খুঁজুন
, ,

মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

শহরে বাস করা পরিবারগুলো মাটির ছোঁয়া তেমন পায় না। মা-বাবারা শিশুদের নিয়ে ভাবনায় থাকেন। অনেকে মনে করেন, শিশু মাটিতে না খেললে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠবে না।

শৈশবে আমরা অনেকেই শুনেছি, বড়রা বলতেন, ‘যাও বাইরে গিয়ে মাটিতে খেলো। মাটিতে খেললে শরীর ভালো থাকে, রোগ কম হয়।’ আসলেই কি মাটিতে খেললে ইমিউন সিস্টেম ভালো হয়? এটা কি কেবল মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা, নাকি এর পেছনে বিজ্ঞান আছে?

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

আধুনিক গবেষণা বলছে, এই কথার পেছনে সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। যদিও বিষয়টা যতটা সহজে বলা হয়, ততটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জীবনের শুরুতে মাটিসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। অটোইমিউন রোগ হলো এমন অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের টিস্যুকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ করে। মানে, খুব ছোট বয়সে নানা ধরনের ক্ষতিকর নয় এমন ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অপ্রয়োজনে সক্রিয় হয় না।

শিশুর ইমিউন সিস্টেম জন্মের পর ধীরে ধীরে শেখে যে কাকে শত্রু হিসেবে আক্রমণ করতে হবে আর কাকে করা যাবে না। শরীরের ভেতরের কোষ আর বাইরের নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পার্থক্য করে এই প্রক্রিয়া। ইমিউন সিস্টেমে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মতো রোগজীবাণুকে চিনে আক্রমণ করা যেমন জরুরি, তেমনি নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার প্রতি অযথা প্রতিক্রিয়া না দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।

এই শেখার প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে আমাদের অন্ত্রের ভেতরে থাকা অগণিত ব্যাকটেরিয়া, যাদের একসঙ্গে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োম। ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক অংশকে সক্রিয় করার অনেক সংকেত আসে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলো থেকে। এরা শুধু রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে না, আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন তৈরি করে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করে।

শিশুর জীবনের প্রথম বছরটি এই মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক প্রসবের সময় শিশুরা মায়ের শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া পায়। বুকের দুধ থেকেও নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে। এরপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চারপাশের পরিবেশে নানা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত হয়। মাটি, গাছ, পশুপাখি, এমনকি পোষা প্রাণীর মাধ্যমেও এই পরিচিতি ঘটে।

তত্ত্ব কী বলে

২০০৩ সালে প্রস্তাবিত একটি তত্ত্ব হলো, ‘পুরোনো বন্ধু তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী শৈশবে যত বেশি বিচিত্র ও নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা যায়, মাইক্রোবায়োম তত সমৃদ্ধ হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তত ভালোভাবে বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতে শেখে। এখানে ‘পুরোনো বন্ধু’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই সব কমেনসাল ব্যাকটেরিয়াকে, যারা আমাদের শরীরের ভেতর বা ওপরে বাস করে, কিন্তু ক্ষতি করে না।

আরেকটি তত্ত্ব হলো ‘হাইজিন হাইপোথিসিস’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে শিশুরা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে না এবং পরে অ্যালার্জিতে বেশি ভোগে। তবে গ্রাহাম রুক ও তাঁর সহকর্মীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি শুধু কম বা বেশি ব্যাকটেরিয়ার বিষয় নয়, বরং কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা হচ্ছে, সেটাই আসল কথা। নিরীহ ও প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া উপকারী হতে পারে, কিন্তু সংক্রামক রোগের ব্যাকটেরিয়া উপকারী নয়।

বাস্তবে কী ঘটে, গবেষণায় যা পাওয়া গেল

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামে বা খামারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার তুলনামূলক কম। পোষা প্রাণী আছে, এমন পরিবারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। আবার জীবনের শুরুতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, কিংবা সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়া শিশু, যারা মায়ের জন্মনালির ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ পায় না, এসবের সঙ্গেও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ফিনল্যান্ডে করা একটি পরীক্ষায় শহুরে শিশুদের নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভিন্ন ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরা বনাঞ্চলের মাটি ও ঘাস এনে শিশুদের খেলার জায়গায় ব্যবহার করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, যারা এই মাটিতে খেলেছে, তাদের ত্বকে নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে এবং রক্তে ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণকারী কোষ ও সংকেত দেওয়ার উপাদানও বেশি পাওয়া গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে মাটির ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।

২০২৪ সালে সুইডেনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দুগ্ধখামারে বড় হয়েছে বা যাদের পোষা প্রাণী ছিল, তাদের মধ্যে অ্যালার্জির হার কম। একই সঙ্গে এদের অন্ত্রেও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। গবেষকেরা মনে করেন, এই দুটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

