খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

স্মৃতি আবেগ আর মিলনে রঙিন ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পুনর্মিলনী উৎসব

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১২ পিএম
স্মৃতি আবেগ আর মিলনে রঙিন ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পুনর্মিলনী উৎসব

উৎসাহ-উদ্দীপনা, স্মৃতিচারণা আর আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসব শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার (দুই দিন) নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় পথচলা উদযাপন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেন। বহুদিন পর পুরনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ১৯৬২ সালের এক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, তার অনেক সমবয়সী বন্ধু আজ আর বেঁচে নেই, তবুও স্কুলের প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি এই পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে এসেছেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে। এরপর এসেম্বলি, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন- ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

এছাড়া বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রীতিলতা সরকার এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া কুটি।

বক্তারা বলেন, ফরিদপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাতিঘর। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য গুণীজন দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত উৎসব চলমান ছিল। আয়োজক কমিটি জানায়, পরবর্তী পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, বিনোদনমূলক আয়োজন ও আতশবাজি অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

পুরনো স্মৃতি আর নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছরের এই পুনর্মিলনী উৎসব পরিণত হয়েছে এক আবেগঘন ও আনন্দঘন

ফরিদপুরে যাত্রীবেশে ফাঁদ, অটোচালক জিম্মি—পালাতে গিয়ে ধরা ৩ ছিনতাইকারী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:২২ পিএম
ফরিদপুরে যাত্রীবেশে ফাঁদ, অটোচালক জিম্মি—পালাতে গিয়ে ধরা ৩ ছিনতাইকারী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অটোরিকশা চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ভুক্তভোগীর কলের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে পুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন অটোরিকশা চালক সাগর মাতুব্বর। পথে সরিলদিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোডে পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা তিন ছিনতাইকারী পরিকল্পিতভাবে তাকে জিম্মি করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা আগে থেকেই যাত্রী সেজে অটোরিকশায় ওঠে। নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পর তারা চালকের গলায় ধারালো চাকু ধরে এবং ছোরা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে চালকের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ২৩০ টাকা এবং আনুমানিক ৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা নিয়েও পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় চালক সাহসিকতার সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা ফেলে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। দিন-রাতব্যাপী অভিযানে প্রথমে মেহেদী আকন্দ (২৪) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তামিম মাতুব্বর (২২) ও বায়েজিদ তালুকদার (২১) নামের আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে একটি চাকু ও দুটি ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শনিবার সকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ও ৯৯৯-এ দ্রুত কল দেওয়ার কারণে ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামেলা বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির ভূইয়ার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করতেন এবং এলাকাবাসীর কাছে একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের জামাতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, “শাশুড়ি প্রতিদিনের মতো গত রাতেও বাড়িতে একাই ছিলেন এবং রোজা রেখেছিলেন। সকালে খবর পাই, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। ঘটনাটি রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেনদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন মেনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আফসার সরদারের ছেলে। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও তিনি বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ একজন পরিশ্রমী ও সাদাসিধে মানুষকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।