খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

পুরুষদের জন্য শীতকালীন ৮ সেরা আউটফিট আইডিয়া

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৮ এএম
পুরুষদের জন্য শীতকালীন ৮ সেরা আউটফিট আইডিয়া

শীত এখন পুরোপুরি এসেই গেছে! আপনি হয়তো অনেক কাপড়ের লেয়ার পরে থাকছেন, কিন্তু তাই বলে স্টাইলের সঙ্গে আপস করার কোনো দরকার নেই। ঠান্ডা মৌসুম আসলে দারুণ টেক্সচার, ফ্যাব্রিক এবং লেয়ারিং নিয়ে পরীক্ষা করার সেরা সময়।

মিটিং হোক বা সপ্তাহান্তের ট্রিপ, আমাদের আজকের শীতকালীন আউটফিট আইডিয়াগুলো আপনাকে দেবে উষ্ণতা এবং স্টাইল, দুটোই। ক্যাজুয়াল, অফিস কিংবা পার্টি – সব লুকেই থাকুন ট্রেন্ডের এক ধাপ এগিয়ে।

শীতের ফ্যাশন কেবল ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া নয়, বরং স্টাইল আর ফাংশনকে মিলিয়ে নেওয়ার কৌশল। অফিসের ক্লাসিক পোশাক থেকে শুরু করে ট্রেন্ডি ক্যাজুয়াল লুক এবং এলিগ্যান্ট পার্টি আউটফিট পর্যন্ত, আজকের লেখা আপনাকে যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য স্টাইলিশ শীতের পোশাক বেছে নিতে সাহায্য করবে।

ফরমাল স্যুট ও ওভারকোট

নেভি বা গ্রে রঙের স্লিম-ফিট স্যুটের ওপর লং ওভারকোট, একটি টাইমলেস শীতের লুক। অফিস মিটিং বা কর্পোরেট ইভেন্ট – সব জায়গাতেই মানিয়ে যায়। লেদার জুতো দিয়ে লুকটি সম্পূর্ণ করুন।

হুডি ও বোম্বার জ্যাকেট

হুডির ওপর বোম্বার জ্যাকেট, নিচে স্লিম-ফিট জিন্স বা কার্গো – আরামদায়ক ও স্টাইলিশ ক্যাজুয়াল আউটফিট। বোম্বার দেবে উষ্ণতা, আর হুডি আনবে নরম আরাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা সাধারণ আউটিংয়ের জন্য দারুণ।

ওভারশার্ট ও ডেনিম

প্লেইন টি-শার্টের উপর ফ্লানেল ওভারশার্ট, সঙ্গে রিল্যাক্সড-ফিট জিন্স – সহজ, আরামদায়ক এবং শীতের জন্য উপযুক্ত ক্যাজুয়াল লুক। ওভারশার্ট দেবে বাড়তি উষ্ণতা, আর ডেনিম দেবে আরাম।

লেদার জ্যাকেট ও রিপড জিন্স

ক্লাসিক ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেটের নিচে গ্রাফিক টি- একেবারে বোল্ড এবং এডজি লুক। রিপড জিন্স ও বুট পরলে পার্টি-রেডি আউটফিট হয়ে যাবে। ক্যাজুয়াল শীতকালীন গেট-টুগেদারের জন্য পারফেক্ট।

ভেলভেট ব্লেজার ও ডার্ক প্যান্ট

পার্টিতে একটু এলিগ্যান্ট লুক চাইলে ভেলভেট ব্লেজারের সঙ্গে ডার্ক চিনো বা ট্রাউজার দারুণ মানায়। পকেট স্কয়ার যোগ করলে আরও স্মার্ট লাগে। সেমি-ফরমাল বা ফরমাল শীতের পার্টির জন্য উপযুক্ত।

ট্র্যাডিশনাল বন্ধগলা ও শাল

ডার্ক টোনের বন্ধগলা স্যুটের সঙ্গে কাশ্মিরি শাল – উষ্ণতা ও ঐতিহ্যের সুন্দর মিশ্রণ। বিয়ের মতো ফরমাল ইভেন্টে Cultural ছোঁয়া যোগ করতে চাইলে এটা সেরা পছন্দ।

টার্টলনেক ও ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার

মডার্ন লুক চাইলে টার্টলনেকের সঙ্গে ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার অসাধারণ মানায়। স্মার্ট-ক্যাজুয়াল এই লুকটি শীতের বিয়েতেও দারুণ চলে। টার্টলনেক দেবে আরাম, আর ব্লেজার আনবে স্ট্রাকচার ও স্টাইল।