সতর্কতা হিসেবে যা জানা উচিত

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন যে মাইক্রোবায়োমই সব নয়। জেনেটিকস–সহ আরও অনেক বিষয় অ্যালার্জি বা ইমিউন সমস্যার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। জনস হপকিনস মেডিসিনের শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. রবার্ট উডের মতে, সামগ্রিকভাবে শিশুদের বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা ভালো, কিন্তু এটাকে কোনো ‘নিশ্চিত প্রতিরোধের উপায়’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যেমন কুকুর পুষলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। এই তথ্যের মানে এই নয় যে সবাইকে অ্যালার্জি ঠেকাতে কুকুর পালতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সব মাটি নিরাপদ নয়। দূষিত এলাকার মাটিতে সিসা বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, এমনকি পরজীবীও থাকতে পারে। এমন মাটির সংস্পর্শ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুদের মাটি খাওয়া বা শ্বাসের সঙ্গে ধুলা টেনে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে প্রকৃতির সংস্পর্শের ভারসাম্য রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে মাটিতে হাত লাগানো, বাইরে দৌড়ঝাঁপ করা ইত্যাদি হয়তো শিশুর ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে খানিকটা সাহায্য করবে। তবে এটিই একমাত্র উপায় নয়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

ফরিদপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

কঠিন বিষয় সমূহের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনার দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে  ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নপত্রের কঠিনতা কমানো, মানবিকভাবে খাতা মূল্যায়ন, কঠিন বিষয়ে ফলাফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উত্থাপন করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছে না। এছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শর্মিষ্ঠা কর্মকার, তাজুল ইসলাম তুহিন, জুনায়েদ আহমেদ, মোহাম্মদ রকিব, সাইমা আক্তার, মেধা আক্তার প্রমুখ।

পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য প্রেসক্লাবসংলগ্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কর্মসূচি থেকে বুধবার দুপুর ১টায় একই স্থানে আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না?

টানা বর্ষণ, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যা যেকোনো সময় স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। অনেক সময় বন্যার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড় কিংবা দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা আহত হন। তাই বন্যার সময় কিছু ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বন্যার পানিতে নিচের ১০টি ভুল কখনোই করা উচিত নয়।

১. অপ্রয়োজনে বন্যার পানিতে নামবেন না

বন্যার পানি দেখতে শান্ত মনে হলেও এর নিচে থাকতে পারে খোলা ম্যানহোল, গর্ত, ভাঙা রাস্তা, ধারালো বস্তু কিংবা বৈদ্যুতিক তার। তাই প্রয়োজন ছাড়া পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। যদি নামতেই হয়, তাহলে লাঠি দিয়ে সামনে পরীক্ষা করে ধীরে ধীরে এগোন এবং সম্ভব হলে শক্ত জুতা বা বুট ব্যবহার করুন।

২. পানিতে দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক সুইচ বা যন্ত্র স্পর্শ করবেন না

বন্যার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পানিতে দাঁড়িয়ে কখনো সুইচ অন বা অফ করবেন না। ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রও ধরবেন না। সন্দেহ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।

৩. বন্যার পানি পান বা রান্নায় ব্যবহার করবেন না

বন্যার পানিতে নর্দমার বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, রাসায়নিক পদার্থ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু মিশে থাকতে পারে। শুধু ফুটানো, বিশুদ্ধ বা বোতলজাত পানি পান করুন। প্রয়োজনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করুন।

৪. খালি পায়ে পানিতে হাঁটবেন না

অনেকেই খালি পায়ে পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করেন। এতে পায়ে কাটা, সংক্রমণ, এমনকি সাপ বা বিষাক্ত প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। রাবারের বুট বা শক্ত স্যান্ডেল ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৫. বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাবেন না

পানিতে ভিজে যাওয়া বা দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬. শিশুদের একা পানির কাছে যেতে দেবেন না

বন্যার সময় শিশুরা পানিতে খেলতে আগ্রহী হয়। কিন্তু অল্প গভীর পানিতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের সবসময় বড়দের নজরদারিতে রাখুন এবং তাদের বন্যার পানিতে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।

৭. সাপ বা অচেনা প্রাণী দেখলে ধরার চেষ্টা করবেন না

বন্যার সময় সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন প্রাণী আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের বসতবাড়িতে চলে আসে। সাপ দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজে ধরতে না গিয়ে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী বা বন বিভাগের সহায়তা নিন।

৮. বন্যার পানিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর ঝুঁকি নেবেন না

অনেক সময় পানির গভীরতা বোঝা যায় না। এতে গাড়ি আটকে যেতে পারে বা স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাস্তার অবস্থা নিশ্চিত না হলে পানির মধ্যে দিয়ে যানবাহন চালানো উচিত নয়।

