খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

দূষণ মোকাবিলায় বসছে বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ১১:০৬ এএম
দূষণ মোকাবিলায় বসছে বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশে নিরবচ্ছিন্ন বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন-সিএএমএস) স্থাপন করা হবে।

শুরুতে আটটি সিএএমএস স্থাপন করতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।

 

বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে রাজধানীর বাতাস। প্রায় প্রতিদিনই পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে ঢাকা। শীত মৌসুমে টানা কয়েক সপ্তাহ এ শহরের বাতাসের মান ছিল ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।

টানা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের কারণে ঢাকা ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৫টি শহরের মধ্যে আছে চীনের বেইজিং, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, ইরাকের বাগদাদ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা দেবে ৬৭ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। আর সরকার ব্যয় করবে ৪১ দশমিক ১১ কোটি টাকা।

গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত বড় শহরগুলোর দূষণ মোকাবিলার লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার। সিএএমএস স্থাপনের সময়সীমা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ‘এয়ার পলিউশন মনিটরিং উন্নয়ন প্রকল্প’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট ১০৮ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে ৪১ দশমিক ১১ কোটি টাকা ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অনুদান দেবে ৬৭ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে স্থাপিত দূষণ পর্যবেক্ষণের ৩১টি স্টেশনের তুলনায় নতুন কেন্দ্রগুলো বেশি কার্যকর হবে। নতুন কেন্দ্রগুলো শহরের প্রধান সড়কে স্থাপন করা হবে। যেখানে যানবাহন থেকে নির্গত গ্যাস ও রাস্তার ধুলা একযোগে বায়ু দূষণ তৈরি করে। নতুন এই স্টেশনগুলো সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জিয়াউল হক জানান, আটটি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটি ঢাকায় ও দুটি চট্টগ্রামে স্থাপন করা হবে। অন্যটি হবে ভ্রাম্যমাণ। প্রয়োজন অনুযায়ী সেটা যেকোনো স্থানে স্থাপন করে বাতাসের মান পরিমাপ করা যাবে।

বায়ু দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে বায়ু দূষণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালে বায়ু দূষণের কারণে অকাল মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার, যা দেশের অর্থনীতিতে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। দেশের বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি, যা বাংলাদেশের বায়ু মানকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু অঞ্চলের একটি করে তুলেছে।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা দেশের জনগণের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, যদি এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বায়ু দূষণ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।

বায়ু দূষণের উৎস ও রোধকল্পে করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বাংলানিউজকে বলেন, যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো যথেষ্ট। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করবে কে? পুরোনো গাড়ি ওভারলোডেড হলে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। একটা বাসে ওঠার কথা ৩০ জন, সেখানে আমাদের রাজধানীতে চলাচল করা বাসে ওঠে ৬০ জন। ট্রাকে ৫ টন লেখা থাকলেও পরিবহন করে ১২ টন বা তার চেয়েও বেশি। ফলে ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়।

তিনি বলেন, যেখানেই নির্মাণ কাজ চলছে ইট, বালু সবকিছুই খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে। এসব থেকে অতি ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে যাচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখলেই দূষণ কমবে। ইটভাটাগুলো থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। আমাদের রাস্তাঘাটেও প্রচুর ধুলাবালি থাকে। উন্নত দেশে ভোরের দিকে রাস্তা ভিজিয়ে দেওয়া হয় যেন ধুলাবালি না ওড়ে। দূষণের এসব উপাদান নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই হয়।

প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, দূষণ রোধে অনেক স্টাডি ও পরিকল্পনা আছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় অনেক স্টাডি করেছে। প্রচুর মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি এনেছে। দূষণ রোধে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা আমাদের আছে, এখন কাজটা করা দরকার।

প্রায় ২৫ বছর ধরে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সালাম। বায়ু দূষণ রোধে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ১০-১৫ বছর ধরে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সরকার কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরও দূষণ কমছে না। কারণ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আরও বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নিলে বায়ু দূষণ কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বায়ু দূষণ প্রতিরোধে আরও অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাকি রয়েছে। যেমন শীতকালে বিভিন্ন আবর্জনা পোড়ানো হয়, এগুলো বন্ধ করতে হবে। রাস্তাঘাট থেকে যে ধুলাবালি ওড়ে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো মানের জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হবে। আমাদের অল্টারনেটিভ ফুয়েলের বিষযয়ে ভাবতে হবে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম কমাতে হবে। শিল্প কারখানা, জেনারেটর ও গাড়ি কালো ধোঁয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের রাস্তাঘাট এবং গাছপালা, জলাধারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে হবে। আন্তঃদেশীয় দূষণও কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলেই বায়ু দূষণ কমে যাবে।

দূষণ কমানোর অর্থনৈতিক প্রভাব

কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কঠোর গাইডলাইন (৫ µg/m³) অনুসরণ করা হয়, বছরে ৮১ হাজার ২৮২ প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। দূষিত বাতাসের প্রভাবে দেশে প্রতি বছর ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত (অ্যাজমা) রোগে আক্রান্ত হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে প্রতি বছর দেশের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, যা জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন