খুঁজুন
, ,

প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
প্রতিদিন টক দই খেলে মিলতে পারে যে ১০ উপকার?

সুস্থ থাকতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায়। এ ক্ষেত্রে টক দই হতে পারে একটি ভালো খাবার।

দুধ থেকে তৈরি হলেও টক দই অনেকের কাছে তুলনামূলক সহজপাচ্য। দুধে থাকা ল্যাকটোজ ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আংশিকভাবে ভেঙে যায়। ফলে যাঁদের দুধ খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁদের কেউ কেউ টক দই তুলনামূলক ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। তবে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হবে, এমন নয়।

টক দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৬ ও বি১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে।

তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার সম্ভাব্য উপকারগুলো কী?

১. দুধের বিকল্প হতে পারে

অনেকেরই দুধ খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হয়। বিশেষ করে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে দুধের পরিবর্তে টক দই অনেকের জন্য তুলনামূলক সহনীয় হতে পারে। কারণ দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় দুধের কিছু ল্যাকটোজ ভেঙে যায়।

তবে কারও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বেশি হলে দই খাওয়ার আগেও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. হজমে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি বা অনিয়মিত মলত্যাগের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

তবে দই কোনো হজমের রোগের চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিনের গ্যাস, অম্বল বা পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে

টক দইয়ে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং প্রোবায়োটিক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে। অন্ত্রের সুস্থতা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে টক দই খেলেই সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো রোগ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যায়, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

৪. হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টক দইয়ে এই দুই ধরনের খনিজ পাওয়া যায়। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে টক দই একা কোনো ম্যাজিক খাবার নয়। তবে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার হওয়ায় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য টক দইয়ের পাশাপাশি মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে

টক দইয়ে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কম লবণযুক্ত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টক দই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে শুধু দই খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসা মেনে চলতে হবে।

৭. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ

কম চর্বিযুক্ত টক দই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো জরুরি।

৮. মানসিক চাপ কমাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হওয়ায় সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে টক দই সরাসরি স্ট্রেস বা উদ্বেগের চিকিৎসা করে, এমন বৈজ্ঞানিক দাবি করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৯. শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগাতে পারে

টক দইয়ে ভালো মানের প্রোটিন থাকে। শরীরের পেশি, কোষ ও বিভিন্ন টিস্যুর স্বাভাবিক গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় টক দই প্রোটিনের একটি উৎস হিসেবে রাখা যেতে পারে।

১০. ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয়

টক দই ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে মুখে দই, লেবুর রস বা অন্য উপাদান মিশিয়ে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার। লেবুর রস বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

ত্বকের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

কীভাবে খাবেন টক দই?

টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া দই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবারের সঙ্গে কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যায়। ফল, ওটস বা বাদামের সঙ্গে টক দই মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

তবে বাজারের অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার জন্য দই কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে টক দই পুষ্টিকর একটি দুগ্ধজাত খাবার। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারই সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় পরিমিত টক দই রাখলেই মিলতে পারে সবচেয়ে ভালো ফল।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে আরকান মোল্যা নামের এক কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় চার একর জমির ইরি ধান আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই কৃষক।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরকান মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার সিরাজুল হক সুরাপ মোল্যার ছেলে। ঘটনাটি জানতে পেরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরুনা গ্রামের মাঠে দুটি সেচযন্ত্রের সাহায্যে প্রায় চার একর জমিতে ইরি ধানের চাষ করছিলেন কৃষক আরকান মোল্যা। একটি সেচযন্ত্র থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৭০০ ফুট। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাঁর দুটি সেচযন্ত্রই পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। এতে বর্তমান বাজারমূল্যে তাঁর প্রায় অর্ধ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী কৃষক আরকান মোল্যা জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের আলফাডাঙ্গা শাখা থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এই ইরি ধানের আবাদ ও সেচযন্ত্র ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে ধানগাছের বয়স দুই মাস চলছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে শিষ বের হওয়ার কথা। এই মুহূর্তে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ধানখেত শুকিয়ে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও তিনি এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া পরী বেগম দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে নিজ জন্মভূমি ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফিরেছেন। মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সুদূর পাকিস্তানে পাড়ি জমানো এই নারী জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভাইদের বুকে ফিরে পেলেও ভাষা বদলে ফেলেছেন। মাতৃভাষা বাংলা ভুলে গিয়ে এখন তিনি সাবলীলভাবে কথা বলছেন উর্দুতে। তবুও এই ভাষা ও দূরত্বের ব্যবধান দুই ভাই-বোনের আত্মিক টানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম মৃত মমিন মাতুব্বর। প্রায় ৫০ বছর আগে অতীতে শিশু বয়সে নিখোঁজ হওয়া পরী বেগম চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রথমে ভারত এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পৌঁছান। সেখানে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে এক নিঃসন্তান দম্পতির আশ্রয়ে বড় হন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানি এক নাগরিককে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

