধুরানীকে মা ডাকেন। পরে শিব সুন্দরী চৌধুরানীর হস্তক্ষেপে বড় মিয়া আব্দুলকে মামলা হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। মিয়াদের পরিবারের লোকজন সেই সময় থেকে বর্তমান বাইশরশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম করতেন।

বাইশরশি শিবসুন্দরী একাডেমীর বর্তমান খেলার মাঠ বাবুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বাগানবাড়ী ছিল এবং তারা ঐ বাগান বাড়ীতে যেমন খুশি তেমন ভাবে বিভিন্ন রকমের আনন্দ ফূর্তি করতো। জমিদার বাড়ীটি ৩০একরের উর্ধ্বে ছিল।

১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা লোপ ও প্রজাস্বত্তর আইন প্রনয়ন হবার পর সুকুমারবাবু অর্থহীন এবং বিত্তহীন হয়ে পড়লে তিনি জমিদারী হারিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় লোকশান ও বাড়ীর দাসী কর্তৃক সঞ্চিত স্বর্ণ খন্ডাদী চুরি হওয়ায় ও দাসীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দাসী গর্ভবতী হলে ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে সুকুমারবাবু নিজে বন্দুকের গুলীতে আত্মহত্যা করেন।

উল্লেখ্য যে, সুকুমার বাবু ১৯৩৪-১৯৪৬ পর্যন্ত সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কলিকাতা চলে যান এবং অমরেশ বাবু দিনাজপুর চলে যান। এভাবেই বাইশরশি জমিদারদের জমিদারীর পতন ঘটে। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর অধিকাংশ জমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের দখলে রয়েছে। অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলা পড়ে আছে। সরকারি ভাবে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নাই।

সদরপুর এর বাইশরশি জমিদারের অধীনে থাকা আরেকটি জমিদারী শাসনামল অঞ্চল সম্পর্কে আরও জানা যায়, এ অঞ্চলের দু শতাধিক বছর পূর্বের সাক্ষী বর্তমান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নির্দশন জমিদার মহেন্দ্ররায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাঁছারী বাড়ি। বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস হিসাবে পরিচিতি।

জনশ্রুতি হচ্ছে, ১৮’শ শতকের কথা। ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণারঞ্জন রায় বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ শাসনামলে বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। মেঘনার অববাহিকা বর্তমান ভোলা ও বাউফলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া নামক স্থানে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী ছিল। চন্দ্রদ্বীপ তেঁতুলিয়া নদীতে গয়না পারি দিয়ে বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসে।

ব্রিটিশদের থেকে অত্র এলাকায় জমি ক্রয় করে রায় চৌধারিত্ব উপাদি লাভ করে। দক্ষিণারঞ্জন রায়ের দুই ছেলে মহেন্দ্র রায় বড়ো হিস্যাই, রাজেন্দ্র রায় ছোট হিস্যাই হিসাবে সে এলাকায় স্বীকৃতি পায়। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য এলাকা বাউফলে জমিদারীত্ব আরম্ভ করে। জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় সদরপুরের বাইশরশি থেকে বিভিন্ন পেশার লোক নিয়ে যেত এবং বসতির জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। প্রজাদের মাধ্যমে অত্র এলাকায় কাঁছারী থেকে প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ করে। প্রতিবছর প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ এবং দুর্গাপূজাসহ হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর বাইশরশি থেকে গয়নাযোগে এলাকায় আগমন করতেন। থাকতে মাস ব্যাপী খাস কামরায়ে। খাস কামরায় স্থাপত্য গড়ে তোলে।

স্থাপত্য দুটি বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারী এ স্টেটের পুরাতন দালানে অবস্থিত। উপজেলা সদর প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশে ২২ একর জমির উপর মহেন্দ্র রাজেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি। স্থাপত্য দুটি দেড় ইঞ্চি পাকা ইটের তৈরি প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল। চিনেমাটি প্লেষ্টার দিয়ে ছাদ তৈরি লোহার আড়া। ভিতরে ৪টি কক্ষ। সামনে জোড়া বাধা ৬ টি গম্মুজ। এটি হচ্ছে দক্ষিণ ভিটে। দক্ষিণ ভিটে দালান সামনে বসার জায়গা রয়েছে বসার সাথে দুটি হাতির স্থাপনা। পশ্চিম পাশে রয়েছে অনুরূপ আরেকটি দালান। তিন কক্ষবিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচু স্থাপত্য দালানটি উপরে রয়েছে টিনের ছাউনি। আড়া গুলো হচ্ছে বড় গাছের চিড়াই গাছ।

জমিদারের স্থাপত্য দুটি সামনে রয়েছে টিনের ৮চালা বিশিষ্ট উচু নাটঘর। নাট ঘরে বসে যাত্রা-পালাসহ নাটকহতো। কাঁছারি বাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে জমিদার বাড়ীতে হতো নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মাস ব্যাপী যাত্রা অনুষ্ঠান হয়েছিল। দেওয়া হতো মহিষ ও পাঠা বলী। মাসব্যাপী যাত্রার রিহার্সেল দেওয়া হতো। দু ঘরের সামনে বসে জমিদার তার পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন।

