খুঁজুন
, ,

বোয়ালমারীতে ব্যবসায়িক বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ব্যবসায়িক বিরোধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ী আহসানুল কবির (হেলাল মিয়া) কর্তৃক মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা ও আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত মো. মাসুদুর রহমান। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বোয়ালমারী নিউ মার্কেটের হাবিব বস্ত্রালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আহসানুল কবিরের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকার অগ্রিম ইট কেনা হয়। এর বিপরীতে তিনি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার ইট সরবরাহ করেন। পরে অবশিষ্ট ইট সরবরাহ করতে না পেরে প্রায় দুই বছর আগে নগদ ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫ লাখ ৯ হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের ইট পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমান জানান, পাওনা আদায়ের বিষয়ে তিনি এর আগেই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে থানায় সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আহসানুল কবির পাওনা পরিশোধের দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আহসানুল কবির দেখা করা এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ জুলাই নিউ মার্কেট এলাকায় আহসানুল কবিরকে পেয়ে পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহসানুল কবির টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে ডেকে আনেন। পরে তার স্ত্রী স-মিলের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে হুমকি দেন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশে থাকা প্রায় ৭ লাখ টাকা লুট হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, ওই পক্ষই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলেও তখন মারধর, আটকে রাখা বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। পরে থানায় দেওয়া অভিযোগে মিথ্যা তথ্য সংযোজন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে ব্যবসায়ী আহসানুল কবির সংবাদ সম্মেলন করে মো. মাসুদুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং একটি কোর্ট ফাইল থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি ‘বিটরুট’ কার্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি ‘বিটরুট’ কার্যকর?

আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অলস জীবনযাত্রার কারণে বর্তমান নগর জীবনে বড় যে স্বাস্থ্য সংকটটি দেখা দিয়েছে, তা হল যকৃৎ বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা— যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ফ্যাটি লিভার’ বা ‘এনএএফএলডি’ বলা হয়।

লিভারে মেদ জমলে তা অলক্ষ্যেই শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাক ক্রিয়াকে অবশ করে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ঘরোয়া নিরাময় হিসেবে, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও রূপচর্চার বাজারে গাঢ় লাল রংয়ের ‘বিটরুট’ বা বিটের জুস পানের প্রচারণা দেখা যায়।

‘হেলথ ডটকম’ ও ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, বিটের জুস সরাসরি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়; তবে এতে থাকা বিশেষ খনিজ উপাদান লিভারের চর্বি গলিয়ে কোষে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে ভূমিকা রাখে।

‘বেটেইন’ ও লিভারের চর্বি কাটার বিজ্ঞান

মার্কিন পুষ্টিবিদ জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন, “বিটরুটের গাঢ় লাল রংয়ের প্রধান উৎস হল, এর ভেতরে থাকা ‘বেটেইন’ নামক শক্তিশালী ‘নাইট্রোজেনাস’ যৌগ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই বেটেইন উপাদান লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত লিপিড বা চর্বি জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে।”

এটি লিভারের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমিয়ে ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল ধ্বংস করার পাশাপাশি ধমনী থেকে ক্ষতিকর চর্বি বের করে দিয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

‘নাইট্রেট’ এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

বিজ্ঞান বলছে, বিটের জুসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘নাইট্রেট’ থাকে, যা চিবানো বা পানের পর মানুষের মুখের লালার সঙ্গে মিশে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।

এই নাইট্রিক অক্সাইড মূলত লিভারের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে শিথিল বা ‘রিল্যাক্সড’ করে দেয়, ফলে যকৃতে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বেড়ে যায়।

লিভারের উন্নত রক্ত সঞ্চালন, এর অভ্যন্তরীণ প্রদাহ শান্ত করতে এবং ‘হেপাটিক স্টিয়াটোসিস’ বা চর্বির মাত্রা কমাতে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