পুরুষদের শীতের পোশাক বাছাইয়ের টিপস

ফ্যাব্রিক নির্বাচন : উষ্ণতা ও আরামের জন্য উল, ক্যাশমিয়ার, ফ্লিসই সেরা। হালকা শীতে কটন বা ব্লেন্ড ভালো। বৃষ্টি হলে ওয়াটারপ্রুফ ফ্যাব্রিক বেছে নিন।

লেয়ারিং : প্রথমে থার্মাল, তারপর সোয়েটার/হুডি/শার্ট, আর সবশেষে জ্যাকেট বা কোট – এটাই সঠিক লেয়ারিং।

বহুমুখী পোশাক : ডার্ক ট্রাউজার, নিউট্রাল সোয়েটার, টেইলরড ব্লেজার – এসব বেসিক আইটেম বারবার ব্যবহার করা যায়।

প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ : স্কার্ফ, গ্লাভস, ক্যাপ – উষ্ণও রাখে, স্টাইলও বাড়ায়। লেদার জুতো বা বুট শীতে খুবই কার্যকর।

স্টাইল টিপস

রঙের সমন্বয়

ফরমাল লুকের জন্য গ্রে, নেভি আর ব্ল্যাক সবচেয়ে ভালো। তবে ক্যাজুয়ালে চাইলে উজ্জ্বল রঙ বা প্যাটার্ন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন।

অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহার করুন

স্কার্ফ বা গ্লাভস সাধারণ জিন্স-সোয়েটারকেও স্মার্ট করে তুলতে পারে।

টেক্সচারের মিক্স

লেদার + উল, ডেনিম + ফ্লিস – এই ধরনের মিক্স মাত্রা বাড়ায় এবং লুককে আকর্ষণীয় করে তোলে।

শীতকালীন স্টাইল আয়ত্তে রাখুন

সঠিক ফ্যাব্রিক, লেয়ারিং আর বহুমুখী পোশাক – এগুলো মিলে শীতেও আপনি একইসঙ্গে উষ্ণ ও স্টাইলিশ থাকতে পারবেন। অফিস মিটিং থেকে শুরু করে ক্যাজুয়াল আউটিং – সব জায়গায় মানিয়ে যাবে আপনার লুক।

শীতের ফ্যাশন মানেই স্টাইল ত্যাগ নয়, বরং আরও সুযোগ নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার। উলেন ট্রাউজার, কর্ডস, চিনো- এ ধরনের শীতের প্রয়োজনীয় পোশাক আপনার ওয়ার্ডরোবকে সম্পূর্ণ করবে।

শীতকালীন আউটফিট নিয়ে যত প্রশ্ন

কাজ ও ক্যাজুয়াল আউটিং – দুই জায়গায় মানাবে এমন শীতের আউটফিট কী কী

উত্তর : কাজের জন্য টার্টলনেক + ব্লেজার এবং ক্যাজুয়ালের জন্য হুডি + বোম্বার জ্যাকেট দারুণ মানানসই।

শীতে সঠিক লেয়ারিং কীভাবে করবেন

উত্তর : প্রথমে থার্মাল → তারপর সোয়েটার/শার্ট → তারপর জ্যাকেট/কোট। এতে সারাদিন উষ্ণ ও আরামদায়ক লাগে।

শীতের ওয়ার্ডরোবের প্রয়োজনীয় আইটেম কী

উত্তর : উষ্ণ ফ্যাব্রিকের সোয়েটার, স্কার্ফ ও গ্লাভস, ডার্ক ট্রাউজার, ব্লেজার, জ্যাকেট—এগুলো সবচেয়ে জরুরি।

শীতের পোশাকে কি স্টাইল ও ফাংশন দুটোই রাখা সম্ভব?

