জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ
ফরিদপুরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করার এমন উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে এটিই প্রথম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৌশল ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল বসানো হয়েছে। এ সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টটি স্থাপনে সরকারের দেওয়া ২০ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করেছে। প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সঙ্গে আগামী ২০ বছরের জন্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয়েছে।
উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা পরিষদ এবং পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-১, ফরিদপুরের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ জানান, “দেশের ৬১টি জেলা পরিষদকে সোলার সিস্টেম স্থাপনে সরকার ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছিল। ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রথম নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করে কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল। আমাদের দৈনিক চাহিদা ৪০ কিলোওয়াট, বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।”
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজস্ব প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।

আপনার মতামত লিখুন