লিভার এনজাইম স্বাভাবিক করা

জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ‘হেপাটোলজি’ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন একটানা ১২ সপ্তাহ বা ৩ মাস নিয়মিত, পরিমিত পরিমাণে বিটের রস বা নির্যাস গ্রহণ করেছেন, তখন তাদের রক্ত পরীক্ষায় লিভারের ক্ষতিকর এনজাইম, যেমন- ‘এএলটি’ এবং ‘এএসটি’-এর মাত্রা নাটকীয়ভাবে স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে এসেছে।”

এটি লিভারের কোষের অকাল ক্ষয় সরাসরি রোধ করতে সহায়তা করে।

বিটের রস তৈরির বৈজ্ঞানিক নিয়ম ও পরিমাণ

বিটের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি এর সিট্রাস উপাদান অক্ষুণ্ণ রাখতে চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন।

রেসিপি ও মেশানোর পদ্ধতি: ১টি মাঝারি আকারের কাঁচা বিটরুট ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে নিতে হবে। এবার বেন্ডারে সামান্য বিশুদ্ধ পানি এবং সঙ্গে ১ চা-চামচ তাজা লেবুর রস ও সামান্য আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে।

লেবুর ভিটামিন-সি বিটের আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টকে মস্তিস্ক ও লিভারে সহজে শোষণ হতে সাহায্য করে।

পরিমাপ: লিভারের সুরক্ষায় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ দিন সকালে খালি পেটে বা নাস্তার সঙ্গে ১ গ্লাস (প্রায় ২০০ মিলি) তাজা বিটের জুস পান করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিট জুসের সঙ্গে লেবু ও আদার মিশ্রণের উপকারিতা

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু বিটের রসের চেয়ে এর সঙ্গে তাজা লেবুর রস এবং আদা কুচি মিশিয়ে গ্রহণ করলে লিভার, ধমনী এবং মেটাবলিজমের ওপর ‘সিনার্জিস্টিক’ বা সম্মিলিত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ ডা. এলিজাবেথ রবিনসন এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা এই মিশ্রণের ৩টি বড় বৈজ্ঞানিক সুফল এবং ২টি ক্ষতিকর অপকারিতা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।

আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের শোষণ

ডা. এলিজাবেথ রবিনসন ব্যাখ্যা করেন, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আয়রন বা ‘নন-হেম আয়রন’ এবং ‘বেটালাইন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।”

মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিজ্জ আয়রন, সহজে শুষে নিতে পারে না। তবে বিটের রসের সঙ্গে যখন লেবুর তাজা রস মেশানো হয়, তখন লেবুর উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি বিটের নন-হেম আয়রনের রাসায়নিক রূপ পরিবর্তন করে তাকে ‘ফেরাস’ আয়রনে রূপান্তর করে।

এই ফেরাস রূপটি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে চার গুণ দ্রুত ও সহজে শোষিত হয়, যা রক্তস্বল্পতা নিমেষেই দূর করে।

ফ্যাটি লিভারের প্রদাহ ও পিত্তরসের ক্ষরণ দ্বিগুণ নিঃসরণ

পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আদার ভেতরে থাকা প্রধান সক্রিয় বায়ো-অ্যাক্টিভ যৌগ ‘জিঞ্জেরল’ এবং লেবুর ‘সিট্রিক অ্যাসিড’ লিভারে গিয়ে পিত্তরস বা বাইল জুস নিঃসরণের গতি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই পিত্তরস ধমনী ও লিভারের কোষে জমে থাকা শক্ত চর্বির কণাগুলোকে ভেঙে তরল করে শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। ফলে ফ্যাটি লিভারের রোগীদের লিভার এনজাইম সাধারণের চেয়ে অনেক দ্রুত স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে আসে।

রক্তনালী পরিষ্কার ও ধমনীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

বিটের নিজস্ব নাইট্রেট মুখের লালার সঙ্গে মিশে যে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করে, সেটার সঙ্গে লেবুর পটাসিয়াম এবং আদার প্রদাহরোধী উপাদান মিশে আরও বেশি সময় সচল রাখতে সাহায্য করে।

