খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২

সালথায় পূর্ব শত্রতার জের ধরে অতর্কিত হামলা, আহত ৪

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ২:১৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পূর্ব শত্রতার জের ধরে অতর্কিত হামলা, আহত ৪
ফরিদপুরের সালথায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় বালিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াগট্টি বাজার থেকে আক্কাস মোল্যা, হুমায়ূন মাতুব্বরসহ ৫/৭ জন বাড়ি ফিরছিলেন। পথেমধ্যে বড় বালিয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র রামদা, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এসময় অন্তত ৪ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আক্কাস মোল্যা ও হুমায়ূন মাতুব্বরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্কাস মোল্যা বড় বালিয়া গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিন মোল্যার ছেলে ও হুমায়ূন মাতুব্বর একই গ্রামের নীল চাঁদ মাতুব্বরের ছেলে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, পূর্ব বিরোধ ও শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় আহত দু’জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনও এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ১০০ টাকায় মিলছে তিন পিস তরমুজ, ক্রেতাদের মুখে হাসি

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০০ টাকায় মিলছে তিন পিস তরমুজ, ক্রেতাদের মুখে হাসি

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে বর্তমানে মাত্র ১০০ টাকায় তিন পিস তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তুলনামূলক ছোট আকৃতির এসব তরমুজ কম দামে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বাজারের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দোকানে একই তরমুজের দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের ‌হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ‌সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায় বিক্রেতারা ছোট আকৃতির তরমুজ তিনটি ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তরমুজ কেটে জনসমক্ষে প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

বিক্রেতারা জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে কম দামে তরমুজ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারেন।

অন্যদিকে ক্রেতারাও কম দামে তরমুজ কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, মাত্র ১০০ টাকার মধ্যে তিনটি তরমুজ পাওয়া তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে তাদের আশঙ্কা, দু-এক দিনের মধ্যেই তরমুজের দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, তরমুজ একটি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। এতে প্রচুর ভিটামিন ও পানি থাকায় গরমের সময়ে এ ফলের চাহিদা থাকে বেশি। তাই কম দামে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বিকাশ কর্মকার (৪৭) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (০৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের সাতৈর রেলস্টেশনে রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জগামী ‘টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিকাশ কর্মকার উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের মৃত নিতাই কর্মকারের ছেলে। তিনি সাতৈর বাজারের একজন স্বর্ণকার ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন আসার আগে বিকাশ কর্মকার রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন সরে গেলেও তিনি হঠাৎ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী লক্ষ্মী রানী কর্মকার মারা যান। তাদের একমাত্র ছেলে বর্তমানে নানাবাড়িতে থাকেন। ঘটনার পর তার পকেট থেকে ভোটার আইডি কার্ড ও পরিবারের সদস্যদের ছবি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, একসময় তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও ঋণের চাপে পড়ে ব্যবসা ছেড়ে ঢাকায় চাকরি নেন। সম্প্রতি পৈত্রিক জমি বিক্রির জন্য বাড়িতে এসে স্বজনদের বাধার মুখে পড়েন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আবরাব নাদিম ইতু
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
“তুমি নেই, তবু আছো—স্মৃতির গভীরে বেঁচে থাকা নানু”

আজ সাত বছর পূর্ণ হলো—তুমি নেই, তবু সময় ঠিকই বয়ে যায় নিজের নিয়মে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে ভুলে যাওয়া হয়নি, বরং স্মৃতির পলি জমে তোমার অস্তিত্ব যেন আরও ভারী হয়ে বসেছে বুকের গভীরে।

কিছু মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নেয় অন্যের জন্য বাঁচতে—নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে। তুমি ছিলে ঠিক তেমনই একজন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

তোমার মায়ার বাঁধনে আমরা সবাই এমনভাবে জড়িয়ে ছিলাম, যেন সেই বন্ধন ছিন্ন হওয়ার নয় কোনোদিনই। আমাদের ছোট্ট পরিবারটাকে তুমি আগলে রেখেছিলে অসীম মমতায়, স্নেহে, আর নির্ভরতার এক নিরাপদ ছায়ায়। আজও মনে হয়, দূর কোথাও বসে তুমি চুপিচুপি আমাদের জন্য আশীর্বাদ করে যাচ্ছো।

নিজে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন না হয়েও শিক্ষার প্রতি তোমার যে অদম্য ভালোবাসা ছিল, তা ভাবলে আজও বিস্মিত হই। তুমি বুঝতে—শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত সম্পদ। তাই ছেলেমেয়ের ভেদাভেদ না করে সবার জন্য সমানভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে। তোমার সেই দৃঢ় সংকল্প ছিল পাহাড়সম অটল। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তোমার অবদান ছিল নিঃশব্দ অথচ অসীম।

নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও, প্রয়োজনের সময় কোথা থেকে যেন তুমি সব ব্যবস্থা করে ফেলতে। আজও ভাবি—কী করে পারতে তুমি? আমাদের বড় হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তোমার ত্যাগ, তোমার সংগ্রাম মিশে আছে অদৃশ্যভাবে।

নানাভাই চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতেন, কিন্তু সেই অভাব আমরা কখনো টের পাইনি। কারণ তুমি ছিলে—একাই ছিলে এই সংসারের কাণ্ডারি, অতন্দ্র প্রহরী। তোমার অসীম ধৈর্য, সাহস আর ভালোবাসা দিয়ে তুমি সব শূন্যতা পূর্ণ করে রেখেছিলে।

নানু, তুমি কি ভালো আছো?
এখন কি তুমি ওই দূর আকাশের কোনো নক্ষত্র হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকো?

আজ জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে—অনেক কিছুই হাতের নাগালে। তবুও মনে হয়, আমরা যেন ভেতর থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। মমতার সেই গভীর বন্ধন, সেই শক্ত মনের জোর—কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি আমরা। অল্প আঘাতেই ভেঙে পড়ি, দিশেহারা হয়ে যাই।

চলে যাওয়ার সময় তুমি কি তোমার সেই অসীম শক্তিটুকু আমাদের দিয়ে যাওনি?
যদি আর একবার তোমাকে কাছে পেতাম, খুব করে বলতাম—আমাদেরও একটু শক্ত করে দাও, তোমার মতো করে বাঁচতে শেখাও।

তোমাকে খুব মনে পড়ে, নানু।
যেখানেই থেকো—ভালো থেকো।
আর যদি সত্যিই নক্ষত্র হয়ে থাকো, তবে তোমার আলোটা যেন আমাদের পথ দেখাতে থাকে সারাজীবন।