খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, ঢাকায় গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, ঢাকায় গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সুজন শেখকে (৩৫) রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১০)।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে দিন পার করেন। সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ছিলেন চরম হতাশায়।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত ২ এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদে নেওয়ার কথা বলে তিনি ওই নারীকে রিকশায় তুলে নেন। পরে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে সেটিকেই অফিস বলে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে নেওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। চারদিন চিকিৎসা শেষে গত ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।

পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় সুজন শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো অফিস চিনতাম না। তার কথায় বিশ্বাস করে গিয়েছিলাম। সরকারের সুবিধা পাইতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমার সর্বনাশ করছে। আমি এর বিচার চাই।”

এদিকে অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, ওই নারী তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং ঘটনার দিন একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছিল, যার জের ধরে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন শেখের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সখ্য রয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, “আমাদের দলে সুজন নামে কোনো সক্রিয় নেতা বা কর্মী আছে বলে জানা নেই। অপরাধী যেই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী প্রায় ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা শুরু থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে, এখন আইনি প্রক্রিয়া চলবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংঘর্ষের জেরে দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীতে ফরিদপুরের একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে শতাধিক ব্যবসায়ী  তাদের দোকানে যেতে পারছেন না। এতে করে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েড়েছেন তারা, বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সালথা ও বেয়ালমারী উপজেলার দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রতিপক্ষের ভয়ে গত দুই মাস শতাধিক ব্যবসায়ী স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের দোকানে যেতে পারছেন না বলে  জানিয়েছেন। টানা দুই মাস ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় দোকানে  কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে ।  এমন অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে সালথার খারদিয়া গ্রাম ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজার| বাজারে অন্তত এক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের সাথে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক টুলু মিয়া এবং জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।  টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বাড়ি খারদিয়া গ্রামে আর আব্দুল মান্নানের বাড়ি ময়েনদিয়া বাজার এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান চেয়ারম্যান| আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন হান্নান চেয়ারম্যানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। একপর্যায় মান্নান চেয়ারম্যান ও তার নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়| পরে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন টুলু ও জিহাদ মিয়া। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এক নেতার সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসেন মান্নান চেয়ারম্যান। এরপর মান্নান ও তার সমর্থকরা ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে সালথার খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। বাজারের গেলেও মান্নানের সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে ও হুমকি ধামকি দেয়। এমন অবস্থায় গত দুই মাস ধরে খারদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখায় তাদের কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ময়েনদিয়া বাজারের মিনহাজ টেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, দুই মাস ধরে ময়েনদিয়া বাজারে থাকার আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। এতে আমার দোকানে সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি একা নয়, আমার মতো শতাধিক ব্যবসায়ী মান্নান চেয়ারম্যান ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের সমর্থকদের ভয়ে বাজারে থাকা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার সম্পদ ও মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ী, আমাদের কোনো দলপক্ষ নেই। তারপরেও বাজারে যেতে দেয়া হচ্ছে না আমাদের।

কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে, কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীদের কি দোষ? আমাদের দোকান কেন খুলতে দিচ্ছে না। কোনো ব্যবসায়ী বাজারে গেলেও তাকে মারধর করা হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পেরে আমরা পথে বসে যাচ্ছি।  আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানানো পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খারদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক ছায়েদুল মুন্সী বলেন, কয়েকদিন আগে আমি ভাড়া নিয়ে ময়েনদিয়া বাজারে গেলে মান্নান চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে বলে, তোরা খারদিয়া গ্রামের কোনো লোকজন ময়েনদিয়া বাজারে আর আসবি না।

ময়েনদিয়া বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া বলেন, আমার বাড়ি খারদিয়া হওয়ায় সংঘর্ষের পর থেকে বাজার থেকে ইজারার টাকা তুলতে দিচ্ছে না মান্নান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আমার লোকজন বাজারে গেলেই তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজার থেকে বের করে দেয়। এমন অবস্থায় বাজার থেকে ইজারার টাকাও তুলতে পারছি না।

শাহিন মিয়া নামে ময়েনদিয়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থেকে বাজারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা নিজেরা ব্যবসা করতে না পারলে অন্যদেরও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি  স্বাভাবিক রয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই ময়েনদিয়া বাজারের বাসিন্দা সিদ্দিক মাতুব্বরের ছেলে মো. শাহিন মিয়া বলেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর তার চাচা পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের বাড়িসহ তাদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর তারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

তিনি বলেন, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তার দাবি, বাজারে এখনো স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে এবং অধিকাংশ ব্যবসায়ী নির্ভয়ে দোকান খুলছেন। যারা বাজারে আসতে পারছেন না বা আসছেন না, তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম  বলেন, অনেক আগে থেকেই ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধে বিরোধ চলমান ছিলো, উভয় পক্ষের দায়ের করা একাধীক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪  ফেব্রুয়ারী ময়েনদিয়া ও খারদিয়াবাসীর মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়, বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নজরে রেখছে জেলা পুলিশ বিভাগ।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় আমরা বেশ কিছু আসামিকে ধরতে সক্ষম হয়েছি, আরো কয়েকজনকে খুঁজছি, আশা করি ধরতে সক্ষম হব শীঘ্রই। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপরাধ ব্যবসায়ীরা যাতে বাজার এলাকায় নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে তার নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কোন নিরীহ বা নির অপরাধ লোককে করা হবে না। কেউ কাউকে হুমকি দিলেও সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষের কাজকর্ম ও চলাচলে বাধা দিলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম শেখকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে র‌্যাব-১০ এর ফরিদপুর ক্যাম্পের দেওয়া এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার কোতয়ালী থানাধীন মুন্সীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাদ্দাম শেখ মোবাইল ফোনে পূর্বপরিচিত এক নারীকে ঘোরাফেরার কথা বলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘরুয়া এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সহযোগীদের নিয়ে ভিকটিমকে মারধর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ভিকটিমের সঙ্গে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-৮৮ রুজু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য র‌্যাব-১০-এর কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ফরিদপুরে খালি গায়ে গামছা পড়ে কৃষক সেজে ডাকাত ধরলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খালি গায়ে গামছা পড়ে কৃষক সেজে ডাকাত ধরলো পুলিশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অভিনব কৌশলে অভিযান চালিয়ে কাওছার শেখ (৩৫) নামে এক পলাতক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গা থানার এএসআই মো. আতাউর রহমান, যার সাহসিকতা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের এমন সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত অভিযানে অপরাধ দমনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি মামলার আসামি কাওছার শেখ ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে পৌরসভা ও ঢাকা-খুলনা হাইওয়ে এক্সপ্রেসপথে সংঘটিত একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-০৫, জিআর-৩২৪/২৪, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার হাসামদিয়া এলাকার একটি ফসলের মাঠে অবস্থান নেয় পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে এএসআই আতাউর রহমান খালি গায়ে গামছা পরে কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে সন্দেহ এড়ানো যায়। পরে সঠিক সময় বুঝে কৌশলে কাওছারকে আটক করা হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রেফতারকৃত কাওছার শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার পশ্চিম হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দাউদ শেখের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে আরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে এএসআই মো. আতাউর রহমান বলেন, “ওসি মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় আমরা অভিযান পরিচালনা করি। কাওছার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং তাকে ধরতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়। অবশেষে সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”