খুঁজুন
, ,

‘ফুটপাতের সেই নারী, যাকে দেখেও কেউ দেখেনি’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
‘ফুটপাতের সেই নারী, যাকে দেখেও কেউ দেখেনি’

সন্ধ্যা পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা রাত আটটার দিকে এগোচ্ছে। ফরিদপুর শহরের জেলা কারাগারের সামনের ব্যস্ত সড়কটি তখনও জেগে আছে। একের পর এক ট্রাক, অটোরিকশা আর মোটরসাইকেল ছুটে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে। আকাশ থেকে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে—এমন বৃষ্টি, যা ভেজায়ও, আবার অদ্ভুত এক বিষণ্নতাও ছড়িয়ে দেয়।

সেই ব্যস্ততার মাঝেই রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসে আছেন এক উসকোখুসকো চুলের নারী। বয়স কত, তা বোঝার উপায় নেই। ময়লা কাপড়ে জড়ানো শরীর, ক্লান্ত চোখ, শুকিয়ে যাওয়া মুখ। তিনি ছিন্নমূল, নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন—কেউ জানে না। হয়তো জানার প্রয়োজনও মনে করেনি কেউ।

মানুষগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কারও হাতে অফিসের ফাইল, কেউ আবার মোবাইলের পর্দায় ডুবে আছে। কিন্তু একবারের জন্যও কেউ থেমে জিজ্ঞেস করল না, “মা, আজ কিছু খেয়েছেন?”

নারীটি নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন। কখনো হেসে উঠছেন, কখনো আবার অদৃশ্য কাউকে উদ্দেশ করে অভিমান করছেন। মনে হয়, তারও একদিন সংসার ছিল। হয়তো কোনো সন্তানের মুখে তিনি ভাত তুলে দিতেন, হয়তো কেউ তাকে “মা” বলে ডাকত। সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে সব হারিয়ে আজ তিনি শুধু শহরের এক কোণে পড়ে থাকা বিস্মৃত মানুষ।

সড়কের লাইটের মিটিমিটি আলো এসে পড়ছে তার গায়ে। সেই আলো যেন তাকে আলোকিত করছে না, বরং আমাদের অন্ধত্বকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। রাত যত গভীর হবে, ফুটপাতটাই হবে তার বিছানা। আকাশ হবে তার ছাদ, আর বৃষ্টির শব্দ হবে রাতের সঙ্গীত।

আমরা প্রতিদিন অসংখ্য খবর পড়ি, অসংখ্য ঘটনা দেখি। কিন্তু এমন একটি মানুষের নীরব কান্না কোনো শিরোনাম হয় না। কারণ তিনি গুরুত্বপূর্ণ নন; তিনি ভোট নন, ক্ষমতা নন, আলোচনার বিষয়ও নন।

হয়তো আগামীকালও তিনি এখানেই বসে থাকবেন। আবারও হাজার মানুষ তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে। কেউ তাকাবে না, কেউ থামবে না। তবু পৃথিবী তখনও দাবি করবে—মানুষ নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক প্রাণী।

হয়তো সত্যিকারের মানবতা শুরু হয় না বড় বড় দান দিয়ে; শুরু হয় একটি প্রশ্ন থেকে—”আপনি কি আজ কিছু খেয়েছেন?” কখনো কখনো একটি উষ্ণ দৃষ্টি, একটি শুকনো কাপড়, কিংবা এক প্লেট ভাতই একজন মানুষের কাছে পুরো পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে।

লেখক : সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহত

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিটলার বিশ্বাস (৩৫) নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

​শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত হিটলার বিশ্বাস গোপালগঞ্জ জেলার বড় ডুমরাসুর এলাকার সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঢাকা জেলার দোহার থানার শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

​পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটিতে দুপুরে কর্মস্থল দোহার থেকে মোটরসাইকেলে করে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন হিটলার বিশ্বাস। পথে বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে সনাক্ত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যা ও ছিনতাই: অজ্ঞানপার্টির ৩ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যা ও ছিনতাই: অজ্ঞানপার্টির ৩ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক প্রয়োগ করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞানপার্টির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

​শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মুরাদ শেখ (২৪) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এছাড়া এই ঘটনায় আগেই গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাই চক্রের সদস্য সুমন আহমেদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড় ৮টার দিকে শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ২০০ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে। পথিমধ্যে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে তারা রুমালে চেতনানাশক মাখিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারের মুখে চেপে ধরে। এতে চালক জ্ঞান হারালে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় চক্রটি।

​পরে স্থানীয়রা চালক বিশ্বনাথকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনার তিন মাস পর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে একটি গ্যারেজে থাকা ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের ‘হুট’-এর সুত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর রাতে শহরের ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

​পরদিন আসামী মুরাদকে আদালতে পাঠালে সে চালককে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

​ঘটনায় জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতার করতে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে আরকান মোল্যা নামের এক কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় চার একর জমির ইরি ধান আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই কৃষক।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরকান মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার সিরাজুল হক সুরাপ মোল্যার ছেলে। ঘটনাটি জানতে পেরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরুনা গ্রামের মাঠে দুটি সেচযন্ত্রের সাহায্যে প্রায় চার একর জমিতে ইরি ধানের চাষ করছিলেন কৃষক আরকান মোল্যা। একটি সেচযন্ত্র থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৭০০ ফুট। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাঁর দুটি সেচযন্ত্রই পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। এতে বর্তমান বাজারমূল্যে তাঁর প্রায় অর্ধ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী কৃষক আরকান মোল্যা জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের আলফাডাঙ্গা শাখা থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এই ইরি ধানের আবাদ ও সেচযন্ত্র ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে ধানগাছের বয়স দুই মাস চলছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে শিষ বের হওয়ার কথা। এই মুহূর্তে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ধানখেত শুকিয়ে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও তিনি এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।