খুঁজুন
, ,

সালথায় পূর্ব শত্রতার জের ধরে অতর্কিত হামলা, আহত ৪

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ২:১৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পূর্ব শত্রতার জের ধরে অতর্কিত হামলা, আহত ৪
ফরিদপুরের সালথায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় বালিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াগট্টি বাজার থেকে আক্কাস মোল্যা, হুমায়ূন মাতুব্বরসহ ৫/৭ জন বাড়ি ফিরছিলেন। পথেমধ্যে বড় বালিয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র রামদা, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এসময় অন্তত ৪ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আক্কাস মোল্যা ও হুমায়ূন মাতুব্বরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্কাস মোল্যা বড় বালিয়া গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিন মোল্যার ছেলে ও হুমায়ূন মাতুব্বর একই গ্রামের নীল চাঁদ মাতুব্বরের ছেলে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, পূর্ব বিরোধ ও শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় আহত দু’জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনও এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

দিন শুরুর প্রথম কাজ হিসেবে এক পশলা গরম পানির নিচে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের কাছেই প্রশান্তির। আবার অনেকের কাছে সারাদিনের ক্লান্তি আর ধুলোবালি শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় যাওয়াটাই পরম তৃপ্তির। এই দুই দলের মানুষের মধ্যে বিতর্ক বেশ পুরোনো, গোসল করার সঠিক সময় আসলে কোনটি? বিজ্ঞান আসলে কী বলে?

সকালে গোসল করার পক্ষের মানুষরা মনে করেন, এটি তাদের ঘুম কাটাতে এবং নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, সকালে গোসল করা শরীরের জন্য উপকারী। কারণ এটি রাতে ঘুমানোর সময় শরীর থেকে নিঃসৃত ঘাম এবং জমে থাকা জীবাণু দূর করে। এমনকি শীতকালেও মানুষ ঘুমের মধ্যে ঘামতে পারে এবং প্রচুর পরিমাণে মৃত চামড়া বিছানায় ত্যাগ করে, যা ধুলিকণা বা ডাস্ট মাইটের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকালের গোসল আপনাকে সারাদিনের জন্য একদম পরিচ্ছন্ন ও সতেজ রাখে।

অন্যদিকে, রাতে গোসল করারও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে। সারাদিনের বাইরের ধুলোবালি, ঘাম, এবং পরিবেশ দূষণ থেকে শরীরে যে ময়লা জমে, তা রাতে ধুয়ে ফেলা হয়। যদি আপনি রাতে গোসল না করে বিছানায় যান, তবে সেই ময়লা আপনার বিছানার চাদর ও বালিশে স্থানান্তরিত হয়।

বিজ্ঞান আরও বলছে যে, ঘুমানোর এক বা দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিটের একটি কুসুম গরম পানির গোসল দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। গোসলের ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পরে তা দ্রুত কমতে শুরু করে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়।

তবে রাতে গোসল করার উপকারিতা কেবল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আপনার বিছানার চাদর ও বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার থাকে। চাদরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক হাপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষক হোলি উইলকিনসনের মতে, রাতে গোসলের চেয়েও বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমালে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

তাহলে কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আপনার পেশার ওপর নির্ভর করে। যেমন: একজন কৃষক বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষের জন্য দিনের শেষে গোসল করা জরুরি, যেখানে অন্যদের জন্য দিনে একবার গোসল করাই যথেষ্ট।

আসলে আপনি দিনে একবার যে সময়েই গোসল করুন না কেন, স্বাস্থ্যের ওপর তার খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। মূল বিষয়টি হলো শরীরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা। তাই আপনার শরীর ও মন যখন চায়, তখনই সতেজ হয়ে নিতে পারেন এক পশলা পানিতে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আর বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বাইজিদ আহমদ শাহেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শারাফাত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বকুল, জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আব্দুল মতিন বিন আব্দুল বারী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শামসুরের স্ত্রী মেঘলা আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা সম্মান করে বাস্তবায়ন করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তারা অবিলম্বে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেমিনার শেষে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী আলেম মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বিরের মমতাময়ী মা আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম (ব্রিটিশ নাগরিক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট লাঘব করেন—এই দোয়াই সকলের কাছে কামনা করছি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বয়সজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে তাঁর রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত প্রার্থনা করেছেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং একজন মায়ের সুস্থতার জন্য সন্তানের এই আবেদন মানবিকতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির শেষবারের মতো আবারও সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাঁর মায়ের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করেন।