ওই সময় যাত্রা পালার মধ্যে ছিল অকালের দেশ, বাঙ্গালী রক্ততিলক, সমাজের বই, কাঞ্চন মালা, বাঙ্গালী বিচারক, সোহরাফ রুস্তম,দর্পহারী, এজিদ ও জয়নাল উদ্ধার, বঙ্গেরবর্গী প্রভৃতি। অনুষ্ঠিত যাত্রাপালায় এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রাপালা দলের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে যারা অংশ গ্রহণ করতে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, মাখম সাহা, মনোরঞ্জন শীল, রাজস্বর রায়, অনন্ত ঘোষ, মেঘনাথ ঘোষ, চিত্র রঞ্জন সাহা, বিনোদ বিহারী সাহা। কাঁছারী বাড়ি নিরাপত্তার্থে চার পাশে রয়েছে উচু দেয়াল। প্রাচীর রয়েছে প্রাচীর পূর্বপাশে বতর্মান প্রবেশপথ ইটের তোরণ, উত্তর পাশে রির্জাভ ঘাটে গেট পশ্চিম পাশে ঘেট রয়েছে। ইটের র্নিমান প্রাচীর ১০ ইঞ্চি প্রসস্ত উচু হচ্ছে ৯ ফুট। স্থাপত্য দুটি সংলগ্ন রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ীর উত্তর পাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। রিজার্ভ পুকুরের দক্ষিণ পাশে বাধাই করা ঘাট। রিজার্ভ পুকুরের পানি কেউ ব্যবহার করতে না। ভুলক্রমে কেউ পানি পান করতে গেলেও পা পুকুরে পানিকে ভিজাতে না। এ পুকুরে পানি রিজার্ভ রাখার জন্য ছিল আলাদা পাহারাদার। পশ্চিম পাশে বড়ো একটি পুকুর। যা ছিল সবার জন্য উম্মুক্ত। আরো জনশ্রুতি হচ্ছে, জমিদারের কঠোর শাসন থাকলে তাদের জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে।

১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফলকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং ১৮৭৪ খ্রিঃ পুলিশ ষ্টেশন স্থাপন করে থানা হিসেবে বাউফলে কার্যক্রম শুরু করা হয়। পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তান শাসন আমল। মধ্য স্বত্বলোপ পায়। সরকার সমস্ত জমিদারিত্ব একোয়ার করে নেয়। জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় দেশ ছেড়ে চলে যায়। সরকার ১নং খতিয়ানভুক্ত করে বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দু’শ বছরের পুরানো এই জমিদারী স্থাপনার ঐতিহ্য কে সংরক্ষণ করা গেলে ফরিদপুরের সদরপুরের বাইশরশি জমিদার বাড়িকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতো।

সংরক্ষণ না থাকায় আজ ভগ্নদশায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়ায় তার সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে হতে পারে দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র। সরকারি ভাবে সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতল ভবনের ছাদ নিরাপত্তাদ্বয় কাঠের আড়া গুলো কেটে নেওয়ার ফলে কয়েকটি রুমের ছাদ ধসে পড়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়াও বাড়িটির অন্যান্য কক্ষে লোহার দরজা,জানালা,গ্রীল ও চুরি হয়ে যাচ্ছে। বেশীরভাগ চুরির ঘটনা রাতে হচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

এবিষয়ে সদরপুরের সন্তান তৌকির আহম্মেদ বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের এই ইতিহাসের অংশ টুকুকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার তাই আমরা সদরপুর বাসী এই জমিদার বাড়ি টি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এই জমিদার বাড়ি টি সংস্কার করলে জমিদার বাড়িটি হতে পারে অত্র সদরপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। রক্ষা পেত ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি ও একটি ইতিহাস।

সালথায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাল সেনা-পুলিশ, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম
সালথায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাল সেনা-পুলিশ, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় সংঘর্ষের জন্য মজুত রাখা ৭টি ঢাল ও ১৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার খারদিয়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃতরা হলেন— মো. ইমামুল (২১) ও মো. তুহিন (১৯)।

সেনা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) খারদিয়া ও ময়েনদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন পরদিন সকালে প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষে জড়ানোর পরিকল্পনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ঢাল-সরকি নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি দল স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় খারদিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ঢাল, যা সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

অভিযানের সময় সংঘর্ষের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ সালথা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সময়মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে খারদিয়া ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

রাজনীতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আমীরের ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
রাজনীতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আমীরের ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্ট।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, একইদিন তার নিজ আবাসিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘটে। এই সাক্ষাৎকে তিনি দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সফর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তিনি আরও লিখেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। যেখানে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি এই আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন দেওয়া হলেও, যেখানে জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে সেখানে তারা সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করা। একটি কার্যকর সংসদই পারে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সংলাপ ও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি সহনশীল, অংশগ্রহণমূলক ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।

পদ ছাড়লেন আইজিপি, স্বরাষ্ট্রে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম
পদ ছাড়লেন আইজিপি, স্বরাষ্ট্রে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানেই তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।

বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না দিলেও দুপুরের দিকে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের খবর তারা পাননি। তবে পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইজিপি বাহারুল আলম তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। সেই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে যান।

অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়েছিল। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে রোববার দুপুরে পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে চাচ্ছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হলেও সেটি গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবেই দায়িত্বে থাকবেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর আইজিপিকে তার পদত্যাগপত্র নতুন সরকারের কাছে পুনরায় উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে আইজিপির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি আপাতত সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।