খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

আপনার যদি খুব অল্প সিঁড়ি ওঠার পরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় নেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। যদি আগে কখনো এমন সমস্যা দেখা না দেয়, তবে হঠাৎ সিঁড়িতে ওঠা কষ্টকর মনে হয়, তাহলে এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে কয়েক ধাপ পরেই যদি বুক ধড়ফড় করতে থাকে কিংবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তখন বুঝতে হবে, আপনার শরীরে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। তবে আদৌ কি সিঁড়ি ভাঙার পর হাঁপিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু, নাকি এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া? এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত নর্থ-ওয়েস্টার্ন মেডিসিন ক্যানিং থোরাসিক ইনস্টিটিউটয়ের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স।

‘দ্য স্কিম ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, সিঁড়ি ভাঙার সময় সাময়িকভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি হতে পারে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার লক্ষণ।

কারণ চিকিৎসক সাধারণত নিচের কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন—

১. শ্বাসনালিতে প্রদাহ কিংবা সংকোচন হলে বুজতে হবে আপনার অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি হয়েছে।

২. আপনার দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হচ্ছে— ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ।

৩. হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

৪. অক্সিজেন পরিবহনে রক্তাল্পতা কিংবা রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

 

সিঁড়িতে ওঠা সহজ করতে যা করা উচিত:

যদি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, আপনার শরীরে কোনো বড় সমস্যা নেই, তবে সিঁড়ি ভাঙা সহজ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— অভ্যাস তৈরি করা। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সহনশীলতা বাড়াতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— আরও সিঁড়িতে ওঠা। সে জন্য আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে পরিশ্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে ড. মায়ার্স বলেন, নিয়মিত হাঁটা কিংবা হালকা দৌড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি ঢালু পথে ওঠার (ইনক্লাইন) অভ্যাস করা যায়, তাহলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর সহজে অক্সিজেন গ্রহণে অভ্যস্ত হয়। এতে সিঁড়ি ভাঙার সময় শ্বাসকষ্ট অনেকটাই কমে যায়।

শরীরচর্চার পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি সিঁড়ি ভাঙা সহজ করতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাসও সহায়ক হতে পারে। শরীর সবসময় সংকেত দেয়। যদি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, বুক ধড়ফড় করে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ অনেক সময় সাধারণ শ্বাসকষ্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফুসফুস কিংবা হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা, যা আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।

যদিও সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাঁপিয়ে যাওয়া সবসময়ই বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা না হয়। তবে যদি এই শ্বাসকষ্ট বারবার হয় বা আগের তুলনায় বাড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স বলেন, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সামান্য হাঁপানো একদম স্বাভাবিক, তবে যখন এটি অল্পতেই হয় এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তখন সেটিই সংকেত যে শরীরের কোথাও সমস্যা রয়েছে।

যে কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট হয়:

যখন কেউ দুই-তিন তলার বেশি সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন, তখন শরীরকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কারণ তখন শরীরের অনেক অংশ একসঙ্গে কাজ করে— পা, পেশি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র—সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে।

সিঁড়ি ভাঙা মানেই শরীরের অনেক শক্তি ব্যয় হওয়া। হাঁটার সময় যেসব পেশি ব্যবহার হয়, সিঁড়ি ভাঙার সময় সেগুলোর সঙ্গে আরও কিছু গভীর পেশি সক্রিয় হয়। তাই শ্বাস দ্রুত হয়, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়— যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তিনি বলেন, যদি কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভাঙার পর সামান্য হাঁপান আর অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যান, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।