খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

‘আমি দীর্ঘ ১৭টি বছর এই সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি’ — শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০১ পিএম
‘আমি দীর্ঘ ১৭টি বছর এই সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি’ — শামা ওবায়েদ

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনটা সঠিক ও সুষ্ঠু হবে। এবং দেশের আপামর জনতা সার্বিকভাবে ভোট দিতে পারবে। আমরা মনে করি, সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হবে।’

বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে বিএনপি নেতা ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার বাড়িতে আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে দেখেছি, কিছু মানুষ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে আবার কিছু মানুষ না খেয়ে থেকেছে। সরকার দলীয় লোকের চাকরি হয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি হয় নাই। এটা তো বৈষম্য। এই বৈষম্যের জন্যই কিন্তু আমাদের ছোট ছোট ভাইবোনেরা মাঠে নেমেছিল। এই মাঠে নামতে গিয়ে বহু ছেলে-মেয়ে জীবন ও রক্ত দিয়েছে। তাদের রক্তের বিনিময় আজকে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতেছি।’

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আশির দশকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। এরপর দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। এবং ৯১ সালে জনগণের বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া উপমহাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক- ওনাকে জঘন্য মিথ্যা মামলায় ৬টি বছর জেলে থাকতে হয়েছে। তারপরেও দীর্ঘ ১৭টি বছর তিনি আন্দোলন করে গেছেন। তিনি এখন অসুস্থ, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

নিজের বাবা বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক রাজনীতিবিদ আছে টাকা-পয়সা বাড়ি-গাড়ি বানিয়েছে। অবৈধ উপায়েও অনেকে সম্পদ করেছেন। কিন্তু আমি গর্বিত, কারণ আমার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান ব্যাংকে দেনা রেখে মারা গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার জন্য রেখে গেছেন, সেটা হলো সালথা-নগরকান্দার মানুষ। আমি দীর্ঘ ১৭টি বছর এই সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে যদি সংসদে যেতে পারি তাহলে আরো অনেক বেশি কাজ করতে পারবো।’

সাবেক বিএনপি নেতা ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মীসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, বিএনপি নেতা রাশেদ মিয়া, কামরুল ইসলাম মজনু, যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, পাভেল রায়হান, এনায়েত হোসেন, কামরুল ইসলাম, মুরাদুর রহমান, ইব্রাহিম মেম্বার, রফিক মাতুব্বর প্রমূখ।

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।

সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০৬ পিএম
সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ফরিদপুরের সালথা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাব-এর হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই যুক্তিযুক্ত মনে করছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও কারো প্ররোচনা ছাড়াই নিয়েছেন।

এদিকে, পদত্যাগের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত রাখবেন।

প্রসঙ্গত, ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ মনির হোসেন-এর সভাপতিত্বে ও ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়ার পদত্যাগে সালথা উপজেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।