ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ফরিদপুর জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ নারীসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ও রবিবার (১২ এপ্রিল) জেলার ভাঙ্গা, কোতয়ালী ও নগরকান্দা থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, জেলার গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, যা জেলার সক্রিয় মাদকচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার ভাঙ্গা থানার পুলিয়ার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে শনিবার কোতয়ালী থানার দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুটন (৩১), জুবায়ের শেখ (২০) ও সাথী বেগম (৫৫)-কে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬১ হাজার ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে নগরকান্দা থানার কুঞ্জুনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহসিন শেখ বাবু (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শেখ জাফরের ঘর থেকে আরও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে রবিবার ভাঙ্গা থানার মানিকদহ কালিবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে শিমুল চক্রবর্তী মনা (৪১) ও ওয়াসিম ঘোষ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ (প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার) এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিবির ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফরিদপুরকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দিতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন
Array