খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।

নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামেলা বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির ভূইয়ার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করতেন এবং এলাকাবাসীর কাছে একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের জামাতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, “শাশুড়ি প্রতিদিনের মতো গত রাতেও বাড়িতে একাই ছিলেন এবং রোজা রেখেছিলেন। সকালে খবর পাই, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। ঘটনাটি রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ফরিদপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেনদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন মেনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আফসার সরদারের ছেলে। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও তিনি বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ একজন পরিশ্রমী ও সাদাসিধে মানুষকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম
ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়।

শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।