উত্তর : অবশ্যই! উল বা ফ্লিসের মতো উষ্ণ ফ্যাব্রিক এবং স্মার্ট লেয়ারিং ব্যবহার করলে স্টাইল ও ব্যবহারিকতা দুটোই পাওয়া যায়।

শীতে আরাম ও স্টাইল দুটো কীভাবে ব্যালেন্স করবেন

উত্তর : উষ্ণ ফ্যাব্রিক বেছে নিন, সঙ্গে স্কার্ফ বা গ্লাভস যোগ করুন। ক্লাসিক কম্বিনেশনের সঙ্গে আধুনিক আউটারওয়্যার ব্যবহার করলে লুক আরও সুন্দর হয়।

সূত্র : ব্রাইট সাইড

‘নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই ‘ — নায়াব ইউসুফ

মেহেদী সোহেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
‘নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই ‘ — নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর- ৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেছেন নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই। এজন্য আমার আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মাধবদিয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিগত দেড়শত বছর যাবত আমার পরিবার এই ফরিদপুরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। মানুষ আমাদের ভালোবেসে ভোট দিয়ে এই নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বিগত দিনে আমরা কখনো আপনাদের রেখে পালাইনি। কারণ আমরা মনে করি এই নেতৃত্ব দেয়া হলো আমাদের একটি দায়িত্ব। আমরা ক্ষমতা দেখানোর জন্য নেতৃত্বে আসি না, দুর্নীতি করার জন্য নেতৃত্বে আসিনা, আমরা নেতৃত্বে আসি মানুষের সেবা করার জন্য। আমরা নিঃস্বার্থভাবে ফরিদপুরবাসীর সেবা করেছি, এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমিই একমাত্র আপনাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে পারব। আমি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত ফরিদপুর উপহার দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেতে আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমি এমপি – মন্ত্রী কোনটাই হতে পারব না। আপনারাই আমার সব। তাই আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান থাকবে এই বাকি কয়েকটা দিন একটু কষ্ট করে আমার জন্য ধানের শীষের ভোট চাইবেন।

তিনি আরো বলেন, যারা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করে তারা মুসলমান হতে পারে না। ধর্ম ধর্মের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। যারা রাজনীতির মধ্যে ধর্মকে টানে তাদেরকে আপনারা প্রতিরোধ করবেন।

আমি আপনাদের সতর্ক করতে চাই, বিগত ষোল বছর আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই। আপনাদের সুযোগ এসেছে, এখন যদি আপনারা এদিক-ওদিক যান তাহলে আগামী একশত বছর পরাধীনতার অন্ধকারে দেশের মানুষ ডুবে যাবে। তাই আপনাদের বলছি বিশেষ করে মা বোনেদের, আপনারা বোকার মত কাজ করবেন না, সতর্কতার সাথে ভোট দিবেন, সুযোগ কাজে লাগাবেন। ১২ তারিখ পর্যন্ত এই কয়েকটা দিন আপনারা আমার জন্য কাজ করেন। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে ১২ তারিখের পর থেকে পাঁচ বছর আপনাদের জন্য আমি কাজ করবো। আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবো। কাজেই আপনারা ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়ার মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহরিয়ার শিথিল, চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বেপারী, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মির্জা প্রিন্স আলী, জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক কাউসার তালুকদার সহ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দ, বাজারের ব্যবসায়ী-দোকানদার ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ফরিদপুর-২ আসনে গাছে গাছে পোস্টার, নীরব প্রশাসন?

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১২ পিএম
নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ফরিদপুর-২ আসনে গাছে গাছে পোস্টার, নীরব প্রশাসন?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে। আচরণবিধি অনুযায়ী গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুন টাঙানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন গাছে একাধিক নির্বাচনী পোস্টার টাঙানো রয়েছে। এসব পোস্টারে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম, ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচনী প্রচারণার আওতায় পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পোস্টার টাঙানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে শাফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তিনি খোয়াড় গ্রামের জহুর ফকিরের ছেলে এবং ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ রিংকুর অনুসারী বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া শাফিকুল ইসলাম বিএনপির প্রাথী শামা ওবায়েদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন। তাইতো তার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এভাবে গাছে পোস্টার লাগানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

খোয়াড় গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আচরণবিধি সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন শিথিল। গাছে গাছে পোস্টার লাগানো পরিবেশেরও ক্ষতি করছে।”

এ ব্যাপারে সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এ বিষয়ে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। তারা বিষয়টি দেখছেন। আমি বিষয়টি তাদের অভিহিত করবো। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। কেউ আচরণবিধি ভাঙলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে এখনো পর্যন্ত ওই পোস্টারগুলো অপসারণ বা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই কঠোর নজরদারি ও সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

 

ফরিদপুরে মঞ্চে তারেক জিয়ার কাছে ডাকা, ভাইরাল মুহূর্তে আলোচনায় ছাত্রদল নেত্রী সুমাইয়া

