ভাঙ্গায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন-বিক্ষোভ


ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চুন্নু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম এবং ইসমাইল মুন্সির ছেলে ফুহাদের মধ্যে চায়ের দোকানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনার জেরে রাত গভীর হলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টর্চলাইট জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলে এ সংঘর্ষ। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, আর গুরুতর আহতদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে ছোট হামিরদী ও গোপীনাথপুর গ্রামের মাতব্বররা এগিয়ে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষকে শান্ত করে সংঘর্ষের অবসান ঘটানো হয়।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। কেউ অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরের সালথায় অসহায়, ছিন্নমূলদের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিভাগদী মরহুম জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার বাড়িতে এই বস্ত্র বিতরণ করে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।
সংগঠনের প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চলনায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোহাম্মাদ নূরুল হুদা।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক তাসফিয়া তাছরীণ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আটঘর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক সদস্য মো. আমির হোসেন মৃধা, বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা মান্নান তালুকদার, জাহিদ হোসেন মৃধা, সহ-সভাপতি শাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবু রাসেল, কার্যনিবার্হী সদস্য কোবাদ মৃধা, সিহাব মৃধা, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মাদ নূরুল হুদা বলেন, আমরা কোনো দান বা যাকাত বিতরণ করছি না। আমরা সবার সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য আমাদের এলাকার কিছু লোকজন মিলে কিছু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে বিভাগদী গ্রামের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সমগ্র সালথা উপজেলার উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ইমামদের সাথে দূর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ও তাদের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বোয়ালমারী উপজেলা ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নাজ ক্যাবল অপারেটরের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ খানের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ঈদ উপলক্ষে পৌরসভা কর্তৃক প্রতিবছর ইমামদের সম্মানে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদানে বিভিন্ন টালবাহানা ও গড়িমশিসহ ইমামদের সাথে দুর্ব্যবহার করায় তাদের অপসারণ দাবি করেন বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি ও বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের (বাইতুল হামদ) পেশ-ইমাম মাওলানা হোসাইন আহমাদ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারীর পৌরসভা থেকে পৌর মেয়র মহোদয়গণ পৌর সভার মধ্যের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপলক্ষে একটি আর্থিক অনুদান দিয়ে এসেছেন। অর্থটা যৎসামান্য হলেও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানিত করায় আমরা গর্ববোধ করেছি। বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান আগের ধারাটা বজায় রাখলেও পৌর সচিব মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান অর্থ ছাড় দিতে নানা টালবাহানার আশ্রয় নেন। এমন কী ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্থ ছাড় যাতে না হয় সে বিষয়ে দেখে নিবেন বলেও হুমকি দেন। সংবাদ সম্মেলনে এসময় সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবি তোলেন উপস্থিত ইমামগণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উপদেষ্টা, সাবেক কাউন্সিলর আঃ সামদ খান, তিনি সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মশা নিধন ওষুধ ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম তুলে ধরে বলেন ৬ লাখ টাকার মশক নিধন ওষুধ ক্রয় করে তার বিল করেছে ১৩ লাখ টাকা। পৌরসভার যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১% উৎকোচ না দিলে ফাইল নড়ে না। মেয়র, কাউন্সিলর না থাকায় তারা নিজেকে পৌরসভার সর্বেসর্বা ভাবেন, কোনো মানুষকে সম্মান দেন না,এমন কী ইমামদের বরাদ্দের টাকা থেকেও কৌশলে একটা অংশ কেটে রাখার চেষ্টা করছিলেন তারা। সাবেক এ কাউন্সিলার ঈদের পর এ সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারী দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ কামারগ্রাম পুরাতন জামে মসজিদের ইমাম মাও. মাহবুবুল হক, দারুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব হা. মাও.রুহুল আমীন,কামারগ্রাম বায়তুল মোয়াজ্জেম জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আ. আহাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড জামে মসজিদের (ওয়াপদা) ইমাম ও খতীব মুফতী আবুল হাসান, বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাও. মুফতী তৈয়বুর রহমান। এ সম্মেলনে পৌরসভার সকল মসজিদের ৫০/৬০ জন ইমাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। এসবের দ্বায়িত্ব আমার নয়। আমার দ্বায়িত্ব রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন মূলক কাজকর্ম ও ঠিকাদারদের দেখা।

আপনার মতামত লিখুন
Array