খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে নারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫, ৫:০৭ পিএম
ফরিদপুরে নারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রথম স্বামীর নির্যাতনে জুট মিলের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (০১ মে) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত সেই স্বামী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাদপুর গ্রামে ইউনুস শেখের কন্যা ময়না বেগমের (৩০) সালথা থানার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলভরদিয়া গ্রামের
শরিফুল মল্লিকের সাথে (৩৫) ১৩ বছর আগে বিয়ে হয়। তিন মাস সংসার করে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বোয়ালমারীর জয় পাশা গ্রামের শামীম মোল্যার সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এই ঘরে তার দুটি সন্তান হয়। পরে ময়নার স্বামী শামীম মোল্যা হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সর্বশেষ গত ২৫ মে ময়না বেগম চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর থানার খরাদে মাঠপাড়া গ্রামের জামাল হোসেনের সাথে ৩য় বার বিয়ে হয়। ময়না বেগম দাদপুরের বাবার বাড়ি থেকে সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা জনতা জুটমিলে শ্রমিকের কাজ করতো।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) প্রথম স্বামী শরিফুল মল্লিক সকাল ৮টার দিকে দাদপুর গ্রামে গিয়ে ময়না বেগমকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১২টার দিকে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ফরিদপুর নিয়ে যেতে বলে। তখন শরিফুল ময়না বেগমের পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ময়নার বোন জামাই আলমগীর শেখ ও মামা দাদপুর গ্রামের লিয়াকত খলিফাসহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে ময়নাকে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে ময়নার স্বামী শরিফুল মল্লিক পালিয়ে যায়।পরে রাত ১০টার দিকে ময়না বেগমের মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজন লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে যায়।
খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে দাদপুর গ্রাম থেকে ময়না বেগমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ময়না বেগমের মামা লিয়াকত খলিফা অভিযোগ করে বলেন, শরিফুল মল্লিক তার ভাগ্নিকে অপহরণ করে নিয়ে নির্যাতন চালাই। অমানুষিক নির্যাতনের ফলে সে মারা যায়।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, লাশের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তার সাবেক স্বামী শরিফুল মল্লিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না বেগমের পরিবারের লোক লিখিত অভিযোগ দিলেই হত্যা মামলা হবে।

রমজানে ফরিদপুর শহরের যানজটে নিরসনে স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন উদ্যোগ, নেতৃত্বে জুয়েল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
রমজানে ফরিদপুর শহরের যানজটে নিরসনে স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন উদ্যোগ, নেতৃত্বে জুয়েল

পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফরিদপুর পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে মাঠে নেমেছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এই টিম, যার তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানা গেছে, রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার পূর্ব মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ সমস্যা নিরসনে স্বেচ্ছাসেবী দলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। তারা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবে।

এ বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রমজান মাসে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইফতারের আগে অপ্রয়োজনীয় যানজট মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছি, যারা পুলিশের পাশাপাশি সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক ও জনসেবামূলক। আমরা চাই ফরিদপুর শহরকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করতে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

জুয়েল বলেন, রমজানের পরে শহরের যানজট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জনসেবামূলক এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। স্বেচ্ছাসেবীদের এমন কার্যক্রম শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম
ফরিদপুরে জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পৌরসভার নতুন ব্রিজসংলগ্ন ছাগলদি এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ফিরোজ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী মো. ইয়াকুব আলী এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার মিনার গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দা ইয়াকুব আলী কুমার নদীর তীরবর্তী প্রায় ৫২ শতাংশ জমি ভূমিহীন হিসেবে সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পান। পরবর্তীতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন ব্রিজ নির্মাণের সময় তার জমির প্রায় ৪ শতাংশ অধিগ্রহণ করা হয়। অবশিষ্ট জমিতে তিনি বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর সড়কের পাশে অবস্থিত জমির মূল্য বেড়ে গেলে ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করেন ফিরোজ মাতুব্বর। ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে ফিরোজ মাতুব্বর তার সহযোগীদের নিয়ে জমিতে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, “আমি বাধা দিতে গেলে ফিরোজ মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর ও বতু শেখসহ কয়েকজন আমাকে মারধর ও খুনের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এখন আমি চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্রিজসংলগ্ন জমি দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে তারা জানান। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ফিরোজ মাতুব্বর। তার দাবি, তিনি বৈধভাবে ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন এবং নিয়ম মেনেই দোকানঘর নির্মাণ করছেন। তিনি বলেন, “আমি কারও জমি জোর করে দখল করিনি। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথায় সড়ক দুর্ঘটনার ৯ দিন পর প্রাণ হারালেন কৃষক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
সালথায় সড়ক দুর্ঘটনার ৯ দিন পর প্রাণ হারালেন কৃষক

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পান্নু মাতুব্বর (৬০) নামে এক কৃষক।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত পান্নু মাতুব্বর উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মনিরুদ্দিন মাতুব্বরের ছোট ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ খামারের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রির জন্য সালথা বাজারে যান পান্নু মাতুব্বর। বিক্রি শেষে অটোভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে সালথা সরকারি কলেজ মোড়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা আট দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।

এ বিষয়ে ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু মোল্যা পান্নু মাতুব্বরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সালথা সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কটির নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পান্নু মাতুব্বরের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।