খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মাটিতে খেলাধুলা করলে কি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে?

শহরে বাস করা পরিবারগুলো মাটির ছোঁয়া তেমন পায় না। মা-বাবারা শিশুদের নিয়ে ভাবনায় থাকেন। অনেকে মনে করেন, শিশু মাটিতে না খেললে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠবে না।

শৈশবে আমরা অনেকেই শুনেছি, বড়রা বলতেন, ‘যাও বাইরে গিয়ে মাটিতে খেলো। মাটিতে খেললে শরীর ভালো থাকে, রোগ কম হয়।’ আসলেই কি মাটিতে খেললে ইমিউন সিস্টেম ভালো হয়? এটা কি কেবল মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা, নাকি এর পেছনে বিজ্ঞান আছে?

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

আধুনিক গবেষণা বলছে, এই কথার পেছনে সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। যদিও বিষয়টা যতটা সহজে বলা হয়, ততটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জীবনের শুরুতে মাটিসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। অটোইমিউন রোগ হলো এমন অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের টিস্যুকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ করে। মানে, খুব ছোট বয়সে নানা ধরনের ক্ষতিকর নয় এমন ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অপ্রয়োজনে সক্রিয় হয় না।

শিশুর ইমিউন সিস্টেম জন্মের পর ধীরে ধীরে শেখে যে কাকে শত্রু হিসেবে আক্রমণ করতে হবে আর কাকে করা যাবে না। শরীরের ভেতরের কোষ আর বাইরের নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পার্থক্য করে এই প্রক্রিয়া। ইমিউন সিস্টেমে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মতো রোগজীবাণুকে চিনে আক্রমণ করা যেমন জরুরি, তেমনি নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার প্রতি অযথা প্রতিক্রিয়া না দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।

এই শেখার প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে আমাদের অন্ত্রের ভেতরে থাকা অগণিত ব্যাকটেরিয়া, যাদের একসঙ্গে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োম। ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক অংশকে সক্রিয় করার অনেক সংকেত আসে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলো থেকে। এরা শুধু রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে না, আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন তৈরি করে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করে।

শিশুর জীবনের প্রথম বছরটি এই মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক প্রসবের সময় শিশুরা মায়ের শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া পায়। বুকের দুধ থেকেও নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে। এরপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চারপাশের পরিবেশে নানা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত হয়। মাটি, গাছ, পশুপাখি, এমনকি পোষা প্রাণীর মাধ্যমেও এই পরিচিতি ঘটে।

তত্ত্ব কী বলে

২০০৩ সালে প্রস্তাবিত একটি তত্ত্ব হলো, ‘পুরোনো বন্ধু তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী শৈশবে যত বেশি বিচিত্র ও নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা যায়, মাইক্রোবায়োম তত সমৃদ্ধ হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তত ভালোভাবে বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতে শেখে। এখানে ‘পুরোনো বন্ধু’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই সব কমেনসাল ব্যাকটেরিয়াকে, যারা আমাদের শরীরের ভেতর বা ওপরে বাস করে, কিন্তু ক্ষতি করে না।

আরেকটি তত্ত্ব হলো ‘হাইজিন হাইপোথিসিস’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে শিশুরা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে না এবং পরে অ্যালার্জিতে বেশি ভোগে। তবে গ্রাহাম রুক ও তাঁর সহকর্মীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি শুধু কম বা বেশি ব্যাকটেরিয়ার বিষয় নয়, বরং কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা হচ্ছে, সেটাই আসল কথা। নিরীহ ও প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া উপকারী হতে পারে, কিন্তু সংক্রামক রোগের ব্যাকটেরিয়া উপকারী নয়।

বাস্তবে কী ঘটে, গবেষণায় যা পাওয়া গেল

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামে বা খামারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার তুলনামূলক কম। পোষা প্রাণী আছে, এমন পরিবারে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। আবার জীবনের শুরুতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, কিংবা সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়া শিশু, যারা মায়ের জন্মনালির ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ পায় না, এসবের সঙ্গেও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ফিনল্যান্ডে করা একটি পরীক্ষায় শহুরে শিশুদের নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভিন্ন ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরা বনাঞ্চলের মাটি ও ঘাস এনে শিশুদের খেলার জায়গায় ব্যবহার করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, যারা এই মাটিতে খেলেছে, তাদের ত্বকে নিরীহ ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে এবং রক্তে ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণকারী কোষ ও সংকেত দেওয়ার উপাদানও বেশি পাওয়া গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে মাটির ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।

২০২৪ সালে সুইডেনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দুগ্ধখামারে বড় হয়েছে বা যাদের পোষা প্রাণী ছিল, তাদের মধ্যে অ্যালার্জির হার কম। একই সঙ্গে এদের অন্ত্রেও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। গবেষকেরা মনে করেন, এই দুটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

সতর্কতা হিসেবে যা জানা উচিত

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন যে মাইক্রোবায়োমই সব নয়। জেনেটিকস–সহ আরও অনেক বিষয় অ্যালার্জি বা ইমিউন সমস্যার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। জনস হপকিনস মেডিসিনের শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. রবার্ট উডের মতে, সামগ্রিকভাবে শিশুদের বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা ভালো, কিন্তু এটাকে কোনো ‘নিশ্চিত প্রতিরোধের উপায়’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যেমন কুকুর পুষলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। এই তথ্যের মানে এই নয় যে সবাইকে অ্যালার্জি ঠেকাতে কুকুর পালতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সব মাটি নিরাপদ নয়। দূষিত এলাকার মাটিতে সিসা বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, এমনকি পরজীবীও থাকতে পারে। এমন মাটির সংস্পর্শ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুদের মাটি খাওয়া বা শ্বাসের সঙ্গে ধুলা টেনে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে প্রকৃতির সংস্পর্শের ভারসাম্য রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে মাটিতে হাত লাগানো, বাইরে দৌড়ঝাঁপ করা ইত্যাদি হয়তো শিশুর ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে খানিকটা সাহায্য করবে। তবে এটিই একমাত্র উপায় নয়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।