খুঁজুন
, ,

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

সালথায় পাটখড়িতে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়ের হাতছানি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটখড়িতে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়ের হাতছানি

পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর সাধারণত পাটখড়িকে কৃষকেরা ফেলনা হিসেবেই দেখতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই পাটখড়িই এখন হয়ে উঠছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উপকরণ। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাটখড়ি সংগ্রহ, শুকানো ও বিক্রিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পাটখড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের কারণে মৌসুমে এর চাহিদাও বাড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পাট কাটার পর কৃষকেরা পানিতে পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি পাটখড়িগুলোও যত্ন করে তুলে রাখছেন। কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ রাস্তার পাশে আবার কেউ খোলা জায়গায় পাটখড়ি স্তূপ করে শুকাচ্ছেন। ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা এসব পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, আগে পাটখড়ি মূলত রান্নার জ্বালানি ও ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। এখন এর বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় পাটখড়ি বিক্রি করে পাটের পাশাপাশি কৃষকেরা বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন।

সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়গ্রাম এলাকার কৃষক শাহাজু্দিন মাতুব্বর বলেন, “আগে পাটের আঁশ বিক্রি করাই ছিল মূল বিষয়। পাটখড়ি অনেক সময় পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাট চাষে বাড়তি লাভ হচ্ছে।”

আরেক কৃষক আজাদ শেখ বলেন, “পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে পরে বিক্রি করা যায়। এতে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যায়, যা কৃষকের সংসারে কাজে লাগে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সালথায় প্রতি মোটা পাটখড়ি ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা এবং প্রতি ১০০ মোটা ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে পাটখড়ির চাহিদা বাড়ায় এর দামও আরও বাড়তে পারে। একাধিক কৃষক জানান, মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও পরে চাহিদা বাড়লে পাটখড়ির দাম আরও ভালো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় পাটখড়ি ব্যবসায়ী বাদল হোসেন জানান, “এ বছর পাটখড়ির চাহিদা ভালো। কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় পাটখড়ি এখন আর ফেলনা পণ্য নয়।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হতে পারে। একই সঙ্গে পাটখড়িকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ বলেন, “পাট বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। কৃষকদের পাটখড়ি সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ​“সালথায় পাটখড়িকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হওয়া একটি প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক দিক। পাটখড়ি একসময় ফেলে দেওয়া হলেও এখন তা কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। এটি যেমন গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করছে।”

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাটচাষিদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা তদারকি করা হচ্ছে। পাট ও পাটখড়ির সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যাতে কৃষকেরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান।”

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “পাটের উপজাত হিসেবে পাটখড়ির অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে পাট চাষে কৃষকের লাভের পরিমাণও বাড়তে পারে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাটখড়ির সঠিক ব্যবহার ও বাজারব্যবস্থা গড়ে উঠলে এটি শুধু কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎসই হবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িকেও গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজারজাত করা গেলে সালথার পাটচাষিরা ভবিষ্যতে আরও লাভবান হতে পারেন।

ফরিদপুরে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় ৭ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরকান্দা বাজারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান।

​অভিযানকালে নগরকান্দা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সোহেল রানা চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী শরিফুল আলমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। এর পর সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। সরকারি এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরকান্দা বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাত ৮টার পর দোকান খোলা পাওয়ায় সতর্ক করার পাশাপাশি ৭ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​জনস্বার্থে ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরে পৌরসভার জায়গা উদ্ধার, অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৌরসভার জায়গা উদ্ধার, অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ

ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হাজরাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা কবির চৌধুরী পৌরসভার প্রায় ০.২৫ (পয়েন্ট ২৫) শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জমিটি পুনর্দখলে নেয় পৌরসভা।

​উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকি এবং অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল হাসান, যান্ত্রিক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা ও কনজারভেনসি পরিদর্শক বিকাশ দত্তসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​অভিযানের পর পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গায় যেসব অবৈধ দখলদার রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।