এটি রক্তনালীর দেয়ালগুলোকে পরিষ্কার রাখে এবং স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

কড়া অপকারিতা ও চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের হেপাটোলজিস্ট (লিভার বিশেষজ্ঞ) ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো বলেন, “মিশ্রণটি সুস্থ মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও, কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও দাঁতের এনামেল ক্ষয়: বিটের রসের তীব্র ক্ষার এবং লেবুর রসের কড়া অ্যাসিডের মেলবন্ধনে যাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল, তাদের খালি পেটে এটি পানের পর তীব্র বুক জ্বালাপোড়া, পেট মোচড়ানো কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।

তাছাড়া নিয়মিত সরাসরি সিট্রাস জুস পানে দাঁতের প্রতিরক্ষামূলক সাদা এনামেল স্তর চিরতরে ক্ষয়ে যেতে পারে; তাই এই জুস সবসময় স্ট্র দিয়ে পান করা এবং পানের পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গ্লুকোজ স্পাইক: বিটরুটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। এর সঙ্গে যদি স্বাদের জন্য আপেল বা গাজরের রস মেশানো হয়, তবে এর আঁশ নষ্ট হয়ে তরল ফ্রুক্টোজ রক্তে মিশে ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব: আদা প্রাকৃতিকভাবেই রক্তকে কিছুটা পাতলা করতে সাহায্য করে। যারা স্ট্রোক বা হার্টের ব্লকের কারণে আগে থেকেই চিকিৎসকের দেওয়া ‘অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট’ থেরাপির ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত আদা-বিটের জুস খেলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অক্সালেট ও কিডনি পাথরের ঝুঁকি

ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে ‘অক্সালেট’ থাকে। তাই যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা যাদের কিডনিতে পাথর বা ‘স্টোন’ হওয়ার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য বিটের জুস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

রক্তে সুগারের হঠাৎ বৃদ্ধি: বিটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা কড়া মিষ্টি উপাদান বা মধু না মিশিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত খেতে হবে।

রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া: যারা উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত বিটের জুস খেলে এর নাইট্রিক অক্সাইড রক্তচাপকে হুট করে বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লিভারের টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে সহজে ছেঁকে বের করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।

মনে রাখতে হবে

কোনো পানীয়ই রাতারাতি ফ্যাটি লিভার সারাতে পারে না, যদি না দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত চিনি, ডালডা, তেল ও অতিরিক্ত ফাস্টফুড পুরোপুরি বর্জন করা হয়।

আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সঠিক সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পরিমিত বিটের জুস পানের মিলিত সমন্বয়ে লিভারকে চর্বিমুক্ত ও রোগমুক্ত রাখা সম্ভব।

সূত্র : বিডিনিউজ২৪

ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির দায় ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির দায় ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির দায়ে ৫টি ফার্মেসিকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) ভাঙ্গা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়াম।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওষুধ ও কসমেটিক আইন ২০২৩ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভাঙ্গা বাজারের রায় ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, ন্যাশনাল মেডিকোকে ১০ হাজার টাকা, বৃষ্টি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, পদ্মা ড্রাগ হাউসকে ৮ হাজার টাকা এবং একতা ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​আদায় করা জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

​অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কে ভাঙ্গা বাজার এলাকার প্রায় অর্ধশত ওষুধের দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

​অভিযানের সময় ফরিদপুর জেলা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান এবং ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

​ভাঙ্গার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়াম জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে ওষুধের অনিয়ম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই আরোহী।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সালাউদ্দিন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তাঁরা নিহত সালাউদ্দিনের বন্ধু।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থেকে এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুই বন্ধু মারাত্মক আহত হন।

​পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত সাব্বির ও তামিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।