​তবে প্রবাসের মাটিতে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও জন্মভূমি কিংবা আপন মা-বাবা ও ভাইদের স্মৃতি একটুও মুছে যায়নি পরী বেগমের মন থেকে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এক বিস্ময়কর চাকা ঘোরে পাকিস্তানে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি যুবকের সুবাদে।

​পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ওই দুই যুবকের সাথে পরিচয় হয় পরী বেগমের নাতির। দাদির মুখে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া শেকড়ের গল্প শুনে সেই যুবকরা উদ্যোগী হন। পরী বেগমের দেওয়া নগরকান্দার ঠিকানা এবং বাবা মমিন মাতুব্বর ও ভাইদের (নওশের আলী মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বর ও সোলেমান মাতুব্বর) নাম সংগ্রহ করে তারা দেশে ফিরে খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে তাদের মাধ্যমেই দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ভাই-বোনের।

​অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সম্প্রতি জন্মভূমিতে ফেরেন পরী বেগম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবধানে ভাই-বোনের চেহারা ও পরিবেশ বদলালেও ভালোবাসার কমতি হয়নি একটুও। ছোটবেলার সেই বোনকে এত বছর পর কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা।

​এদিকে পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, দীর্ঘকাল পাকিস্তানে বসবাস করায় পরী বেগম এখন আর বাংলায় কথা বলতে পারেন না; তার দৈনন্দিন ভাষা এখন উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালেও তিনি উর্দুতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভাইয়েরাও তার সব কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও চোখের ভাষা আর অনুভূতির মধ্য দিয়েই মনের ভাব বুঝে নিচ্ছেন।

​দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের এই নাটকীয় ও আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে নগরকান্দার পৈতৃক বাড়িতে বইছে আনন্দের বন্যা। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তাকে একনজর দেখতে। কেউ শুনছেন তার কষ্টের জীবনসংগ্রামের গল্প, আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমির প্রতি অটুট ভালোবাসার কথা ভেবে। পরিবারে আনন্দের এই জোয়ার ধরে রাখতে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

​পরী বেগমের ভাই সাইফুল মাতুব্বর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘পরী আপা আমাদের কাছে ফিরে আসায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘ এই বিচ্ছেদ শেষে তাকে ফিরে পাবো, তা আমরা কল্পনাই করতে পারিনি।’

​মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি নির্মমভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা ভিনদেশে হারিয়ে গিয়েছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেকড়ে তার এই ফিরে আসা কেবল একটি পরিবারের পুনর্মিলনই নয়, এটি মানুষের জন্মভূমির প্রতি অবিনশ্বর টান ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান।

 

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ

ফরিদপুরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করার এমন উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে এটিই প্রথম।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৌশল ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল বসানো হয়েছে। এ সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

​সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টটি স্থাপনে সরকারের দেওয়া ২০ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করেছে। প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সঙ্গে আগামী ২০ বছরের জন্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হয়েছে।

​উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা পরিষদ এবং পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-১, ফরিদপুরের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ জানান, “দেশের ৬১টি জেলা পরিষদকে সোলার সিস্টেম স্থাপনে সরকার ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছিল। ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রথম নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করে কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল। আমাদের দৈনিক চাহিদা ৪০ কিলোওয়াট, বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।”

​জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিজস্ব প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।