খুঁজুন
, ,

যে কারণে ইসলামি ব্যাংকিং প্রয়োজন?

মুফতি উবাইদুর রহমান হাম্মাদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
যে কারণে ইসলামি ব্যাংকিং প্রয়োজন?

বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংক আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রায় সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ডেই কোনো না কোনোভাবে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বেতন গ্রহণ, অর্থ স্থানান্তর, অনলাইন কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা আন্তর্জাতিক অর্থ আদান-প্রদানসহ সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক কথায়, দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের অধিকাংশই ব্যাংকনির্ভর। ফলে এই সময়ে এসে ব্যাংককে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু বিপত্তি হলো প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেম নিয়ে। এই সিস্টেমের মূলেই আছে সুদের মত ভয়াবহ একটি গোনাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা। এসব ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সঞ্চয়ী হিসাব, ডিপোজিট, এফডিআর কিংবা ঋণ গ্রহণ—সর্বত্রই সুদের উপাদান বিদ্যমান। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকিং এর সাহায্যেও সুদবিহীন সেবা গ্রহণ সম্ভব। যেমন সুদবিহীন কারেন্ট একাউন্ট ওপেনিং, ইউটিলিটি বিল প্রধানসহ মৌলিক কয়েকটি সার্ভিস। ব্যাংকের সামগ্রিক সার্ভিস এর তুলনায় যা খুবই সামান্য।

বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ব্যাংক যেমন অপরিহার্য; ঠিক তেমনিভাবে সুদ পরিহার করা হারাম থেকে বেঁচে থাকা একজন মুসলিমের জন্য আরো বেশি অপরিহার্য। কেননা পবিত্র কোরআনুল কারিমে সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু নিষিদ্ধ নয়; বরং সুদি লেনদেনে জড়িয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করার মত বলা হয়েছে।

ঠিক এই বাস্তবতা নিরিখেই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। যে কারণে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েই পুরো বিশ্বজুড়েই প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে ইসলামি ব্যাংকিং-এর আলোচনা সরব হয়ে ওঠে। উপমহাদেশসহ বিশ্বনন্দিত ইসলামিক স্কলারগণ ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।

ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে মিশরের মিত গামরে আহমদ আল-নাজ্জারের প্রতিষ্ঠিত Mit Ghamr Savings Bank-এর মাধ্যমে; আর ১৯৭৫ সালে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) ও Dubai Islamic Bank প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। একই সূত্র ধরে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং এর যাত্রা ১৯৮৩ সনে ‘ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র মাধ্যমে শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেপূর্ণাঙ্গ ১০টি ইসলামি ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আরও অনেক প্রচলিত ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো ও ইসলামি শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি প্রচলিত ব্যাংক ৬০০-এর বেশি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো পরিচালনা করছে এবং ১৫টি ব্যাংকের ৩০টি ইসলামি শাখা রয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকিং মূলত কী?

ইসলামি ব্যাংকিং মূলত সুদের পরিবর্তে মুদারাবাভিত্তিক আমানত গ্রহণের নীতির ওপর পরিচালিত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, একজন গ্রাহক যখন ইসলামি ব্যাংকে হিসাব খোলেন, তখন তিনি মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যাংকের কাছে অর্থ বিনিয়োগ করেন। ব্যাংক সেই অর্থ মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, ইজারা প্রভৃতি শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতে ব্যবহার করে। এসব কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা পূর্বনির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী ব্যাংক ও আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

সার্বিকভাবে ইসলামি ব্যাংকিং সুদভিত্তিক ঋণব্যবস্থার পরিবর্তে শরিয়াহসম্মত বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং লাভ-ক্ষতিতে অংশীদারিত্বের নীতির ওপর আর্থিক সেবা প্রদানের চেষ্টা করে। এর ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই সুদমুক্ত আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

প্রচলিত ইসলামি ব্যাংক পুরোপুরি শরিয়সম্মত?

বলা বাহুল্য যে, প্রচলিত ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান। অধিকাংশ ইসলামি ব্যাংকে শরিয়াহ বোর্ডের কার্যকারিতা যথাযথভাবে নিশ্চিত নয়। ব্যাংকিং লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন: মুরাবাহা, এইচপিএসএম, ক্রেডিট কার্ড কিংবা এলসি সংক্রান্ত লেনদেনে—বহু ধরনের অসঙ্গতি ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানও অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামি ব্যাংকিং কেন প্রয়োজন?

বর্তমান বাস্তবতায় সুদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অত্যন্ত কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে হালাল উপায়ে ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার জন্য ইসলামি ব্যাংকিংয়েরচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প বর্তমানে নেই। এ কারণেই ইসলামি ব্যাংকিং কেবল একটি বিকল্প ব্যবস্থা নয়; বরং মুসলিম সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। তবে এটাও সত্য যে, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তাই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের শক্তিশালীকরণ এবং শরিয়াহ মানদণ্ডের আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল বাস্তবায়ন সময়ের অন্যতম দাবি। এই কাজ কোনো একক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।

বিশেষত ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য পৃথক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহকদের আস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা উচিত। ইসলামি ব্যাংকিং যত বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শরিয়াহসম্মত হবে, ততই এটি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চীনা যুবকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। এরপর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। চীনা নাগরিক বলে দাবি করা এক যুবককে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক কলেজছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নবদম্পতিকে একনজর দেখতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে।

তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২০) ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সালথার নকুলহাটি গ্রামে।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় পরে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। এরপর গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওই যুবক। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। বিদেশি যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে শনিবার বিকেলে তাঁদের আর বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাঁরা দুজনই চীনে চলে যাবেন।

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি আজই লোকমুখে জানতে পেরেছি। আমি ওই বাড়িতে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। জনগণের সেই রায় ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।”

​তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লড়াই মূলত আমাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই।”

​শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই রোডমার্চ কর্মসূচির সূচনা হয়।

​সংক্ষিপ্ত সভা শেষে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুর সীমানা অতিক্রম করে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গাড়িবহরটি খুলনা বিভাগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

​লংমার্চের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ কর্মসূচির যাত্রাপথে মাওয়ার নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বরে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে লংমার্চের বহরটি যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় মিলিত হবে।

​লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দূরপাল্লার কর্মসূচি শেষ হবে।

​এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যাত্রাপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।