খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শীতে ছড়িয়ে দিন মানবিক উষ্ণতা

সাইফুল ইসলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম
শীতে ছড়িয়ে দিন মানবিক উষ্ণতা

বাংলাদেশের শীত ঋতু অনেকের জন্য প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর রোমাঞ্চের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু একই শীত দরিদ্র, ছিন্নমূল ও পথবাসীদের সামনে জীবন-মরণ সংগ্রাম তৈরি করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীতের কারণে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে; বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসহায় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাস্তবতায় শীতকাল শুধু একটি ঋতু নয়—বরং মানবতার প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের এক স্পষ্ট আহ্বান। ইসলাম সেই দায়িত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ইসলামে মানবসেবা একটি মৌলিক মূল্যবোধ। দরিদ্র, অসহায় ও পথবাসী মানুষের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতাকে কেবল সামাজিক কর্তব্য নয়, বরং ঈমানের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয়—যে নিজে পরিতৃপ্ত হয়ে রাত কাটায় আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ (বুখারি : ১৭৬৪)। এই হাদিস শুধু প্রতিবেশীর কথাই বলে না বা শুধুমাত্র খাবারের কথা বলে না; বরং সমাজের প্রতিটি দুর্বল, অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের অনুপ্রেরণা দেয়। বিশেষত শীতকালে যখন মানুষ ঠান্ডায় কাঁপে, তখন একটি কম্বল, একটি গরম কাপড় বা একটু উষ্ণ খাবার তাদের জীবনে কিছুটা হলেও সুখ এনে দিতে পারে।

কুরআনেও মানবসেবা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সুরা আদ-দাহরে আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা আল্লাহর প্রেমে দরিদ্র, অনাথ ও বন্দীদের খাদ্য দান করে।’ এই আয়াত পরিষ্কার করে দেয় যে মানবসেবা আল্লাহর প্রেম অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই শীতকালে গরিবদের সাহায্য করা কেবল মৌসুমি দান নয়; বরং এটি অন্তরের ঈমান, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবতার একটি বাস্তব প্রকাশ।

ইসলামের ইতিহাসও মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পূর্ণ। রাসুল (সা.) ব্যক্তিগতভাবে দান করতেন, সাহাবীদের উৎসাহ দিতেন । নববী দাওয়াহর সেই শিক্ষা—মানুষকে বাঁচানো, মানুষের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া—আজও মুসলিম সমাজের আদর্শ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে শীতকালে হাজারো পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে ভোগে। পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, নদীভাঙন এবং শহরের ফুটপাতবাসীদের জন্য শীত হয়ে ওঠে প্রকৃত দুর্যোগ। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত একসঙ্গে কাজ করা। ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরোনো কাপড় পরিষ্কার করে দান, কম্বল কেনা, মানবতার দেয়াল তৈরি করা বা পথবাসীদের জন্য রাতের খাবার সরবরাহ করা সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ। মসজিদভিত্তিক শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ কর্মসূচি অত্যন্ত সফল হতে পারে। আবার যুবসমাজ এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করে নেতৃত্বগুণ ও নৈতিকতার বাস্তব শিক্ষা অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশে এসব কাজ যদিও চলমান তবে তা আরো বৃহৎ পরিসরে হওয়া উচিত।

দাওয়াহ ও চ্যারিটি সংগঠনগুলো শীতকালে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে—যেমন গরম কাপড় প্রদানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প এবং পথবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন। শীতের রাতে এমন আশ্রয়কেন্দ্র শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। পাশাপাশি, সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত করুণাময় রূপও মানুষের সামনে প্রতিভাত হয়।

অতএব, শীত আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা। ইসলাম শেখায়—মানুষের কষ্ট দূর করা ঈমানের অংশ। আর মানবতা বলে—সবচেয়ে বেশি দরকারে যার পাশে দাঁড়ানো হয়, সেই সাহায্যই সবচেয়ে মহৎ। প্রত্যেক মানুষের একটি ছোট উদ্যোগও অন্য কারও জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে

শীতকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবতা, ইসলামি শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ব—এই তিনটিরই মিলিত প্রয়াস। তাই এই শীতে আসুন ইসলাম ও মানবতার আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে উষ্ণতার আলো ছড়িয়ে দেই, সামাজিক সমস্যাগুলো দূর করি । আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুক। আমিন

লেখক : শিক্ষার্থী, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইসলামিক দাওয়াহ, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।