খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে ফরিদপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

হারুন আনসারী, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:৫৮ পিএম
আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে ফরিদপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন সহকারে মিছিলে যোগ দেন। প্রায় এক কিলোমিটারব্যাপী লম্বা এই মিছিল শহরের প্রধান সড়ক অতিক্রম করে শহরের কোর্ট চত্বরে পৌঁছে শেষ হয়।
এর আগে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ বদরউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. দেলোয়ার হুসাইন, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য সামসুল ইসলাম আল বরাটি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নায়েবে আমীর আবু হারিস মোল্যা, সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জসীমউদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এসএম আবুল বাশার, পৌর জামায়াতের আমীর ডা. এহসানুল মাহবুব রুবেল, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাফেজ ওবায়দুল্লাহ ও শহর শাখার সভাপতি আকমাল হোসাইন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন- জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাজানো মামলায় ক্যাঙ্গারু আদালতে আজহারুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা থেকেই শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বানিয়ে একের পর এক ইসলামী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছে। সেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নের পর তার এই ট্রাইব্যুনালও অবৈধ হয়ে গেছে।
তারা বলেন, অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে আজহারুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে যেই মামলা দায়ের করা হয়, তার কোন ভিত্তি নেই। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই পাতানো ট্রাইব্যুনালের ফরমায়েশি সাজায় কারাগারে অন্তরীণ মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি চাই।
তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতাদের বিচারের নামে হত্যা করেছে। মিথ্যা অভিযোগ আজহারুল ইসলামকে এখনো বন্দি করে রেখেছে। তাকে ফাঁসির সেলের পাশে একটি কক্ষে অমানবিকভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তাকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নইলে জনগণের বিক্ষোভের মুখে এই সরকারকেও পালাতে হবে।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।