৯. প্রশাসনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করবেন না

অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়ি ছাড়তে চান না। এতে বিপদের মাত্রা বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

১০. পানি নেমে গেলেই ঘরে ঢুকে পড়বেন না

বন্যার পানি সরে গেলেও ঝুঁকি শেষ হয় না। ভেজা বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুর্বল দেয়াল, গ্যাস লিক বা বিষাক্ত প্রাণীর উপস্থিতি থাকতে পারে। তাই ঘরে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা করিয়ে নিন।

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

বন্যা পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটু সতর্কতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও নিরাপদ রাখা যায়।

মনে রাখবেন, বন্যার সময় সাহস দেখানোর চেয়ে সচেতন থাকা বেশি জরুরি। কারণ একটি ছোট ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ফরিদপুরে নিজস্ব তিনতলা বাড়িতে নিঃসঙ্গ মৃত্যু, শেষ বিদায়ে এলেন না কোনো স্বজন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নিজস্ব তিনতলা বাড়িতে নিঃসঙ্গ মৃত্যু, শেষ বিদায়ে এলেন না কোনো স্বজন

তিনতলা নিজের বাড়ি। নিচতলায় ভাড়াটিয়া, ওপরে একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন তিনি। একসময় যে ঘরে বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাই-বোনের হাসি আর সংসারের কোলাহল ছিল, সেই ঘরই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল নিঃসঙ্গতার ঠিকানায়। শেষ পর্যন্ত সেই ঘর থেকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলো কোয়েল চৌধুরীকে (৫৪)। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানালেন, তিনি আর নেই।

আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, মৃত্যুর খবর বিদেশে থাকা একমাত্র বোন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানো হলেও কেউ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসেননি। শেষ বিদায়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন প্রতিবেশী আর স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের উদ্যোগেই বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন কোয়েল চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার ‘চৌধুরী ভিলা’য় প্রতিদিনের মতো একজন ভাড়াটিয়া তাঁর জন্য খাবার নিয়ে যান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

পুলিশ দরজা ভেঙে কোয়েল চৌধুরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০০০ সালের দিকে সরকারি চাকরিজীবী দম্পতি হাশমত আলী চৌধুরী ও আছিয়া খানম এই বাড়িটি কিনে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে পরবর্তীতে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দুই ছেলে—বাবু চৌধুরী ও কোয়েল চৌধুরী—দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে তাঁদের নিয়ে মানুষের স্মৃতিতে ভয় বা বিরক্তি নয়, বরং রয়েছে মমতার গল্প।

শহরের অনেকেই এখনও মনে করতে পারেন, দুই ভাইকে প্রায় সব সময় একসঙ্গেই দেখা যেত। কখনো পাশাপাশি হাঁটছেন, কখনো একজন আরেকজনের হাত ধরে ধীর পায়ে শহরের রাস্তা পেরিয়ে যাচ্ছেন। যেন বাইরের পৃথিবীতে তাঁদের আর কেউ নেই—দুজনই ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ।

প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরীর মৃত্যু হলে কোয়েল চৌধুরীর জীবন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। বিশাল বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে একাই কাটত তাঁর দিন-রাত। নিজের দেখাশোনার মতো ঘনিষ্ঠ কেউ ছিলেন না। ভবনের ভাড়াটিয়ারাই নিয়মিত খাবার দিতেন, প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতেন, প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়াতেন।

প্রতিবেশী আশিকুর রহমান খান বলেন, “সকালে ভাড়াটিয়া খাবার দিতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা ৯৯৯-এ ফোন করি। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

তিনি জানান, “কানাডায় থাকা তাঁর একমাত্র বোনকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হলে তিনি দাফন করে দিতে বলেন। অন্য আত্মীয়দেরও জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ আসেননি। পরে এলাকার মানুষ মিলে আলীপুর কবরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশেই দাফনের ব্যবস্থা করেন। দাফনের পর দূরসম্পর্কের কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন।”

এলাকায় একটি প্রচলিত কথা রয়েছে, ছোটবেলায় বাবা-মা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন, যা তাঁদের মানসিক অবস্থার অবনতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা চিকিৎসাগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।”

কোয়েল চৌধুরীর জীবনের শেষ অধ্যায় যেন নীরবে একটি প্রশ্ন রেখে গেল—রক্তের সম্পর্ক সবসময় কি সবচেয়ে কাছের সম্পর্ক? নাকি মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রতিবেশী, ভাড়াটিয়া আর আশপাশের মানুষই হয়ে ওঠেন প্রকৃত আপনজন?

একটি তিনতলা বাড়ি ছিল তাঁর। ছিল স্মৃতিভরা একটি পরিবার। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে ছিল শুধু নিঃসঙ্গতা। আর শেষ বিদায়ে, স্বজনের বদলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলেন প্রতিবেশীরাই।