খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে হামের ভয়াবহ থাবা: চার মাসে আক্রান্ত ১ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের ভয়াবহ থাবা: চার মাসে আক্রান্ত ১ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১০

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য বিভাগে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৬৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

শুক্রবার (০৮ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সালথা উপজেলায়। সেখানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ১৪ জন, সদরপুরে ১২ জন, আলফাডাঙ্গায় ১০ জন, ভাঙ্গায় ৮ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন, চরভদ্রাসনে ৪ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই হাসপাতালেই রোগীর চাপ বাড়ছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন রোগী। আগে ভর্তি ছিলেন আরও ৪০ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৫৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে ১৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে মোট ২২৪ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।

অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন এবং পুরাতন রোগী রয়েছেন ৪৬ জন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটি থেকে ২৮ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৬০৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, জেলায় বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১৪০ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।”

ফরিদপুরে মাদক কারবারী সন্দেহে গণপিটুনি ও প্রাইভেটকারে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক কারবারী সন্দেহে গণপিটুনি ও প্রাইভেটকারে আগুন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে মামুন মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি ও তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশিতে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়ায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে তার পরিবারের দাবি, অতীতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার করা হয়েছেন।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে মামুন মোল্লা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসলে কয়েকজন তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে চিহ্নিত করে। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। পরে উত্তেজিত জনতা তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

‎মামুনের বাবা মানিক মোল্লা বলেন, আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকায় যাওয়ার জন্য আত্মীয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয়। পথে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কোনো মাদক ছিল না।

‎তিনি দাবি করেন, তার ছেলে অতীতে মাদকাসক্ত থাকলেও অনেক আগেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

‎বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রবণশক্তি হ্রাসের যে ৫ লক্ষণ অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্রবণশক্তি হ্রাসের যে ৫ লক্ষণ অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করে?

আমাদের অনেকেরই ধারণা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া মানেই হলো হঠাৎ করে কানে একদম না শোনা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অনেক সময় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শুরু হয় যা আমরা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় এড়িয়ে যাই। বয়সজনিত কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াটা ধীরে ধীরে ঘটে, যার ফলে অনেকে বিষয়টি বুঝতেই পারেন না যতক্ষণ না অন্যের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মুম্বাইয়ের ফোর্টিস হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ড. সঞ্জয় ভাটিয়া বলেন, ‘শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ দক্ষতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব’।

আপনার শ্রবণশক্তি ঠিক আছে কি না তা বুঝতে নিচের ৫টি লক্ষণের দিকে নজর দিন—

১. কথা ঝাপসা শোনানো, অস্পষ্ট নয়

শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ সবসময় শব্দ কম শোনা নয়। বরং আপনার মনে হতে পারে কথাগুলো অস্পষ্ট বা ঝাপসা হয়ে আসছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে মস্তিষ্ককে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। অনেকে শব্দ শুনতে পেলেও ঠিক কী বলা হচ্ছে তা আলাদা করতে সমস্যায় পড়েন।

২. ‘আবার একটু বলবেন কি?’– অভ্যাসে পরিণত হওয়া

মাঝে মাঝে কাউকে কথা পুনরায় বলতে বলা স্বাভাবিক, কিন্তু এটি যদি আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। ড. ভাটিয়ার মতে, সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের বারবার কথা বলতে বলা শ্রবণশক্তি হ্রাসের একটি স্পষ্ট সংকেত। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে তার কাছের মানুষরাই এই সমস্যাটি আগে লক্ষ্য করেন।

৩. টিভির ভলিউম ক্রমাগত বাড়ানো

বাড়িতে কি টিভির ভলিউম নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হয়? আপনি যে ভলিউমে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন, বাড়ির বাকিদের কাছে কি তা অতিরিক্ত মনে হচ্ছে?। সময়ের সাথে সাথে টিভির শব্দ বাড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা সরাসরি শ্রবণশক্তির অবনতির দিকে ইঙ্গিত করে।

৪. ফোনে কথা বলতে সমস্যা হওয়া

সরাসরি কথা বলার সময় আমরা সামনের মানুষের ঠোঁট নাড়ানো বা মুখের ভঙ্গি দেখে কথা অনেকটা বুঝে নেই। কিন্তু ফোনে এই সুযোগ থাকে না বলে মস্তিষ্ককে পুরোপুরি শব্দের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফোনের অপর প্রান্তের কথা বুঝতে কষ্ট হওয়া বা ভুল বোঝা শ্রবণশক্তি সমস্যার একটি বড় লক্ষণ।

৫. কানে অনবরত ভোঁ ভোঁ বা শিস দেওয়ার শব্দ

কানে সব সময় গুঞ্জন, শিস বা বাঁশির মতো শব্দ হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিনিটাস’ বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়, বরং শ্রবণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যার একটি লক্ষণ। এই সমস্যাটি অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

কেন অবহেলা করবেন না?

শ্রবণশক্তির সমস্যা কেবল কানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। ড. ভাটিয়া সতর্ক করে বলেন যে, কানে কম শোনার কারণে মানুষ ধীরে ধীরে সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়, যা থেকে একাকীত্ব, হতাশা এবং মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। তাই আপনার বা আপনার প্রিয়জনের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবে এক সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবে এক সপ্তাহ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরিদপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করে এবং দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জানা গেছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের ১২৫ জন সেনাসদস্য ফরিদপুরে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুরেও সেনাসদস্যরা মাঠে কাজ করবেন।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় এক সপ্তাহের জন্য এ সেনা মোতায়েন। এ সময় সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।