খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের ডায়াবেটিক সমিতিতে জীবিত সদস্যকে দেখানো হলো ‘মৃত’!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ডায়াবেটিক সমিতিতে জীবিত সদস্যকে দেখানো হলো ‘মৃত’!

ফরিদপুরের অন্যতম বৃহৎ সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির একজন জীবিত আজীবন সদস্যকে ‘মৃত’ দেখিয়ে সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. সাদেকুজ্জামান ওরফে মিলন পাল বুধবার (৮ জুলাই) সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে “আজীবন সদস্যকে মৃত দেখিয়ে সদস্যপদ বাতিল প্রসঙ্গে” শীর্ষক একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সমিতির এক নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী তিনি ৬৮ নম্বর আজীবন সদস্য। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রেজিস্টারে তাঁকে মৃত হিসেবে দেখিয়ে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং ভোটার তালিকা থেকেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর সদস্যপদ ও ৬৮ নম্বর সিরিয়াল পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।

জানা যায়, সাদেকুজ্জামান ওরফে মিলন পাল ১৯৫৭ সালের ১ জুলাই ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীর চর ইউনিয়নের পালডাঙ্গী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি বর্তমানে ফরিদপুর শহরের হাবেলী গোপালপুর এলাকায় বসবাস করছেন।

তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডিক্রীর চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া প্রায় ২৫ বছর ফরিদপুর জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে একটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবং একটি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করছে। মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান এবং বর্তমানে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

১৯৮৪ সালে মাত্র ১২ জন আজীবন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সমিতিটিতে বর্তমানে তিন হাজার সাত শতাধিক জীবন সদস্য রয়েছেন। অভিযোগকারী সাদেকুজ্জামান ১৯৯১ সালে সমিতির ৬৮ নম্বর আজীবন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, “ভুলবশত একজন জীবিত সদস্যকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

তিনি আরও বলেন, সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের সংশোধন করা সম্ভব নয়। তবে মামলা নিষ্পত্তির পর অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুল সংশোধন করা হবে।

এদিকে, একটি প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্যকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত হিসেবে দেখানোর ঘটনায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটার তালিকা প্রণয়নে আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফরিদপুরে মহাসড়কের পাশের ঝোপে মিলল অর্ধগলিত লাশ, মিলছেনা পরিচয়

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কের পাশের ঝোপে মিলল অর্ধগলিত লাশ, মিলছেনা পরিচয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিণকান্দী গ্রাম এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি কয়েকদিন আগে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে কয়েকজন কৃষক পাশের জমিতে কাজ করার সময় দুর্গন্ধ অনুভব করেন। পরে তারা দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশের ঝোপের মধ্যে একটি অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি মুহূর্তেই আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকায় তা অনেকটাই পচে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বয়স, পরিচয় কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, আশপাশের থানাগুলোতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—সেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

বোয়ালমারীতে ব্যবসায়িক বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ব্যবসায়িক বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ী আহসানুল কবির (হেলাল মিয়া) কর্তৃক মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা ও আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত মো. মাসুদুর রহমান। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বোয়ালমারী নিউ মার্কেটের হাবিব বস্ত্রালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আহসানুল কবিরের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকার অগ্রিম ইট কেনা হয়। এর বিপরীতে তিনি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার ইট সরবরাহ করেন। পরে অবশিষ্ট ইট সরবরাহ করতে না পেরে প্রায় দুই বছর আগে নগদ ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫ লাখ ৯ হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের ইট পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমান জানান, পাওনা আদায়ের বিষয়ে তিনি এর আগেই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে থানায় সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আহসানুল কবির পাওনা পরিশোধের দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আহসানুল কবির দেখা করা এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ জুলাই নিউ মার্কেট এলাকায় আহসানুল কবিরকে পেয়ে পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহসানুল কবির টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে ডেকে আনেন। পরে তার স্ত্রী স-মিলের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে হুমকি দেন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশে থাকা প্রায় ৭ লাখ টাকা লুট হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, ওই পক্ষই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলেও তখন মারধর, আটকে রাখা বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। পরে থানায় দেওয়া অভিযোগে মিথ্যা তথ্য সংযোজন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে ব্যবসায়ী আহসানুল কবির সংবাদ সম্মেলন করে মো. মাসুদুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং একটি কোর্ট ফাইল থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও দমেনি বালু সিন্ডিকেট, প্রকাশ্যে চলছে ড্রেজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও দমেনি বালু সিন্ডিকেট, প্রকাশ্যে চলছে ড্রেজার

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার মাত্র তিন দিনের মাথায় আবারও অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে বালু কেটে অন্যত্র ভরাটের কাজ চলছে, অথচ প্রশাসনের নির্দেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চরনসিপুর এলাকার ওমেদ আলী বিশ্বাসের পাড়া (জমিদার ওমেদ আলী বিশ্বাস বাড়ির পেছনের তিন ফসলি জমি) থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরের হাজী ইসমাইল মুন্সির পাড়া, পাঞ্জু শেখের বাড়ির পাশের পাকা সড়ক কেটে পাইপলাইন স্থাপন করে মৌজদ্দীন মোল্লার পাড়ায় জুয়েলের দোকানের পাশের তিন ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত জিপ্পু বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার সহযোগী হিসেবে সোহেল শেখ নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর নামও উল্লেখ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে পাকা সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ বহন করা হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

এর আগে গত শনিবার (৪ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ ড্রেজারের বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি পাইপ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের মাত্র তিন দিনের মাথায় ভাঙা পাইপ মেরামত করে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবারও পুরোদমে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও স্থানীয় সড়ক অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ ড্রেজার স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আবারও অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।”