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুরে মঞ্চে তারেক জিয়ার কাছে ডাকা, ভাইরাল মুহূর্তে আলোচনায় ছাত্রদল নেত্রী সুমাইয়া

ফরিদপুরের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি এখন সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন। ডাকনাম মীনা। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী নতুন করে আলোচনায় আসেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় জনসভায়।

জনসভা চলাকালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চের সামনে থাকা সারি থেকে তাকে কাছে ডেকে নেন, খোঁজখবর নেন এবং কুশল বিনিময় করেন। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হলে সেই ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক ছবিতেই যেন ফুটে ওঠে একজন তৃণমূল ছাত্রনেত্রীর রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বীকৃতি ও স্বপ্নের গল্প।

পারিবারিক রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা:

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন একমাত্র বোন। রাজনীতি তার পরিবারের জন্য নতুন কিছু নয়। তার মেঝ ভাই সৈয়দ আলওয়াল হোসেন তনু ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। আরেক ভাই সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বর্তমানে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠনের গল্প শুনেই বড় হয়েছেন মীনা।

তার পিতা সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন একজন ব্যবসায়ী এবং মাতা নুরুন নাহার গৃহিণী। পরিবারিক ঠিকানা ফরিদপুর পৌরসভার বায়তুল আমান। পরিবার থেকেই তিনি শিখেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।

শিক্ষাজীবনে কৃতিত্ব ও বহুমুখী প্রস্তুতি:

শিক্ষাজীবনেও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। ২০০৭ সালে ফরিদপুরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৯ সালে সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০০৯–২০১০ সেশনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ফ্যাশন ডিজাইনে ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন। তার মতে, রাজনীতির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও চিন্তাকে সমৃদ্ধ করাও জরুরি।

ছাত্ররাজনীতিতে পদচারণা:

ছাত্ররাজনীতিতে তার সক্রিয়তা শুরু হয় সাংগঠনিক দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে। ২০১৮ সালে তিনি ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের ভেতরে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। ২০২০ সাল থেকে তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি স্বল্প সময়ের জন্য ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

সহপাঠী ও সহকর্মীদের মতে, সংগঠনের সংকটময় মুহূর্তে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

হামলা, প্রতিবাদ এবং তারেক রহমানের ফোন:

২০২২ সালে দলীয় একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হন সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন। সেই ঘটনায় আহত হলেও দমে যাননি তিনি। বরং সেই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে তাকে ফোন করে খোঁজখবর নেন। পরে আরও একবার তারেক রহমানের ফোন পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়াকে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।

রাজেন্দ্র কলেজের জনসভা ও ভাইরাল মুহূর্ত:

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় জনসভা ছিল দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। সেই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়ের মধ্যেই তারেক রহমান মঞ্চের কাছে ডেকে নেন সুমাইয়াকে। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত—একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে এক তৃণমূল ছাত্রনেত্রীর আবেগঘন সাক্ষাৎ। ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ বিষয়ে সুমাইয়া পারভীন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ আবেগের জায়গা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দেখা করে সালাম দিতে পারা আমার জন্য সত্যিই আবেগের। আমার রাজনৈতিক জীবনে এটি আমার সর্বোচ্চ পাওয়া।”

রাজনীতিতে আসার দর্শন:

রাজনীতিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলাই তার মূল লক্ষ্য। তার ভাষায়, “মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জায়গাটাই আমাকে রাজনীতিতে টেনেছে।” তিনি মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি হলো নেতৃত্ব তৈরির প্রথম ধাপ, যেখানে আদর্শ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পাওয়া যায়।

সামাজিক দায়বদ্ধতা:

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কাজেও যুক্ত তিনি। ঢাকার নয়াপল্টনের একটি লায়ন্স ক্লাবের সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। তার মতে, রাজনীতি আর সমাজসেবা একে অপরের পরিপূরক।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন:

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সুমাইয়া পারভীন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। এরপর দল যেভাবে তাকে মূল্যায়ন করবে, সেভাবেই এগিয়ে যেতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে শুধু পদ নয়, দায়িত্ব ও মানুষের আস্থা অর্জন।

রাজনীতির কঠিন পথচলায় আবেগ, সংগ্রাম ও স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন মীনা এখন শুধু একজন ছাত্রদল নেত্রী নন, বরং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি প্রতীক। রাজেন্দ্র কলেজের মঞ্চে তারেক জিয়ার ডাকে যে মুহূর্তের জন্ম, তা হয়তো তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়েই থাকবে।