খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ, ১৪৩২

নগরকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নকল সিগারেট ও নিষিদ্ধ পলিথিন ধ্বংস

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ১:৪৯ পিএম
নগরকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নকল সিগারেট ও নিষিদ্ধ পলিথিন  ধ্বংস
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নকল সিগারেট ও নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের রাকিব স্টোরে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবিরউদ্দিন।
এ সময় রাকিব স্টোরের মালিক শরিফউদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে জব্দকৃত নকল সিগারেট ও পলিথিন ব্যাগ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ, পুলিশের উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলামসহ আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার নগরকান্দা উপজেলা সদর বাজারের দুটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাকিব স্টোরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্রান্ডের ১৫২০ শলাকা নকল সিগারেট ও ৩০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা করা হয়। এখনই সাথে রাকিব স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী শরিফউদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবিরউদ্দিন বলেন, রাখিব স্টোরে নকল চেগারেট ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন পাওয়ায় দোকানের মালিক শরিফ উদ্দিনকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চেগারেট ও নিষিদ্ধ পলিথিন জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আরো জানান।

ফরিদপুর-৩ : ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১৯ পিএম
ফরিদপুর-৩ : ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে একমাসের কারাদন্ডের আাদেশ প্রদান করা হয়। এ আদেশ প্রদান করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে৷

অভিযুক্ত ব্যক্তি দেওরা এলাকার হাফিজুর ইসলামের ছেলে তানজির ইসলাম৷ তিনি বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিচারিক আদালত সুত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। যা নির্বাচনী আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় নির্বাচনী আইন মোতাবেক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে তাঁরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

ভোটের দিনেই ‘কারচুপি’, সালথায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপির দুই সমর্থকসহ ৩ জন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ভোটের দিনেই ‘কারচুপি’, সালথায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপির দুই সমর্থকসহ ৩ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ভোটগ্রহণের দিন সালথা উপজেলায় ভোট কারচুপি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—কালাম মাস্টার, আমজাদ হোসেন ও মো. রবিউল। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে কালাম মাস্টার ও রবিউল বিএনপির সমর্থক ও আমজাদ রিকশার সমর্থক।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন।

জানা গেছে, আটক কালাম মাস্টার গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-২ আসনে শুরু থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আল্লামা শাহ আকরাম আলী। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ফরিদপুরে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু ভোটগ্রহণ, কঠোর নিরাপত্তায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ভোটার

হারুন-অর-রশীদ ও মেহেদী সোহেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৮ এএম
ফরিদপুরে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু ভোটগ্রহণ, কঠোর নিরাপত্তায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুর জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার ৬৫৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটারদের জন্য আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, জেলার ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার ২৪টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি বিজিবির ১৩ প্লাটুন, র‌্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না।”

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”

ভোট দিতে আসা ফরিদপুর সদর উপজেলার কুদ্দুস শেখ নামে এক ভোটার বলেন, “সকালে একটু ভিড় কম ছিল, তবে পরিবেশ শান্ত। কোনো সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি।” নগরকান্দা উপজেলার এক নারী ভোটার জানান, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রশাসনের উপস্থিতি দেখে নিরাপদ মনে হচ্ছে।”

তবে কয়েকটি কেন্দ্রে সকালবেলায় ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তা, নির্বাহী ও বিচারিক তদারকি এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ফরিদপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটারের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে প্রার্থীরা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।