খুঁজুন
, ,

দূষণ মোকাবিলায় বসছে বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
দূষণ মোকাবিলায় বসছে বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশে নিরবচ্ছিন্ন বাতাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন-সিএএমএস) স্থাপন করা হবে।

শুরুতে আটটি সিএএমএস স্থাপন করতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।

 

বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে রাজধানীর বাতাস। প্রায় প্রতিদিনই পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে ঢাকা। শীত মৌসুমে টানা কয়েক সপ্তাহ এ শহরের বাতাসের মান ছিল ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।

টানা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের কারণে ঢাকা ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৫টি শহরের মধ্যে আছে চীনের বেইজিং, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, ইরাকের বাগদাদ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা দেবে ৬৭ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। আর সরকার ব্যয় করবে ৪১ দশমিক ১১ কোটি টাকা।

গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত বড় শহরগুলোর দূষণ মোকাবিলার লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার। সিএএমএস স্থাপনের সময়সীমা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ‘এয়ার পলিউশন মনিটরিং উন্নয়ন প্রকল্প’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট ১০৮ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে ৪১ দশমিক ১১ কোটি টাকা ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অনুদান দেবে ৬৭ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে স্থাপিত দূষণ পর্যবেক্ষণের ৩১টি স্টেশনের তুলনায় নতুন কেন্দ্রগুলো বেশি কার্যকর হবে। নতুন কেন্দ্রগুলো শহরের প্রধান সড়কে স্থাপন করা হবে। যেখানে যানবাহন থেকে নির্গত গ্যাস ও রাস্তার ধুলা একযোগে বায়ু দূষণ তৈরি করে। নতুন এই স্টেশনগুলো সরকারের দূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জিয়াউল হক জানান, আটটি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটি ঢাকায় ও দুটি চট্টগ্রামে স্থাপন করা হবে। অন্যটি হবে ভ্রাম্যমাণ। প্রয়োজন অনুযায়ী সেটা যেকোনো স্থানে স্থাপন করে বাতাসের মান পরিমাপ করা যাবে।

বায়ু দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে বায়ু দূষণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালে বায়ু দূষণের কারণে অকাল মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার, যা দেশের অর্থনীতিতে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। দেশের বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি, যা বাংলাদেশের বায়ু মানকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু অঞ্চলের একটি করে তুলেছে।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা দেশের জনগণের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, যদি এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বায়ু দূষণ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।

বায়ু দূষণের উৎস ও রোধকল্পে করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বাংলানিউজকে বলেন, যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো যথেষ্ট। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করবে কে? পুরোনো গাড়ি ওভারলোডেড হলে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। একটা বাসে ওঠার কথা ৩০ জন, সেখানে আমাদের রাজধানীতে চলাচল করা বাসে ওঠে ৬০ জন। ট্রাকে ৫ টন লেখা থাকলেও পরিবহন করে ১২ টন বা তার চেয়েও বেশি। ফলে ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়।

তিনি বলেন, যেখানেই নির্মাণ কাজ চলছে ইট, বালু সবকিছুই খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে। এসব থেকে অতি ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে যাচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখলেই দূষণ কমবে। ইটভাটাগুলো থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। আমাদের রাস্তাঘাটেও প্রচুর ধুলাবালি থাকে। উন্নত দেশে ভোরের দিকে রাস্তা ভিজিয়ে দেওয়া হয় যেন ধুলাবালি না ওড়ে। দূষণের এসব উপাদান নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই হয়।

প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, দূষণ রোধে অনেক স্টাডি ও পরিকল্পনা আছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় অনেক স্টাডি করেছে। প্রচুর মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি এনেছে। দূষণ রোধে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা আমাদের আছে, এখন কাজটা করা দরকার।

প্রায় ২৫ বছর ধরে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সালাম। বায়ু দূষণ রোধে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ১০-১৫ বছর ধরে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সরকার কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরও দূষণ কমছে না। কারণ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আরও বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নিলে বায়ু দূষণ কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বায়ু দূষণ প্রতিরোধে আরও অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাকি রয়েছে। যেমন শীতকালে বিভিন্ন আবর্জনা পোড়ানো হয়, এগুলো বন্ধ করতে হবে। রাস্তাঘাট থেকে যে ধুলাবালি ওড়ে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো মানের জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হবে। আমাদের অল্টারনেটিভ ফুয়েলের বিষযয়ে ভাবতে হবে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম কমাতে হবে। শিল্প কারখানা, জেনারেটর ও গাড়ি কালো ধোঁয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের রাস্তাঘাট এবং গাছপালা, জলাধারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে হবে। আন্তঃদেশীয় দূষণও কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলেই বায়ু দূষণ কমে যাবে।

দূষণ কমানোর অর্থনৈতিক প্রভাব

কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কঠোর গাইডলাইন (৫ µg/m³) অনুসরণ করা হয়, বছরে ৮১ হাজার ২৮২ প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। দূষিত বাতাসের প্রভাবে দেশে প্রতি বছর ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত (অ্যাজমা) রোগে আক্রান্ত হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে প্রতি বছর দেশের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, যা জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”